দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ২৫টি চা বাগানে আন্দোলন করছেন চা শ্রমিকরা। দাবি আদায়ে টানা ১২ দিন ধরে কর্মসূচি পালন করছেন তারা। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি ও মানববন্ধনের মাধ্যমে দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা।
শনিবারও বিভিন্ন বাগানে কর্মবিরতি পালন করেছেন তাঁরা। চা শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বর্তমান বাজারে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে বাগানে কঠোর পরিশ্রম করলেও তাঁদের জীবনযাত্রার মানের তেমন উন্নতি হয়নি। তাই বর্তমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
চুনারুঘাটের চান্দপুর চা বাগানের শ্রমিক নেত্রী খাইরুন আক্তার বলেন, চা শ্রমিকরা যুগের পর যুগ বাগানে কঠোর পরিশ্রম করে আসছেন। কিন্তু তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, নিরাপদ পানীয় জল ও চিকিৎসার মতো মৌলিক সুবিধা অনেক বাগানেই পর্যাপ্ত নয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে ভিন্ন অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাগান মালিকপক্ষ। তাদের দাবি, চা শিল্প বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক বাগান লোকসানে রয়েছে। এক কেজি চা উৎপাদনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি খরচ হলেও সে অনুযায়ী চায়ের দাম ও বাজার বাড়েনি। এর ওপর গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার, কীটনাশক, পরিবহন ও যন্ত্রপাতিসহ উৎপাদনের প্রায় সব খাতেই ব্যয় বেড়েছে।
চন্ডিছড়া চা বাগানের ম্যানেজার সেলিমুর রহমান বলেন, চা উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ ও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যার কারণেও বাগানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, শ্রমিকরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাগানে কঠোর পরিশ্রম করেন। অথচ তাঁদের শ্রমের তুলনায় মজুরি খুবই কম। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করা জরুরি।
চা শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে চুনারুঘাটের চা শিল্পে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকটের সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
নিজস্ব সংবাদ : 


















