হবিগঞ্জ ০২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে গাতাবলা আর-রাফী মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পন্ন Logo চুনারুঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান ও তাঁতীলীগ সভাপতি জামাল মিয়া গ্রেপ্তার Logo হবিগঞ্জের সুঘর গ্রামের বানবাসীদের মাঝে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ Logo চুনারুঘাটের মেয়ে দীপ্তিতা দাশ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ তদারকিতে খাদ্য বিভাগ Logo চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর বাজারের চাল বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ইউএনও Logo চুনারুঘাটে যৌথ অভিযানে ৭ অবৈধ করাতকল সিলগালা Logo ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের আন্দোলন

মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণ, ক্ষোভ মুক্তিযোদ্ধাদের

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধসংলগ্ন জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছবি অপসারণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। অপসারণ করা ছবি পুনঃস্থাপন ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত ওই মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার মুরালাকৃতির ছবি স্থাপন করা ছিল। প্রায় এক মাস আগে মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের নির্দেশে ছবিগুলোকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তৎকালীন ইউএনও বদলি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন তারা। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতারাও জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার ছবি ছিল। কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ছবিগুলো অপসারণ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

এ ঘটনায় মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. অলিদ মিয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এক পোস্টে তিনি জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জাতীয় নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত। ঐতিহাসিক নেতাদের ছবি সরিয়ে ফেলার সংস্কৃতি চালু হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে এ ধরনের অপসংস্কৃতির শিকার হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ছবিগুলো অপসারণের বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি ওই উপজেলায় দায়িত্বে নেই।

এ বিষয়ে মাধবপুরের বর্তমান ইউএনও মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় চার নেতার অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এ ধরনের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তাই দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপসারণ করা ছবি পুনরায় স্থাপনের দাবি জানান তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ

মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণ, ক্ষোভ মুক্তিযোদ্ধাদের

আপডেট সময় ০৭:০১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধসংলগ্ন জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছবি অপসারণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। অপসারণ করা ছবি পুনঃস্থাপন ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত ওই মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার মুরালাকৃতির ছবি স্থাপন করা ছিল। প্রায় এক মাস আগে মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের নির্দেশে ছবিগুলোকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তৎকালীন ইউএনও বদলি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন তারা। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতারাও জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার ছবি ছিল। কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ছবিগুলো অপসারণ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

এ ঘটনায় মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. অলিদ মিয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এক পোস্টে তিনি জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জাতীয় নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত। ঐতিহাসিক নেতাদের ছবি সরিয়ে ফেলার সংস্কৃতি চালু হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে এ ধরনের অপসংস্কৃতির শিকার হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ছবিগুলো অপসারণের বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি ওই উপজেলায় দায়িত্বে নেই।

এ বিষয়ে মাধবপুরের বর্তমান ইউএনও মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় চার নেতার অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এ ধরনের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তাই দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপসারণ করা ছবি পুনরায় স্থাপনের দাবি জানান তারা।