হবিগঞ্জ ০৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাধবপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo চুনারুঘাটে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠিত Logo চুনারুঘাটে অগ্রগামী মডেল কেজি স্কুল ও পাঠাগারে নজরুল বর্ষ উদযাপন Logo এইচএসসি পরীক্ষায় চুনারুঘাটের কলেজগুলোতে পাসের হার ৪৪.৬৮%, মাদ্রাসায় ৬৮.০৬% Logo চুনারুঘাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের বৃক্ষরোপণ Logo চুনারুঘাটে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বহিষ্কার Logo চুনারুঘাটে কৃষকের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতা হাবিবের বিরুদ্ধে Logo জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে বনবিভাগের অভিযানে আকাশমনি কাঠের ৬ টুকরা গোলকাঠ জব্দ

সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে: যুগ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ

জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ। তিনি বলেছেন, ‘বই মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে।’

শনিবার (১ আগস্ট) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মুক্তাহার গ্রামে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’ আয়োজিত বইপড়া বিষয়ক কর্মশালা, পুরস্কার বিতরণী ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মোস্তফা মোরশেদ বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ তথ্যপ্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ও স্ক্রিন আসক্তিতে ভুগছে। এ অবস্থায় মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে বই পড়ার আন্দোলন গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বইপড়ার কর্মশালার মাধ্যমে তরুণ ও কিশোর পাঠকেরা বইয়ের গভীরে প্রবেশ এবং মননশীলতার চর্চায় উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রত্নদীপ দাস রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ডেপুটি কমান্ডার ও উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রসরাজ বৈদ্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পদক্ষেপ গণপাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম রুবেল।

পাঠক ফোরামের সভাপতি রামু চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ জেলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার এস এম মিজানুর রহমান, পদক্ষেপ গণপাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জে কে অ্যান্ড এইচ কে হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নিপা খান, পদক্ষেপ গণপাঠাগারের নির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবির চৌধুরী, আয়ারল্যান্ডপ্রবাসী ও নির্বাহী সদস্য সাজেদুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলার ১ নম্বর কলকলিয়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রূপক রাজ বৈদ্য, ইউপি সদস্য বিকাশ দত্ত রায়, পল্লিচিকিৎসক বিশ্বজিৎ দাশ নারায়ণ, গ্রন্থাগার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাগর দাশ জনি ও জনি দাশ, পাঠক ফোরামের সহসভাপতি সজীব দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক তীর্থ দাশসহ পাঠক-শিক্ষার্থীরা। মানপত্র পাঠ করেন নীলিমা দাশ ন্যান্সি।

সংবর্ধিত অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা রসরাজ বৈদ্য বলেন, সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের নামে প্রতিষ্ঠিত এ গ্রন্থাগার শুধু বইয়ের ভাণ্ডার নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জ্ঞানচর্চা ও দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস, মানবিক মূল্যবোধ ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার এ মহৎ উদ্যোগ দীর্ঘজীবী হোক।

বিশেষ অতিথি মো. মাজহারুল ইসলাম রুবেল বলেন, আদর্শ ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন লেখকের বই পড়া এবং পাঠাগারের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত থাকা জরুরি। বই মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়, আর বৃক্ষ বাইরের পরিবেশকে সজীব ও বাসযোগ্য রাখে। মানুষের মননশীলতা গঠনে বই যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রকৃতির সুরক্ষা ও বৃক্ষরোপণও সমান প্রয়োজনীয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত ‘আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থপাঠ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।

মাধবপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে: যুগ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ

আপডেট সময় ০৩:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ। তিনি বলেছেন, ‘বই মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে।’

শনিবার (১ আগস্ট) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মুক্তাহার গ্রামে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’ আয়োজিত বইপড়া বিষয়ক কর্মশালা, পুরস্কার বিতরণী ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মোস্তফা মোরশেদ বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ তথ্যপ্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ও স্ক্রিন আসক্তিতে ভুগছে। এ অবস্থায় মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে বই পড়ার আন্দোলন গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বইপড়ার কর্মশালার মাধ্যমে তরুণ ও কিশোর পাঠকেরা বইয়ের গভীরে প্রবেশ এবং মননশীলতার চর্চায় উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রত্নদীপ দাস রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ডেপুটি কমান্ডার ও উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রসরাজ বৈদ্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পদক্ষেপ গণপাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম রুবেল।

পাঠক ফোরামের সভাপতি রামু চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ জেলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার এস এম মিজানুর রহমান, পদক্ষেপ গণপাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জে কে অ্যান্ড এইচ কে হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নিপা খান, পদক্ষেপ গণপাঠাগারের নির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবির চৌধুরী, আয়ারল্যান্ডপ্রবাসী ও নির্বাহী সদস্য সাজেদুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলার ১ নম্বর কলকলিয়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রূপক রাজ বৈদ্য, ইউপি সদস্য বিকাশ দত্ত রায়, পল্লিচিকিৎসক বিশ্বজিৎ দাশ নারায়ণ, গ্রন্থাগার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাগর দাশ জনি ও জনি দাশ, পাঠক ফোরামের সহসভাপতি সজীব দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক তীর্থ দাশসহ পাঠক-শিক্ষার্থীরা। মানপত্র পাঠ করেন নীলিমা দাশ ন্যান্সি।

সংবর্ধিত অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা রসরাজ বৈদ্য বলেন, সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের নামে প্রতিষ্ঠিত এ গ্রন্থাগার শুধু বইয়ের ভাণ্ডার নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জ্ঞানচর্চা ও দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস, মানবিক মূল্যবোধ ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার এ মহৎ উদ্যোগ দীর্ঘজীবী হোক।

বিশেষ অতিথি মো. মাজহারুল ইসলাম রুবেল বলেন, আদর্শ ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন লেখকের বই পড়া এবং পাঠাগারের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত থাকা জরুরি। বই মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়, আর বৃক্ষ বাইরের পরিবেশকে সজীব ও বাসযোগ্য রাখে। মানুষের মননশীলতা গঠনে বই যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রকৃতির সুরক্ষা ও বৃক্ষরোপণও সমান প্রয়োজনীয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত ‘আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থপাঠ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করা হয়।