হবিগঞ্জ ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই-এএসআই ইলিয়াছ Logo সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ রেহেনার দেশে ফেরার আকুতি Logo চুনারুঘাটে সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নয়নে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস Logo চুনারুঘাটে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ঘরবাড়ি ও জমি দখলের অভিযোগ Logo চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম বর্ষ উদযাপন Logo পাখি শিকারি সেই বদু মিয়ার বাড়িতে বন বিভাগ: ৩ বছর ধরে স্বামী স্ত্রীর অভিমান অবসান ! Logo মাধবপুরে শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন Logo চার বছর ধরে বেতন-ভাতা বঞ্চিত চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল-টমটম সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১ Logo চুনারুঘাটে ‘ইয়াবা নাটক’ সাজিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ২ পুলিশ ক্লোজ

নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়নি বাল্লা স্থলবন্দরের কাজ, ভারতের অংশে এখনও কাজ গুরু হয়নি

  • নুরুল আমিনঃ
  • আপডেট সময় ০৩:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩
  • ২৬৬ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের জুন মাসে দেশের ২৩তম বাল্লা স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা কবে নাগাদ সমাপ্ত হবে সে তথ্য জানাতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থলবন্দরের চার দেয়ালের অভ্যন্তরে এখনো বসবাস করছেন ৮/১০টি পরিবার। বাসিন্দারা বলেন, তারা এখনো ক্ষতিপুরণ পাননি তাই তারা বসতভিটা ছাড়তে চান না।

এ অবস্থায় ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান বাসিন্দারের ঘরবাড়ি রেখেই ধীরগতিতে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নির্মাণ শ্রমিকরা বলছেন, সর্বসাকুল্যে ৬০ শতাংশ কাজ হয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ কাজ কখন শেষ হতে পারে তা জানাতে পারেননি ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান সনিক্স এর ম্যানেজার বিএম মোস্তফা।

তিনি সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিতে আদিষ্ট নন বলে জানান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনে হবিগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত-বাংলাদেশ সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কেদারাকোট এলাকায় ১৩ একর জমির ওপর ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যায়ে বাল্লা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরজমিন পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। প্রাথমিকভাবে ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় বাল্লা স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণে।

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর ২০২১ সালের ৭ই অক্টোবর বন্দর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আশা করা হয়েছিল উভয় দেশের নির্মাণ কাজ সমানভাবে এগিয়ে গেলে ২০২৪ সালের মধ্যেই বন্দর চালু হবে।

কিন্তু বাল্লা স্থলবন্দরের বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা সরকার প্রহড়মুড়া এলাকায় এখনো বন্দর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি। সূত্র জানায়, ত্রিপুরা সরকার ভূমি অধিগ্রহণ কাজটিই সমাপ্ত করতে পারেনি এখনো পর্যন্ত।

বাল্লা স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মিত হলেও ভারতে স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মিত না হওয়ায় বাল্লা স্থলবন্দরের সুফল কবে নাগাদ ভোগ করা যাবে তা নিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে সন্দেহ দানা বেঁধেছে।

১৯৫১ সালে বাল্লা শুল্ক স্টেশন চালু হলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হয়। ২০১২ সালের ১১ই জুন দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল কেদারাকোট এলাকাটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ওই এলাকায় স্থলবন্দর করার ব্যাপারে উভয় পক্ষই একমত হন।

২০১৭ সালে ৮ই জুলাই স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী হবিগঞ্জে এক মতবিনিময় সভায় জানিয়েছিলেন, ওই বছরে একনেক সভায় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩১শে মার্চ তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান হবিগঞ্জে এক মতবিনিময় সভায় বাল্লায় নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেন।

এদিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের জুলাইয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে ২১ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু প্রস্তাবিত জমিতে বসতবাড়ি থাকায় আপত্তি জানান স্থানীয়রা।

এ অবস্থায় থমকে যায় পুরো প্রক্রিয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বসতবাড়ি বাদ দিয়ে খালি জায়গায় স্থলবন্দরটি নির্মাণে তাদের কোনো বাধা নেই। কিন্তু বাড়িঘর উচ্ছেদ করতে হলে তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন করতে হবে সরকারকে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম চুনারুঘাট থেকে কেদারাকোট পর্যন্ত দুই লেনের রাস্তা নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানালেও অদ্যাবদি সেই রাস্তা নির্মাণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে অতি সম্প্রতি চুনারুঘাট-বাল্লা সড়ক মেরামত করছে সওজ।

কেদারাকোর্ট এলাকায় প্রায় ১৩ একর জমির উপর বাল্লা স্থলবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে বন্দরের জমি অধিগ্রহণ শেষে অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। ২০২২ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপি বলেছিলেন, ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে বাল্লা স্থলবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ।

এর পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, বাল্লা স্থলবন্দরের কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভালো তথ্য দিতে পারবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।

আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই-এএসআই ইলিয়াছ

নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়নি বাল্লা স্থলবন্দরের কাজ, ভারতের অংশে এখনও কাজ গুরু হয়নি

আপডেট সময় ০৩:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩

চলতি বছরের জুন মাসে দেশের ২৩তম বাল্লা স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা কবে নাগাদ সমাপ্ত হবে সে তথ্য জানাতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থলবন্দরের চার দেয়ালের অভ্যন্তরে এখনো বসবাস করছেন ৮/১০টি পরিবার। বাসিন্দারা বলেন, তারা এখনো ক্ষতিপুরণ পাননি তাই তারা বসতভিটা ছাড়তে চান না।

এ অবস্থায় ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান বাসিন্দারের ঘরবাড়ি রেখেই ধীরগতিতে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নির্মাণ শ্রমিকরা বলছেন, সর্বসাকুল্যে ৬০ শতাংশ কাজ হয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ কাজ কখন শেষ হতে পারে তা জানাতে পারেননি ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান সনিক্স এর ম্যানেজার বিএম মোস্তফা।

তিনি সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিতে আদিষ্ট নন বলে জানান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনে হবিগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত-বাংলাদেশ সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কেদারাকোট এলাকায় ১৩ একর জমির ওপর ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যায়ে বাল্লা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরজমিন পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। প্রাথমিকভাবে ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় বাল্লা স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণে।

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর ২০২১ সালের ৭ই অক্টোবর বন্দর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আশা করা হয়েছিল উভয় দেশের নির্মাণ কাজ সমানভাবে এগিয়ে গেলে ২০২৪ সালের মধ্যেই বন্দর চালু হবে।

কিন্তু বাল্লা স্থলবন্দরের বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা সরকার প্রহড়মুড়া এলাকায় এখনো বন্দর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি। সূত্র জানায়, ত্রিপুরা সরকার ভূমি অধিগ্রহণ কাজটিই সমাপ্ত করতে পারেনি এখনো পর্যন্ত।

বাল্লা স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মিত হলেও ভারতে স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মিত না হওয়ায় বাল্লা স্থলবন্দরের সুফল কবে নাগাদ ভোগ করা যাবে তা নিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে সন্দেহ দানা বেঁধেছে।

১৯৫১ সালে বাল্লা শুল্ক স্টেশন চালু হলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হয়। ২০১২ সালের ১১ই জুন দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল কেদারাকোট এলাকাটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ওই এলাকায় স্থলবন্দর করার ব্যাপারে উভয় পক্ষই একমত হন।

২০১৭ সালে ৮ই জুলাই স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী হবিগঞ্জে এক মতবিনিময় সভায় জানিয়েছিলেন, ওই বছরে একনেক সভায় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩১শে মার্চ তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান হবিগঞ্জে এক মতবিনিময় সভায় বাল্লায় নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেন।

এদিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের জুলাইয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে ২১ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু প্রস্তাবিত জমিতে বসতবাড়ি থাকায় আপত্তি জানান স্থানীয়রা।

এ অবস্থায় থমকে যায় পুরো প্রক্রিয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বসতবাড়ি বাদ দিয়ে খালি জায়গায় স্থলবন্দরটি নির্মাণে তাদের কোনো বাধা নেই। কিন্তু বাড়িঘর উচ্ছেদ করতে হলে তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন করতে হবে সরকারকে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম চুনারুঘাট থেকে কেদারাকোট পর্যন্ত দুই লেনের রাস্তা নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানালেও অদ্যাবদি সেই রাস্তা নির্মাণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে অতি সম্প্রতি চুনারুঘাট-বাল্লা সড়ক মেরামত করছে সওজ।

কেদারাকোর্ট এলাকায় প্রায় ১৩ একর জমির উপর বাল্লা স্থলবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে বন্দরের জমি অধিগ্রহণ শেষে অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। ২০২২ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপি বলেছিলেন, ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে বাল্লা স্থলবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ।

এর পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, বাল্লা স্থলবন্দরের কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভালো তথ্য দিতে পারবেন।