হবিগঞ্জ ০১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে গাতাবলা আর-রাফী মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পন্ন Logo চুনারুঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান ও তাঁতীলীগ সভাপতি জামাল মিয়া গ্রেপ্তার Logo হবিগঞ্জের সুঘর গ্রামের বানবাসীদের মাঝে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ Logo চুনারুঘাটের মেয়ে দীপ্তিতা দাশ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ তদারকিতে খাদ্য বিভাগ Logo চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর বাজারের চাল বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ইউএনও Logo চুনারুঘাটে যৌথ অভিযানে ৭ অবৈধ করাতকল সিলগালা Logo ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের আন্দোলন

হতদরিদ্র বৃদ্ধার বাড়ি ছাড়তে চাপ, ৩ বছর ধরে হয়রানির অভিযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে হতদরিদ্র বৃদ্ধা আলতামুন্নেসার তিন শতাংশ বসতভিটার জায়গা ছেড়ে দিতে চাপ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী খোরশেদ মিয়া ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন-হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা। সর্বশেষ তাঁর বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ঘটনাটি উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামে, খায়রুল মিয়ার বাড়ির পাশে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে আলতামুন্নেসা তাঁর বাড়িতে ছোড়া ইট-পাটকেল একটি ব্যাগে করে নিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ভিডিও বার্তায় তাঁর ওপর চলমান হয়রানির বর্ণনা দেন। পরে শুক্রবার রাতে শৌচাগারে যাওয়ার সময় বাড়িতে ছোড়া একটি ইট তাঁর পায়ে লাগে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও বর্তমানে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে বলে জানান ওই বৃদ্ধা।

আলতামুন্নেসার অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে তাঁকে বসতভিটার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে বিপজ্জনক বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখা, শৌচাগারের পাশে ময়লা-গোবর ফেলা এবং তাঁর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও করেন তিনি।

বৃদ্ধার দাবি, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি। বিচার পাওয়ার আশায় স্থানীয় সাংবাদিক, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছেও একাধিকবার গিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালেও আলতামুন্নেসার বাড়িতে হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম ফয়সাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করেন। এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সম্প্রতি আবারও তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আলতামুন্নেসা।

আলতামুন্নেসা নারী শ্রমিক হিসেবে খেত-খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর কোনো পুত্রসন্তান নেই। একমাত্র মেয়েও বিধবা বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী আলতামুন্নেসা বলেন, “এই দেশে কি কোনো বিচার নেই? আমি আর কত জায়গায় গেলে বিচার পাব জানি না। তারা আমার বাড়ি আত্মসাতের জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমি নিরাপদে নিজের বাড়িতে থাকতে চাই। আমি সবার কাছে বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে খোরশেদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সবকিছু সাজানো।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মচারী খাইরুল মিয়া বলেন, “টিনের চালে বিভিন্ন ফল পড়ার মতো শব্দ হতে পারে। আমার সামনেও একটি পড়েছে। ঢিল দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি বিষয়টি দেখব।”

জামাল মিয়া বলেন, “চেয়ারম্যানের পাওয়ার ব্যবহার করে কিছু দুষ্ট লোক এসব কাজ করছে। এর একটি ফয়সালা হওয়া দরকার। এটি আমার আওতার বাইরে।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”

বৃদ্ধা আলতামুন্নেসা তাঁর বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ

হতদরিদ্র বৃদ্ধার বাড়ি ছাড়তে চাপ, ৩ বছর ধরে হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুরে হতদরিদ্র বৃদ্ধা আলতামুন্নেসার তিন শতাংশ বসতভিটার জায়গা ছেড়ে দিতে চাপ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী খোরশেদ মিয়া ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন-হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা। সর্বশেষ তাঁর বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ঘটনাটি উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামে, খায়রুল মিয়ার বাড়ির পাশে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে আলতামুন্নেসা তাঁর বাড়িতে ছোড়া ইট-পাটকেল একটি ব্যাগে করে নিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ভিডিও বার্তায় তাঁর ওপর চলমান হয়রানির বর্ণনা দেন। পরে শুক্রবার রাতে শৌচাগারে যাওয়ার সময় বাড়িতে ছোড়া একটি ইট তাঁর পায়ে লাগে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও বর্তমানে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে বলে জানান ওই বৃদ্ধা।

আলতামুন্নেসার অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে তাঁকে বসতভিটার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে বিপজ্জনক বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখা, শৌচাগারের পাশে ময়লা-গোবর ফেলা এবং তাঁর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও করেন তিনি।

বৃদ্ধার দাবি, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি। বিচার পাওয়ার আশায় স্থানীয় সাংবাদিক, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছেও একাধিকবার গিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালেও আলতামুন্নেসার বাড়িতে হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম ফয়সাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করেন। এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সম্প্রতি আবারও তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আলতামুন্নেসা।

আলতামুন্নেসা নারী শ্রমিক হিসেবে খেত-খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর কোনো পুত্রসন্তান নেই। একমাত্র মেয়েও বিধবা বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী আলতামুন্নেসা বলেন, “এই দেশে কি কোনো বিচার নেই? আমি আর কত জায়গায় গেলে বিচার পাব জানি না। তারা আমার বাড়ি আত্মসাতের জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমি নিরাপদে নিজের বাড়িতে থাকতে চাই। আমি সবার কাছে বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে খোরশেদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সবকিছু সাজানো।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মচারী খাইরুল মিয়া বলেন, “টিনের চালে বিভিন্ন ফল পড়ার মতো শব্দ হতে পারে। আমার সামনেও একটি পড়েছে। ঢিল দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি বিষয়টি দেখব।”

জামাল মিয়া বলেন, “চেয়ারম্যানের পাওয়ার ব্যবহার করে কিছু দুষ্ট লোক এসব কাজ করছে। এর একটি ফয়সালা হওয়া দরকার। এটি আমার আওতার বাইরে।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”

বৃদ্ধা আলতামুন্নেসা তাঁর বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।