হবিগঞ্জ ০৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাধবপুরে শিশুদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদান করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo মাধবপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo চুনারুঘাটে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠিত Logo চুনারুঘাটে অগ্রগামী মডেল কেজি স্কুল ও পাঠাগারে নজরুল বর্ষ উদযাপন Logo এইচএসসি পরীক্ষায় চুনারুঘাটের কলেজগুলোতে পাসের হার ৪৪.৬৮%, মাদ্রাসায় ৬৮.০৬% Logo চুনারুঘাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের বৃক্ষরোপণ Logo চুনারুঘাটে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বহিষ্কার Logo চুনারুঘাটে কৃষকের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতা হাবিবের বিরুদ্ধে Logo জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

মাধবপুরে কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগ, ২৮ দিনেও মামলা হয়নি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের গেটঘর শাহপুর রেলগেট এলাকার হাজী ইন্তেজালীর কলোনিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ জুলাই কিশোরী সামিকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে তার মরদেহ দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতের বাবা সুমন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর তিনি মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “থানায় অভিযোগ করেও আমরা কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ।”

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় কিশোরীর পা মাটিতে স্পর্শ করছিল। মরদেহ ঝোলানোর জন্য দড়ি বাঁধার পদ্ধতিতেও অস্বাভাবিকতা ছিল। এছাড়া ঘটনার দুই দিন আগে কিশোরী কয়েকজনের কাছে তাকে হত্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।

পরিবারের আরও দাবি, কিশোরী মানসিকভাবে স্বাভাবিক ছিল এবং তার মধ্যে আত্মহত্যার কোনো প্রবণতা দেখা যায়নি। কিশোরীর পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাদকসেবী রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা স্থানীয় বাসিন্দা নয়; তারা ভৈরব এলাকা থেকে এসে ওই এলাকায় ভাঙ্গারি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জামাল মিয়া ঘটনাটি তদন্ত করেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি বা এখন পর্যন্ত কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ সব তথ্য-প্রমাণ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।

মাধবপুরে শিশুদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদান করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

মাধবপুরে কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগ, ২৮ দিনেও মামলা হয়নি

আপডেট সময় ০২:১৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের গেটঘর শাহপুর রেলগেট এলাকার হাজী ইন্তেজালীর কলোনিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ জুলাই কিশোরী সামিকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে তার মরদেহ দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতের বাবা সুমন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর তিনি মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “থানায় অভিযোগ করেও আমরা কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ।”

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় কিশোরীর পা মাটিতে স্পর্শ করছিল। মরদেহ ঝোলানোর জন্য দড়ি বাঁধার পদ্ধতিতেও অস্বাভাবিকতা ছিল। এছাড়া ঘটনার দুই দিন আগে কিশোরী কয়েকজনের কাছে তাকে হত্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।

পরিবারের আরও দাবি, কিশোরী মানসিকভাবে স্বাভাবিক ছিল এবং তার মধ্যে আত্মহত্যার কোনো প্রবণতা দেখা যায়নি। কিশোরীর পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাদকসেবী রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা স্থানীয় বাসিন্দা নয়; তারা ভৈরব এলাকা থেকে এসে ওই এলাকায় ভাঙ্গারি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জামাল মিয়া ঘটনাটি তদন্ত করেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি বা এখন পর্যন্ত কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ সব তথ্য-প্রমাণ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।