হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চা বাগান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ফাহিম চৌধুরী (২০) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর দুই বন্ধু মাহি (১৯) ও শুভ (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর এলাকায় আমুরোড-আমু চা বাগান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ফাহিম চৌধুরী উপজেলার বিলপাড় গ্রামের রাসেল মিয়ার ছেলে। গতকাল রোববার রাতে তিনি দুই বন্ধু দুধপাতিল গ্রামের মাহি ও বিলপাড় গ্রামের শুভকে নিয়ে আমু চা বাগানে ঘুরতে যান। ঘোরাঘুরি শেষে রাত ১২টার দিকে তাঁরা একই মোটরসাইকেলে করে আসামপাড়ার দিকে ফিরছিলেন।
পথে ঘনশ্যামপুর এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মাহি ও শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর চুনারুঘাটের সীমান্তবর্তী ও চা বাগানসংলগ্ন সড়কগুলোতে রাতের বেলায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত এসব সড়কে একদল তরুণকে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে হেলমেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মোটরসাইকেল চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
ঘনশ্যামপুর এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, গভীর রাতে তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নতুন কিছু নয়। এমন আচরণের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সড়কে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহল রাতের বেলায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশের টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করার পাশাপাশি বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা যেতে পারে।
আব্দুল জাহির মিয়া, চুনারুঘাট : 

















