হবিগঞ্জ ০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তেলিয়াপাড়া চা বাগানে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবি Logo মাধবপুরে কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগ, ২৮ দিনেও মামলা হয়নি Logo জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে ডা. কামরুল হাসান সভাপতি, জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত Logo বিএনপির রাজনীতি করে সব হারানো খিজির খান, এখনও বৈষম্যের শিকার Logo চুনারুঘাটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও ওজনে কম দেওয়ায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা Logo চুনারুঘাটে দলিল লেখক রিংকুর বাড়ি থেকে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ২ নারী মুচলেকায় মুক্ত Logo চুনারুঘাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা Logo হবিগঞ্জ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের ৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন Logo চুনারুঘাটে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জেরে পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের হামলায় আহত ৪ জন Logo ঢাকার হামলা মামলার জেরে বৃদ্ধাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, মাধবপুর থানায় জিডি

মাধবপুরে কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগ, ২৮ দিনেও মামলা হয়নি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের গেটঘর শাহপুর রেলগেট এলাকার হাজী ইন্তেজালীর কলোনিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ জুলাই কিশোরী সামিকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে তার মরদেহ দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতের বাবা সুমন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর তিনি মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “থানায় অভিযোগ করেও আমরা কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ।”

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় কিশোরীর পা মাটিতে স্পর্শ করছিল। মরদেহ ঝোলানোর জন্য দড়ি বাঁধার পদ্ধতিতেও অস্বাভাবিকতা ছিল। এছাড়া ঘটনার দুই দিন আগে কিশোরী কয়েকজনের কাছে তাকে হত্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।

পরিবারের আরও দাবি, কিশোরী মানসিকভাবে স্বাভাবিক ছিল এবং তার মধ্যে আত্মহত্যার কোনো প্রবণতা দেখা যায়নি। কিশোরীর পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাদকসেবী রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা স্থানীয় বাসিন্দা নয়; তারা ভৈরব এলাকা থেকে এসে ওই এলাকায় ভাঙ্গারি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জামাল মিয়া ঘটনাটি তদন্ত করেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি বা এখন পর্যন্ত কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ সব তথ্য-প্রমাণ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবি

মাধবপুরে কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগ, ২৮ দিনেও মামলা হয়নি

আপডেট সময় ০২:১৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের গেটঘর শাহপুর রেলগেট এলাকার হাজী ইন্তেজালীর কলোনিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ জুলাই কিশোরী সামিকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে তার মরদেহ দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতের বাবা সুমন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর তিনি মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “থানায় অভিযোগ করেও আমরা কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ।”

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় কিশোরীর পা মাটিতে স্পর্শ করছিল। মরদেহ ঝোলানোর জন্য দড়ি বাঁধার পদ্ধতিতেও অস্বাভাবিকতা ছিল। এছাড়া ঘটনার দুই দিন আগে কিশোরী কয়েকজনের কাছে তাকে হত্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।

পরিবারের আরও দাবি, কিশোরী মানসিকভাবে স্বাভাবিক ছিল এবং তার মধ্যে আত্মহত্যার কোনো প্রবণতা দেখা যায়নি। কিশোরীর পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাদকসেবী রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা স্থানীয় বাসিন্দা নয়; তারা ভৈরব এলাকা থেকে এসে ওই এলাকায় ভাঙ্গারি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জামাল মিয়া ঘটনাটি তদন্ত করেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি বা এখন পর্যন্ত কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ সব তথ্য-প্রমাণ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।