হবিগঞ্জ ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে দলিল লেখক রিংকুর বাড়ি থেকে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ২ নারী মুচলেকায় মুক্ত Logo চুনারুঘাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা Logo হবিগঞ্জ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের ৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন Logo চুনারুঘাটে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জেরে পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের হামলায় আহত ৪ জন Logo ঢাকার হামলা মামলার জেরে বৃদ্ধাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, মাধবপুর থানায় জিডি Logo দেওরগাছ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: তরুণ ভোটারদের আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থী মারুফ Logo চুনারুঘাটের উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এমপি ফয়সল Logo দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা Logo মিষ্টি ওজনে কম দেওয়ায় চুনারুঘাটে হোটেলকে জরিমানা Logo চুনারুঘাটে কোয়াবের ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন

বাল্লা সীমান্তে ভারতীয় গরু প্রবেশে বিপাকে দেশীয় খামারিরা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় গরু অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশীয়ভাবে লালন-পালন করা গরুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে খামারিদের মাঝে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের গইবিল সীমান্ত, দুধপাতিল সীমান্ত, চিমটলি সীমান্ত ও খাসপাড়া এলাকা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গরু অবৈধভাবে প্রবেশ করাতে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের মোটা অংকের টাকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সীমান্ত পথে গরু প্রবেশ বন্ধ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় খামারিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে গরু পালন করলেও বাজারে ভারতীয় গরুর আধিপত্য তৈরি হওয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় খামার শিল্প।

খামারিদের দাবি, সরকার দেশীয় খামার শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ অব্যাহত থাকায় সেই উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে। তারা জানান, ভারতীয় গরুর কারণে স্থানীয় বাজারে দেশীয় গরুর দাম কমে গেছে, ফলে অনেক খামারি লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।

এদিকে সীমান্ত দিয়ে আসা গরুর যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা না হওয়ায় বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে গরু প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশীয় পশুর মধ্যেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে, যা ভবিষ্যতে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় খামারিরা সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি, অবৈধভাবে গরু প্রবেশ বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা ও নিরাপদ পশুর বাজার নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ ও কার্যকর উদ্যোগ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে দলিল লেখক রিংকুর বাড়ি থেকে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ২ নারী মুচলেকায় মুক্ত

বাল্লা সীমান্তে ভারতীয় গরু প্রবেশে বিপাকে দেশীয় খামারিরা

আপডেট সময় ০৪:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় গরু অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশীয়ভাবে লালন-পালন করা গরুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে খামারিদের মাঝে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের গইবিল সীমান্ত, দুধপাতিল সীমান্ত, চিমটলি সীমান্ত ও খাসপাড়া এলাকা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গরু অবৈধভাবে প্রবেশ করাতে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের মোটা অংকের টাকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সীমান্ত পথে গরু প্রবেশ বন্ধ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় খামারিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে গরু পালন করলেও বাজারে ভারতীয় গরুর আধিপত্য তৈরি হওয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় খামার শিল্প।

খামারিদের দাবি, সরকার দেশীয় খামার শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ অব্যাহত থাকায় সেই উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে। তারা জানান, ভারতীয় গরুর কারণে স্থানীয় বাজারে দেশীয় গরুর দাম কমে গেছে, ফলে অনেক খামারি লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।

এদিকে সীমান্ত দিয়ে আসা গরুর যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা না হওয়ায় বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে গরু প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশীয় পশুর মধ্যেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে, যা ভবিষ্যতে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় খামারিরা সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি, অবৈধভাবে গরু প্রবেশ বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা ও নিরাপদ পশুর বাজার নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ ও কার্যকর উদ্যোগ।