হবিগঞ্জ ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে গাতাবলা আর-রাফী মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পন্ন Logo চুনারুঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান ও তাঁতীলীগ সভাপতি জামাল মিয়া গ্রেপ্তার Logo হবিগঞ্জের সুঘর গ্রামের বানবাসীদের মাঝে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ Logo চুনারুঘাটের মেয়ে দীপ্তিতা দাশ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ তদারকিতে খাদ্য বিভাগ Logo চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর বাজারের চাল বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ইউএনও Logo চুনারুঘাটে যৌথ অভিযানে ৭ অবৈধ করাতকল সিলগালা Logo ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের আন্দোলন
এক মাসেই পুলিশের সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন

চুনারুঘাট থানায় জনবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ ওসি সাইফুল ইসলামের

  • সাজিদুল ইসলাম :
  • আপডেট সময় ০১:১৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় এক মাসের ব্যবধানে সেবার মান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। থানায় দালালমুক্ত পরিবেশ, দ্রুত সেবা প্রদান, নিয়মিত অভিযান এবং বিট পুলিশিং জোরদারের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই মাসের (৩ আগস্ট) চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাইফুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি থানা দালালমুক্ত রাখার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়াই পুলিশের সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

থানায় সেবাপ্রার্থীদের সহায়তায় চালু করা হয়েছে পৃথক হেল্প ডেস্ক। সেখানে সাধারণ মানুষ জিডি, মামলা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। থানায় আগত সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং সেবা প্রদানের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ দমনেও জোর দেওয়া হয়েছে। থানা সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন মামলায় এজাহারভুক্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং মাদক ব্যবসায়ীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ১৫টি মামলায় এসব গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে বলে দাবি পুলিশের। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক চিত্র স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।”

পুলিশের তথ্যমতে, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের কিছু বিরোধও মীমাংসা করা হয়েছে। এতে ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে থানায় মামলা বা সংঘাতের প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও বাড়ছে।

এ ছাড়া সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও পুলিশের অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি অবহিত হওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, থানায় সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার না হয়ে দ্রুত সহযোগিতা পাওয়া গেলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। তবে এ পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি ও সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি থানার জনবান্ধব ভাবমূর্তি শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তৈরি হয় না; সাধারণ মানুষ কতটা সহজে, নিরাপদে ও হয়রানিমুক্তভাবে পুলিশের সেবা পাচ্ছেন—তার ওপরই মূলত নির্ভর করে জনআস্থা। সেই জায়গায় চুনারুঘাট থানার সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ

এক মাসেই পুলিশের সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন

চুনারুঘাট থানায় জনবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ ওসি সাইফুল ইসলামের

আপডেট সময় ০১:১৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় এক মাসের ব্যবধানে সেবার মান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। থানায় দালালমুক্ত পরিবেশ, দ্রুত সেবা প্রদান, নিয়মিত অভিযান এবং বিট পুলিশিং জোরদারের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই মাসের (৩ আগস্ট) চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাইফুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি থানা দালালমুক্ত রাখার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়াই পুলিশের সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

থানায় সেবাপ্রার্থীদের সহায়তায় চালু করা হয়েছে পৃথক হেল্প ডেস্ক। সেখানে সাধারণ মানুষ জিডি, মামলা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। থানায় আগত সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং সেবা প্রদানের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ দমনেও জোর দেওয়া হয়েছে। থানা সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন মামলায় এজাহারভুক্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং মাদক ব্যবসায়ীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ১৫টি মামলায় এসব গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে বলে দাবি পুলিশের। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক চিত্র স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।”

পুলিশের তথ্যমতে, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের কিছু বিরোধও মীমাংসা করা হয়েছে। এতে ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে থানায় মামলা বা সংঘাতের প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও বাড়ছে।

এ ছাড়া সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও পুলিশের অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি অবহিত হওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, থানায় সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার না হয়ে দ্রুত সহযোগিতা পাওয়া গেলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। তবে এ পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি ও সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি থানার জনবান্ধব ভাবমূর্তি শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তৈরি হয় না; সাধারণ মানুষ কতটা সহজে, নিরাপদে ও হয়রানিমুক্তভাবে পুলিশের সেবা পাচ্ছেন—তার ওপরই মূলত নির্ভর করে জনআস্থা। সেই জায়গায় চুনারুঘাট থানার সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।