হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় ঘন ঘন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বদলিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। এক বছরের ব্যবধানে চারজন ইউএনও বদলি হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন কোনো ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বদলির আদেশ চলে আসছে। কেউ দুই মাস, কেউবা তিন মাস দায়িত্ব পালন করার পরই অন্যত্র বদলি হয়ে যাচ্ছেন। ফলে একজন কর্মকর্তার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয় গড়ে ওঠার আগেই দায়িত্ব পরিবর্তন হওয়ায় সেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, সর্বশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনওকেও শ্রীমঙ্গলে বদলি করা হয়েছে। এতে বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসক, উপজেলা ভূমি অফিস এবং পৌর প্রশাসকের পদেও শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলার বাসিন্দারা জানান, ভূমি সংক্রান্ত কাজ, নামজারি, ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি কাজও আটকে থাকছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এভাবে ঘন ঘন কর্মকর্তাদের বদলি হলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তারা দ্রুত স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য একজন ইউএনও নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মীর সিরাজ প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট করেন, চুনারঘাটের ইউএনও’র বদলীর আদেশ।
উপজেলা প্রশাসনে এত ঘন ঘন বদলীর কারনে সেবামূলক কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চুনারুঘাট উপজেলা ও পৌরসভা। এ পর্যন্ত ৪ জন ইউএনও’র বদলী হলেন। এলাকা বুঝে কাজ গুছাতে একজন ইউএনও’র ৪/৫ মাস সময় লাগার কথা। প্রতি ৪/৫ মাসে বদলী হলে জনগন কীভাবে সেবা পাবে। এই ঘন ঘন বদলীর কারনে বঞ্চিত হচ্ছে চুনারুঘাটের মানুষ।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট প্রেসক্লাবে সভাপতি ফারুক উদ্দিন চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট করেন, চুনারুঘাটবাসীর দুর্ভাগ্য একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসতে না আসতে বদলী।কেউবা দুই মাস কেউবা তিন মাস, উপজেলা কে পরিচয় করতে করতে বদলী, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রীমঙ্গলে বদলি হয়েছেন।বদলি হওয়াতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পথ শূন্য।
সাংবাদিক এসএম সুলতান খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলী হওয়ার মধ্য দিয়ে চুনারুঘাটে ৪টি দপ্তরে কর্মকর্তা শূন্য। যেমন উপজেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক, এসিল্যান্ড ও ইউএনও। এতে উপজেলা বাসী ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
চুনারুঘাটবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে এবং ঘন ঘন বদলির এই ধারা থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খন্দকার আলাউদ্দিন: 














