হবিগঞ্জের মাধবপুরে হতদরিদ্র বৃদ্ধা আলতামুন্নেসার তিন শতাংশ বসতভিটার জায়গা ছেড়ে দিতে চাপ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী খোরশেদ মিয়া ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন-হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা। সর্বশেষ তাঁর বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ঘটনাটি উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামে, খায়রুল মিয়ার বাড়ির পাশে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে আলতামুন্নেসা তাঁর বাড়িতে ছোড়া ইট-পাটকেল একটি ব্যাগে করে নিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ভিডিও বার্তায় তাঁর ওপর চলমান হয়রানির বর্ণনা দেন। পরে শুক্রবার রাতে শৌচাগারে যাওয়ার সময় বাড়িতে ছোড়া একটি ইট তাঁর পায়ে লাগে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও বর্তমানে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে বলে জানান ওই বৃদ্ধা।
আলতামুন্নেসার অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে তাঁকে বসতভিটার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে বিপজ্জনক বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখা, শৌচাগারের পাশে ময়লা-গোবর ফেলা এবং তাঁর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও করেন তিনি।
বৃদ্ধার দাবি, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি। বিচার পাওয়ার আশায় স্থানীয় সাংবাদিক, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছেও একাধিকবার গিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালেও আলতামুন্নেসার বাড়িতে হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম ফয়সাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করেন। এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সম্প্রতি আবারও তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আলতামুন্নেসা।
আলতামুন্নেসা নারী শ্রমিক হিসেবে খেত-খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর কোনো পুত্রসন্তান নেই। একমাত্র মেয়েও বিধবা বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী আলতামুন্নেসা বলেন, “এই দেশে কি কোনো বিচার নেই? আমি আর কত জায়গায় গেলে বিচার পাব জানি না। তারা আমার বাড়ি আত্মসাতের জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমি নিরাপদে নিজের বাড়িতে থাকতে চাই। আমি সবার কাছে বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে খোরশেদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সবকিছু সাজানো।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মচারী খাইরুল মিয়া বলেন, “টিনের চালে বিভিন্ন ফল পড়ার মতো শব্দ হতে পারে। আমার সামনেও একটি পড়েছে। ঢিল দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি বিষয়টি দেখব।”
জামাল মিয়া বলেন, “চেয়ারম্যানের পাওয়ার ব্যবহার করে কিছু দুষ্ট লোক এসব কাজ করছে। এর একটি ফয়সালা হওয়া দরকার। এটি আমার আওতার বাইরে।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”
বৃদ্ধা আলতামুন্নেসা তাঁর বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জাহাঙ্গীর আলম জয়, মাধবপুর : 



















