হবিগঞ্জ ০২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শায়েস্তাগঞ্জে নাটকের মৌলিক বিষয়ে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা Logo চুনারুঘাটের রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবা চালু Logo হুইলচেয়ারেই কাটে প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার দেবের জীবন Logo চুনারুঘাটে উলামা পরিষদের উদ্যোগে সীরাত মাহফিল ও হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা Logo চুনারুঘাটে প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় ছায়েদ আলী সহ গ্রেপ্তার ৩ Logo শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে গাতাবলা আর-রাফী মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পন্ন Logo চুনারুঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান ও তাঁতীলীগ সভাপতি জামাল মিয়া গ্রেপ্তার Logo হবিগঞ্জের সুঘর গ্রামের বানবাসীদের মাঝে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর দুটি নদীর দূষণ পরিদর্শন করেন

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী গাজীপুর জেলার শ্রীপুর এবং ময়মেনসিংহ জেলার ভালুকা এলাকায় নদীসমূহের দূষণ নিঃস্বরণ পর্যবেক্ষনের জন্য পরিদর্শন করেন।গত ২৬ মার্চ পৃথকস্থানে তিনি পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা এলাকায় নদী দূষণের কারণ চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনায় অনেক সহায়ক হবে। আরও বেশী ধারনা পরিস্কার করা এবং ঢাকার চার পাশের নদীর দূষণ নিঃস্বরণে সঠিক পরিকল্পনা করার জন্য এই এলাকায় আরও পরিদর্শনের প্রয়োজন হবে।
শ্রীপুরের ঘরগরিয়া মাষ্টার বাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ের উপর শ্রীপুর পৌরসভার কঠিন বর্জ্যরে স্তুপ এবং মাষ্টার বাড়ী খালের মাধ্যমে উক্ত এলাকার শিল্পকারখানার বর্জ্য নিঃস্বরনের স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্জ্যের স্তুপ এবং তরল বর্জ্যের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে পৃথিবীর কোন বর্বর জাতীও এমনভাবে মহাসড়কের পাশে বর্জ্য প্রাকৃতিক পরিবেশে ফেলবে না। স্থানীয় ব্যক্তি বর্গের সাথে আলোচনায় জানা গেছে উক্ত বর্জ্য মির্জাপুর হয়ে তুরাগ নদীতে প্রবাহিত হয়। কঠিন বর্জ্যের গন্ধে এলাকার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।
ভালুকা এলাকায় হা-ওয়েল খালের দূষণ পরিদর্শন করে দেখা গেছে উক্ত এলাকার টেক্সটাইল কারখানার দূষণ উক্ত খালের মাধ্যমে লবলং নদীতে পড়ে। হা-ওয়েল ব্রিজ এলাকায় দুটি পাইপের মাধ্যমে টেক্সটাইলের দূষণ খালে পড়তে দেখা যায়। স্থানীয় ব্যাক্তি বর্গের মতে এসব দূষণ আসে টিএম টেক্সটাইল এবং বাদশা ও পাইওনিয়ার টেক্সটাইল থেকে।
হা-ওয়েল খালের দূষণ যাচাই করার জন্য হা-ওয়েল টেক্সটাইলের ইটিপি পরিদর্শন করে বিভিন্ন অংশ দেখে স্থাপনার দিক থেকে ঠিক মনে হলেও কারখানার উৎপাদিত বর্জ্যের আউটলেট দেখে ইটিপি বহির্ভূত বর্জ্য নিঃস্বরনের সন্দেহ থেকে যায়।
পরবর্তিতে অন্যান্য পাইপের বর্জ্যের উৎস যাচাইয়ের টিএম টেক্সটাইলের ইটিপি পরিদর্শন করার আগ্রহ প্রকাশ করলে উপস্থিত কর্মকর্তা উপরস্থ কর্মকর্তার অনুমতির প্রয়োজনের কথা বলায় মাননীয় চেয়ারম্যান ফিরে আসার নির্দেশ প্রদান করেন।
খিরু নদীর দূষণ পর্যবেক্ষনের জন্য ভালুকা ব্রিজ এলাকায় স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত ব্যাক্তিবর্গ উক্ত এলাকার কারখানাসমূহের এবং লবলং নদীর দূষণ মিলে খিরু নদী দূষণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য খিরু নদীল দূষণ সূতিয়া নদীর মাধ্যমে বালু নদীতে প্রবাহিত হয়।
ভালুকায় সূতিয়া নদীর মুখী ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায় উক্ত এলাকায় আপাতঃ দৃষ্টিতে নদীর পানি অপেক্ষাকৃত কম দূষণ রয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে বছরে বিভিন্ন সময় উক্ত এলাকায় মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণি দূষণের কারণে মারা যায়।
ভালুকা এবং গফরগাঁওয়ের সংযোগ রাজৈ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শ করে দেখা গেছে এই এলাকার পানি অপেক্ষাকৃত কম দূষণ রয়েছে। তবে জোয়ারের সময় খিরু নদীর দূষণ উক্ত এলাকায় চলে আসে।
ভালুকা-শ্রীপুর ব্রিজ ত্রিমোহনী এলাকায় খিরু ও সুতিয়া নদীর সংযোগ এবং ব্রিজের নীচের রাবার ড্যাম পরিদর্শন করা হয়েছে। এখানকার পানিতে ব্যাপক দূষণ রয়েছে এবং এসব দূষণ ভালুকা এলাকা থেকে আসে বলে স্থানীয়রা মতামত দিয়েছেন।

পরিদর্শনের শেষে চেয়ারম্যান বলেন ঢাকা শহরের উত্তরের নদীসমূহের দূষণের উৎসসমূহ সম্পূর্ণভাবে জানতে আরও পরিদর্শন করার প্রয়োজন হবে।
ঢাকার চারপাশের নদীর দূষণের কারণ হিসাবে ঢাকার উত্তরের এসব এলকার শিল্প কারখানার মালিক, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদেরকে নিয়ে ক্রাশ প্রেগ্রামের মাধ্যমে উক্ত এলাকার দূষণ নিরসনকল্পে উদ্যেগ নিতে হবে।
টিএম টেক্সটাইল কারখানার দূষণ সংক্রান্ত বিষয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

শায়েস্তাগঞ্জে নাটকের মৌলিক বিষয়ে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর দুটি নদীর দূষণ পরিদর্শন করেন

আপডেট সময় ১০:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ মার্চ ২০২২

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী গাজীপুর জেলার শ্রীপুর এবং ময়মেনসিংহ জেলার ভালুকা এলাকায় নদীসমূহের দূষণ নিঃস্বরণ পর্যবেক্ষনের জন্য পরিদর্শন করেন।গত ২৬ মার্চ পৃথকস্থানে তিনি পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা এলাকায় নদী দূষণের কারণ চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনায় অনেক সহায়ক হবে। আরও বেশী ধারনা পরিস্কার করা এবং ঢাকার চার পাশের নদীর দূষণ নিঃস্বরণে সঠিক পরিকল্পনা করার জন্য এই এলাকায় আরও পরিদর্শনের প্রয়োজন হবে।
শ্রীপুরের ঘরগরিয়া মাষ্টার বাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ের উপর শ্রীপুর পৌরসভার কঠিন বর্জ্যরে স্তুপ এবং মাষ্টার বাড়ী খালের মাধ্যমে উক্ত এলাকার শিল্পকারখানার বর্জ্য নিঃস্বরনের স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্জ্যের স্তুপ এবং তরল বর্জ্যের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে পৃথিবীর কোন বর্বর জাতীও এমনভাবে মহাসড়কের পাশে বর্জ্য প্রাকৃতিক পরিবেশে ফেলবে না। স্থানীয় ব্যক্তি বর্গের সাথে আলোচনায় জানা গেছে উক্ত বর্জ্য মির্জাপুর হয়ে তুরাগ নদীতে প্রবাহিত হয়। কঠিন বর্জ্যের গন্ধে এলাকার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।
ভালুকা এলাকায় হা-ওয়েল খালের দূষণ পরিদর্শন করে দেখা গেছে উক্ত এলাকার টেক্সটাইল কারখানার দূষণ উক্ত খালের মাধ্যমে লবলং নদীতে পড়ে। হা-ওয়েল ব্রিজ এলাকায় দুটি পাইপের মাধ্যমে টেক্সটাইলের দূষণ খালে পড়তে দেখা যায়। স্থানীয় ব্যাক্তি বর্গের মতে এসব দূষণ আসে টিএম টেক্সটাইল এবং বাদশা ও পাইওনিয়ার টেক্সটাইল থেকে।
হা-ওয়েল খালের দূষণ যাচাই করার জন্য হা-ওয়েল টেক্সটাইলের ইটিপি পরিদর্শন করে বিভিন্ন অংশ দেখে স্থাপনার দিক থেকে ঠিক মনে হলেও কারখানার উৎপাদিত বর্জ্যের আউটলেট দেখে ইটিপি বহির্ভূত বর্জ্য নিঃস্বরনের সন্দেহ থেকে যায়।
পরবর্তিতে অন্যান্য পাইপের বর্জ্যের উৎস যাচাইয়ের টিএম টেক্সটাইলের ইটিপি পরিদর্শন করার আগ্রহ প্রকাশ করলে উপস্থিত কর্মকর্তা উপরস্থ কর্মকর্তার অনুমতির প্রয়োজনের কথা বলায় মাননীয় চেয়ারম্যান ফিরে আসার নির্দেশ প্রদান করেন।
খিরু নদীর দূষণ পর্যবেক্ষনের জন্য ভালুকা ব্রিজ এলাকায় স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত ব্যাক্তিবর্গ উক্ত এলাকার কারখানাসমূহের এবং লবলং নদীর দূষণ মিলে খিরু নদী দূষণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য খিরু নদীল দূষণ সূতিয়া নদীর মাধ্যমে বালু নদীতে প্রবাহিত হয়।
ভালুকায় সূতিয়া নদীর মুখী ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায় উক্ত এলাকায় আপাতঃ দৃষ্টিতে নদীর পানি অপেক্ষাকৃত কম দূষণ রয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে বছরে বিভিন্ন সময় উক্ত এলাকায় মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণি দূষণের কারণে মারা যায়।
ভালুকা এবং গফরগাঁওয়ের সংযোগ রাজৈ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শ করে দেখা গেছে এই এলাকার পানি অপেক্ষাকৃত কম দূষণ রয়েছে। তবে জোয়ারের সময় খিরু নদীর দূষণ উক্ত এলাকায় চলে আসে।
ভালুকা-শ্রীপুর ব্রিজ ত্রিমোহনী এলাকায় খিরু ও সুতিয়া নদীর সংযোগ এবং ব্রিজের নীচের রাবার ড্যাম পরিদর্শন করা হয়েছে। এখানকার পানিতে ব্যাপক দূষণ রয়েছে এবং এসব দূষণ ভালুকা এলাকা থেকে আসে বলে স্থানীয়রা মতামত দিয়েছেন।

পরিদর্শনের শেষে চেয়ারম্যান বলেন ঢাকা শহরের উত্তরের নদীসমূহের দূষণের উৎসসমূহ সম্পূর্ণভাবে জানতে আরও পরিদর্শন করার প্রয়োজন হবে।
ঢাকার চারপাশের নদীর দূষণের কারণ হিসাবে ঢাকার উত্তরের এসব এলকার শিল্প কারখানার মালিক, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদেরকে নিয়ে ক্রাশ প্রেগ্রামের মাধ্যমে উক্ত এলাকার দূষণ নিরসনকল্পে উদ্যেগ নিতে হবে।
টিএম টেক্সটাইল কারখানার দূষণ সংক্রান্ত বিষয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।।