সোনাই নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক হামিদুর রহমান সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি প্রদান করেছেন, যেখানে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত সপ্তাহেও সোনাই নদীতে প্রায় ১০-১২টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছিল। তবে বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টিতে। এ অবস্থা স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বরং অভিযানে কেবল শ্রমিক ও ড্রাইভারদের আটক করা হচ্ছে, যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। এতে করে অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এছাড়া, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বার্থে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নীরব সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি কয়েকজন সাংবাদিক সোনাই ব্রিজ এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে বালু উত্তোলনকারীরা দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ে। এতে বোঝা যায়, এ চক্রটি সুসংগঠিত এবং প্রভাবশালী। স্থানীয়দের ধারণা, তারা প্রশাসনের একটি অংশকে প্রভাবিত করতেও সক্ষম হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রাত যত গভীর হয়, অবৈধ বালু পরিবহন ততই বৃদ্ধি পায়। এমনকি অবৈধ রশিদের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে, যা চাঁদাবাজির শামিল।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ভবিষ্যতে মানববন্ধন বা গণপ্রতিবাদের মতো কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে, সোনাই নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
মাধবপুর প্রতিনিধি: 



















