বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ২শ’ মিটার দূরত্বে বিভিন্ন রকমের প্রায় ২০টি গাড়ি আটকের পর দূর্ধর্ষ ডাকাতি করে সংঘবদ্ধ ডাকাতরা। ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির নিকটে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির অদুরে ট্রানিং পয়েন্ট প্রায় ৩০/৪০জন ডাকাত দলের সদস্যরা রাস্তায় গাছ ফেলে একে একে প্রায় ২০টি আটক করে।
এসময় ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গাড়ির যাত্রীদের জিম্মি করে সাথে থাকা মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ দামী জিনিসপত্র লুটে নিয়ে যায়। এসময় ডাকাতরা বিএমডব্লিউ সহ দামী গাড়ি ভাংচুর করে।
এদিকে ডাকাত দলের কবলে পরেন ইমপেরিওল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তরুণ সমাজসেবক মশিউর রহমান খান।
ডাকাতরা ব্যবসায়ীর সাথে থাকা বিএমডব্লিউ গাড়ি ভাংচুর ও আইফোন, স্যামসাং, নগদ অর্থ লুটে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ফাঁড়ির দূরত্ব মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের।
কিন্তু ফাঁড়ির পুলিশ সেখানে পৌছান ডাকাতির শেষ পর্যায়ে। ঘটনার দশ মিনিটের মধ্য উপস্থিত হন হাইওয়ে পুলিশের টহল বাহিনী।
ভিক্টিমদের একজন স্বনামধন্য ইমপেরিওল গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও তরুণ সমাজসেবক মশিউর রহমান খানের সাথে কথা বলে জানাযায়, তিনি ঈদে এলাকায় আসেন এবং ব্যক্তিগত কাজে শ্রীমঙ্গল থানায় যান। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথে অতর্কিত হামলার শিকার হন এবং উনার গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে ডাকাতদল।
এসময় তার গাড়িতে থাকা ৩ জনের দামী মোবাইলফোন সহ নগদ সত্তর হাজার টাকাসহ প্রায় ৩ লাখ সমমূল্যর জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের উদ্দেশ্য এলোপাতাড়ি কুপায়। ভাগ্যক্রমের আঘাতগুলা গাড়ির গ্লাসের মধ্যে পড়ে।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি আসার সময় শ্রীমঙ্গল থানার পেট্রোল টিমে থাকা ডিউটিরত অফিসার এস আই মুহিবুর তাহাকে কল করেন কামাইছড়া ডাকাতি হচ্ছে বলে সতর্ক করার জন্য।
কিন্তু এরই মধ্য আমরা ডাকাতির কবলে পড়ে যাই। এবং এসআই মহিবুর রহমান রেস্কিও করার জন্য অনোরোধ করেন। এস আই মহিবুর দ্রুত সাতগাঁও হাইওয়ে থানার সাথে যোগাযোগ করেন একটি ফোর্স পাঠান।
ঘটনাস্থলে যা ১০ মিনিটের মধ্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এরই মধ্য আমরা ডাকাতদের দ্বারা আক্রান্ত হই। ডাকাতরা আমাদের ফোন ছিনিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত ফোন কলে কানেক্ট ছিলে এস আই মুহিবুর।
ঘটনার শেষ পর্যায়ে কামাইছড়া ফাঁড়ির পুলিশ আসে। এরপর আতংকিত হয়ে উনি মিরপুর বাজার সিটকো সিএনজি পাম্পে ফজরের আগ পর্যন্ত অবস্থান করেন।
পুলিশ ফাঁড়ি এবং বাহুবল মডেল থানার কোনো রেসপন্স না পেয়ে উনি পরের দিন হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানের সাথে সাক্ষাত করেন।
হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার আন্তরিকতার সাথে বিস্তারিত শুনার পর ব্যতিত হন এবং দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য জায়গার মতো কামাইছড়া রোডকেও উনি ডাকাতদের কবলমুক্ত করতে উনি উনার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন, এবং উক্ত ঘটনায় থাকা অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনবেন।
মশিউর রহমান খান বলেন, এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আশা করি পুলিশ সুপার তার কথা এবং কাজের সত্যতা নিশ্চিত করবেন।