হবিগঞ্জ ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ডিসিপি হাইস্কুল মসজিদ নির্মাণে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান Logo চুনারুঘাটে ট্রান্সফরমার চুরির মালামালসহ চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার Logo চুনারুঘাটের কাচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সততা স্টোর’-এর শুভ উদ্বোধন Logo চুনারুঘাটে বিজিবির বিনামূল্যে চক্ষু শিবির, ২০০ জনকে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ বিতরণ Logo চুনারুঘাটে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের কৃষকদের নিয়ে কর্মশালা Logo ৩০ শিশুকে বাঁচাতে সাপের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ দিল কুকুর Logo যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প Logo চুনারুঘাটে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক চোর Logo শাহজিবাজার গ্রিডে উন্নয়ন কাজ: শুক্রবার ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় Logo দুই কি: মি: বাইপাস সড়কের অভাবে চুনারুঘাট পৌরশহরে তীব্র যানজট, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

তদারকি না থাকায় হরিলুট চলছে দেশের পোলট্রি খাতে, ২ মাসে ৯৩৬ কোটি টাকা লুট!

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় ০৫:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩
  • ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

পোলট্রি খাতে ৫২ দিনে ৯৩৬ কোটি টাকা লুট হয়েছে। সরকারি তদারকি না থাকায় হরিলুট চলছে দেশের পোলট্রি খাতে- এমন অভিযোগ করেছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির দাবি, এই খাতের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো গত ৫২ দিনে মুরগি ও বাচ্চার দাম বাড়িয়ে ৯৩৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেছে।সংগঠনটির সভাপতি সুমন হাওলাদারের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে প্রতিদিন ব্রয়লার মুরগির চাহিদা ৩ হাজার ৫০০ টন।

প্রান্তিক খামারিদের ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ এখন কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। আর করপোরেট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। তবে পাইকারি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা পর্যন্ত এসব মুরগি বিক্রি হয়েছে। তাতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কেজিপ্রতি অন্তত ৬০ টাকা বেশি মুনাফা করেছে।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের (তাদের চুক্তিভিত্তিক ফার্মসহ) মাধ্যমে থেকে প্রতিদিন দুই হাজার টন মুরগি বাজারে আসে। সেই হিসাবে দিনে তাদের অতিরিক্ত মুনাফা হয় ১২ কোটি টাকা। এভাবে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৫২ দিনে ৬২৪ কোটি টাকা মুরগি বিক্রির মাধ্যমে লাভ করেছে কোম্পানিগুলো।

আর এক দিনের মুরগির বাচ্চা বিক্রি করে তাদের মুনাফা ৩১২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মুরগি ও বাচ্চার দাম বাড়িয়ে ৯৩৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির দাবি, দেশে প্রতিদিন মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয় ২০ লাখ। এসব বাচ্চা কোম্পানিগুলো উৎপাদন করে। একেকটি মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হয় ২৮ থেকে ৩০ টাকা, যা চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ছিল ১০ থেকে ১৫ টাকা।

প্রতিটি এখন ৬২ থেকে ৬৮ টাকায় দেওয়ার কথা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। প্রতিটি বাচ্চায় ৩০ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছে কোম্পানিগুলো।

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক দামের কারণ প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতি পোষাতে না পেরে খামার বন্ধ করে উৎপাদন থেকে ছিটকে পড়েছেন। এ সুযোগে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পোলট্রির ফিড বা খাবার ও মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রান্তিক খামারি উৎপাদনে গেলে তখন বাজারে দাম কমিয়ে দিয়ে ক্ষতিতে ফেলছেন। তারা আরও বলেছে, পোলট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চা শতভাগ উৎপাদন করে করপোরেট প্রতিষ্ঠান।

তারাই আবার আংশিক ডিম ও মুরগি উৎপাদন করে। চুক্তিভিত্তিক খামারও রয়েছে তাদের। এতে করে বাজার তাদের দখলে চলে যাচ্ছে। এটা বন্ধ করা না গেলে এই খাতের অস্থিরতা কমানো সম্ভব নয়।

পোলট্রি খাতের চার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পরই বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ্য থেকেই এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিসিপি হাইস্কুল মসজিদ নির্মাণে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান

তদারকি না থাকায় হরিলুট চলছে দেশের পোলট্রি খাতে, ২ মাসে ৯৩৬ কোটি টাকা লুট!

আপডেট সময় ০৫:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

পোলট্রি খাতে ৫২ দিনে ৯৩৬ কোটি টাকা লুট হয়েছে। সরকারি তদারকি না থাকায় হরিলুট চলছে দেশের পোলট্রি খাতে- এমন অভিযোগ করেছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির দাবি, এই খাতের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো গত ৫২ দিনে মুরগি ও বাচ্চার দাম বাড়িয়ে ৯৩৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেছে।সংগঠনটির সভাপতি সুমন হাওলাদারের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে প্রতিদিন ব্রয়লার মুরগির চাহিদা ৩ হাজার ৫০০ টন।

প্রান্তিক খামারিদের ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ এখন কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। আর করপোরেট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। তবে পাইকারি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা পর্যন্ত এসব মুরগি বিক্রি হয়েছে। তাতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কেজিপ্রতি অন্তত ৬০ টাকা বেশি মুনাফা করেছে।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের (তাদের চুক্তিভিত্তিক ফার্মসহ) মাধ্যমে থেকে প্রতিদিন দুই হাজার টন মুরগি বাজারে আসে। সেই হিসাবে দিনে তাদের অতিরিক্ত মুনাফা হয় ১২ কোটি টাকা। এভাবে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৫২ দিনে ৬২৪ কোটি টাকা মুরগি বিক্রির মাধ্যমে লাভ করেছে কোম্পানিগুলো।

আর এক দিনের মুরগির বাচ্চা বিক্রি করে তাদের মুনাফা ৩১২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মুরগি ও বাচ্চার দাম বাড়িয়ে ৯৩৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির দাবি, দেশে প্রতিদিন মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয় ২০ লাখ। এসব বাচ্চা কোম্পানিগুলো উৎপাদন করে। একেকটি মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হয় ২৮ থেকে ৩০ টাকা, যা চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ছিল ১০ থেকে ১৫ টাকা।

প্রতিটি এখন ৬২ থেকে ৬৮ টাকায় দেওয়ার কথা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। প্রতিটি বাচ্চায় ৩০ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছে কোম্পানিগুলো।

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক দামের কারণ প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতি পোষাতে না পেরে খামার বন্ধ করে উৎপাদন থেকে ছিটকে পড়েছেন। এ সুযোগে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পোলট্রির ফিড বা খাবার ও মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রান্তিক খামারি উৎপাদনে গেলে তখন বাজারে দাম কমিয়ে দিয়ে ক্ষতিতে ফেলছেন। তারা আরও বলেছে, পোলট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চা শতভাগ উৎপাদন করে করপোরেট প্রতিষ্ঠান।

তারাই আবার আংশিক ডিম ও মুরগি উৎপাদন করে। চুক্তিভিত্তিক খামারও রয়েছে তাদের। এতে করে বাজার তাদের দখলে চলে যাচ্ছে। এটা বন্ধ করা না গেলে এই খাতের অস্থিরতা কমানো সম্ভব নয়।

পোলট্রি খাতের চার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পরই বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ্য থেকেই এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এলো।