হবিগঞ্জ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম বর্ষ উদযাপন Logo পাখি শিকারি সেই বদু মিয়ার বাড়িতে বন বিভাগ: ৩ বছর ধরে স্বামী স্ত্রীর অভিমান অবসান ! Logo মাধবপুরে শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন Logo চার বছর ধরে বেতন-ভাতা বঞ্চিত চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল-টমটম সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১ Logo চুনারুঘাটে ‘ইয়াবা নাটক’ সাজিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ২ পুলিশ ক্লোজ Logo হবিগঞ্জে সেরা গুণী শিক্ষক জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আল মামুন Logo হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিবকে রাজসিক সংবর্ধনা দিলেন সৈয়দ মুশফিক আহমেদ Logo চুনারুঘাটে অবৈধ মাটি কাটায় এক্সক্যাভেটর ভাঙচুর, তেল বিক্রেতাকে জরিমানা Logo কুলাউড়ায় কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মাজহারুল ইসলাম কুলাউড়া

চুনারুঘাটের ব্যবসায়ী আকল মিয়া হত্যা প্রধান আসামি রঞ্জন পাল ৫ বছর পর আদালতে আত্মসমর্পণ, কারাগারে প্রেরণ

  • খন্দকার আলাউদ্দিন:
  • আপডেট সময় ১২:৪৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • ৪১৫ বার পড়া হয়েছে

চুনারুঘাটের বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি বিশিষ্ট সালিশ বিচারক আলহাজ্ব আবুল হোসেন আকল মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি রঞ্জন পালকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। সে চুনারুঘাট পৌর শহরের বাল্লারোডের রবীন চন্দ্র পালের পুত্র।

গতকাল বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে হবিগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর শেখ নাজমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে প্রধান আসামি রঞ্জন পাল হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীমোর আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ৫ বছর ২৬ দিন পর রঞ্জন আদালতে হাজির হন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ০১ মার্চ ভোরে চুনারুঘাট শহরের বাল্লা রোড এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাওয়া পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েগেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতর বড় ছেলে এডভোকেট নাজমুল ইসলাম বকুল ঘটনার পরদিন রঞ্জন চন্দ্র পালকে প্রধান আসামি করে ৪জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন ।

একই বছরের ৩০ মার্চ মামলার অন্যতম আসামি জসিম উদ্দিন ওরফে শামীমকে ঢাকার তেজকুনিপাড়ার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দিন ৩১ মার্চ তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এর মধ্যে মামলার ২নং আসামি চুনারুঘাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কুতুব আলী হবিগঞ্জ কারাগারে মারা গেছেন। ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান আসামি পলাতক ছিলেন।

নিহতর ছেলে নাজমুল ইসলাম বকুল জানান, আমার পিতা মরহুম মোঃ আবুল হোসেন (আকল মিয়া) চুনারুঘাট ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি ও চুনারুঘাট উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ চুনারুঘাট থানার একজন বিশিষ্ট মুরুব্বী হিসাবে বিভিন্ন সালিশ বিচারে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন।

বাজারের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মৃত চান মিয়া মহাজন তালুকদারের একটি আধাপাকা ভিটা আসামি রঞ্জল পাল ও কুতুব আলী ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে মৃত চান মিয়া মহাজনের মেয়ে শিরিনের দখলে থাকা ভুমি থেকে উচ্ছেদ করে দখলে যাওয়ার চেষ্টা করে আসামীরা।

ভুক্তভোগী শিরিন তখন বাজারের আমার বাবা আকল মিয়ার শরণাপন্ন হলে তিনি বলিষ্ঠ ভুমিকার কারনে রঞ্জন চন্দ্র পাল ও কুতুব আলী দখলে যেতে পারেনি।

এরই জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পনা করে আকল মিয়াকে হত্যা করে বলে দাবী নিহতর ছেলে এডভোকেট নাজমুল ইসলাম বকুলের ।

তিনি আরো বলেন, ১ মার্চ ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে উঠে পরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাল্লা রোডস্থ স্থানীয় আল-মদিনা মসজিদে যাওয়ার পথে চুনারুঘাট বাল্লা রোডস্থ মতিন মহাজন এর ভাড়াটিয়া রঞ্জন পালের মেসার্স সততা ট্রেডার্স দোকানের সামনে পৌঁছা মাত্রই সম্পত্তির বিরোধের জেরে উল্লিখিত আসামী সহ অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দ্বারা তাহার মাথায় গুরুতর আঘাত ও জখম করে। এসময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা টানা হেচড়া করে শহরের পার্শ্বে থাকা বিছমিল্লাহ ট্রেডারস সংলগ্ন চুনারুঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার গলির পথে জায়গায় ফেলে তাহার মাথায় ও মুখমণ্ডলে উপর্যপুরি আঘাত করে চলে যায়।

পরবর্তীতে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিগণ তাহাকে জথম প্রাপ্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকায় শোর চিৎকার দিলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুনারুঘাট পরে মুমূর্ষ অবস্থায় সিলেট নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ মামলায় এজাহারে সকল আসামি ধরা পড়লেও এর মধ্যে ২ নং আসামি কুতুব আলী কাউন্সিলর কারাগারে মৃত্যু বরণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।

চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম বর্ষ উদযাপন

চুনারুঘাটের ব্যবসায়ী আকল মিয়া হত্যা প্রধান আসামি রঞ্জন পাল ৫ বছর পর আদালতে আত্মসমর্পণ, কারাগারে প্রেরণ

আপডেট সময় ১২:৪৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

চুনারুঘাটের বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি বিশিষ্ট সালিশ বিচারক আলহাজ্ব আবুল হোসেন আকল মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি রঞ্জন পালকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। সে চুনারুঘাট পৌর শহরের বাল্লারোডের রবীন চন্দ্র পালের পুত্র।

গতকাল বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে হবিগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর শেখ নাজমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে প্রধান আসামি রঞ্জন পাল হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীমোর আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ৫ বছর ২৬ দিন পর রঞ্জন আদালতে হাজির হন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ০১ মার্চ ভোরে চুনারুঘাট শহরের বাল্লা রোড এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাওয়া পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েগেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতর বড় ছেলে এডভোকেট নাজমুল ইসলাম বকুল ঘটনার পরদিন রঞ্জন চন্দ্র পালকে প্রধান আসামি করে ৪জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন ।

একই বছরের ৩০ মার্চ মামলার অন্যতম আসামি জসিম উদ্দিন ওরফে শামীমকে ঢাকার তেজকুনিপাড়ার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দিন ৩১ মার্চ তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এর মধ্যে মামলার ২নং আসামি চুনারুঘাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কুতুব আলী হবিগঞ্জ কারাগারে মারা গেছেন। ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান আসামি পলাতক ছিলেন।

নিহতর ছেলে নাজমুল ইসলাম বকুল জানান, আমার পিতা মরহুম মোঃ আবুল হোসেন (আকল মিয়া) চুনারুঘাট ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি ও চুনারুঘাট উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ চুনারুঘাট থানার একজন বিশিষ্ট মুরুব্বী হিসাবে বিভিন্ন সালিশ বিচারে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন।

বাজারের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মৃত চান মিয়া মহাজন তালুকদারের একটি আধাপাকা ভিটা আসামি রঞ্জল পাল ও কুতুব আলী ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে মৃত চান মিয়া মহাজনের মেয়ে শিরিনের দখলে থাকা ভুমি থেকে উচ্ছেদ করে দখলে যাওয়ার চেষ্টা করে আসামীরা।

ভুক্তভোগী শিরিন তখন বাজারের আমার বাবা আকল মিয়ার শরণাপন্ন হলে তিনি বলিষ্ঠ ভুমিকার কারনে রঞ্জন চন্দ্র পাল ও কুতুব আলী দখলে যেতে পারেনি।

এরই জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পনা করে আকল মিয়াকে হত্যা করে বলে দাবী নিহতর ছেলে এডভোকেট নাজমুল ইসলাম বকুলের ।

তিনি আরো বলেন, ১ মার্চ ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে উঠে পরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাল্লা রোডস্থ স্থানীয় আল-মদিনা মসজিদে যাওয়ার পথে চুনারুঘাট বাল্লা রোডস্থ মতিন মহাজন এর ভাড়াটিয়া রঞ্জন পালের মেসার্স সততা ট্রেডার্স দোকানের সামনে পৌঁছা মাত্রই সম্পত্তির বিরোধের জেরে উল্লিখিত আসামী সহ অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দ্বারা তাহার মাথায় গুরুতর আঘাত ও জখম করে। এসময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা টানা হেচড়া করে শহরের পার্শ্বে থাকা বিছমিল্লাহ ট্রেডারস সংলগ্ন চুনারুঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার গলির পথে জায়গায় ফেলে তাহার মাথায় ও মুখমণ্ডলে উপর্যপুরি আঘাত করে চলে যায়।

পরবর্তীতে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিগণ তাহাকে জথম প্রাপ্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকায় শোর চিৎকার দিলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুনারুঘাট পরে মুমূর্ষ অবস্থায় সিলেট নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ মামলায় এজাহারে সকল আসামি ধরা পড়লেও এর মধ্যে ২ নং আসামি কুতুব আলী কাউন্সিলর কারাগারে মৃত্যু বরণ করেন।