হবিগঞ্জ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে বনবিভাগের অভিযানে আকাশমনি কাঠের ৬ টুকরা গোলকাঠ জব্দ Logo চুনারুঘাট ফটোগ্রাফি সোসাইটির ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের, আশঙ্কাজনক দুই বন্ধু Logo সহপরিবারে ওমরাহ হজ্বে গেলেন চুনারুঘাটের ব্রাদার্স ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী জহির আহমেদ Logo চুনারুঘাটে বৃহস্পতিবার নাশিদ সন্ধ্যা, অংশ নেবেন জনপ্রিয় শিল্পী ও ক্বারী Logo হবিগঞ্জে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকের উদ্যোগে অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান Logo মাধবপুরে সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন Logo এক রাতে পাশাপাশি ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্কেল এএসপি Logo মিরাশী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল মনাফ মিয়া

মাধবপুরে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকন্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চা গাছ রোপণের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭ নম্বর জগদীশপুর ইউনিয়নের পূর্ব চারাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন। তার ভাষ্য, দেওয়ানি আদালতের রায়ের মাধ্যমে জমিটির মালিকানা তিনি ডিগ্রির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তার নামে নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

সেলিম মিয়ার অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি নিজের জমিতে প্রবেশ করতে গেলে বৈকন্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে বাধা দেন। পরে তিনি দেখতে পান, জমিতে চা বাগানের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চা গাছ রোপণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সেলিম মিয়া দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি আদালতে ১৪৪ ধারায় আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরও তিনি জমির দখল ও প্রবেশাধিকার ফিরে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, চা বাগান কর্তৃপক্ষ সেলিম মিয়াকে বিবাদী করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বৈকন্ঠপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘উক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে চা বাগানের দখলে রয়েছে এবং মৌখিকভাবে এটি আমাদের মালিকানাধীন। সেলিম মিয়া যে ডিগ্রি পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের হয়রানি করছেন।’

তবে জমিটির মালিকানার সুনির্দিষ্ট কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমি একজন হতদরিদ্র কৃষক। আইনের মাধ্যমে আমার জমির মালিকানা পেয়েছি। কিন্তু চা বাগান কর্তৃপক্ষ আমাকে জমিতে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমি প্রশাসন ও স্থানীয় এমপির কাছে সঠিক বিচার চাই।’

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রেসক্লাব নেতা ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘চা বাগান ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়; এর মালিক জেলা প্রশাসন। দ্রুত এ বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।’

যোগাযোগ করা হলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, ‘চা বাগানের মালিকানা সরকারের। কোনো কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা বলছেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধটি দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এতে একদিকে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সংঘাতও এড়ানো সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

মাধবপুরে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৭:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকন্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চা গাছ রোপণের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭ নম্বর জগদীশপুর ইউনিয়নের পূর্ব চারাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন। তার ভাষ্য, দেওয়ানি আদালতের রায়ের মাধ্যমে জমিটির মালিকানা তিনি ডিগ্রির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তার নামে নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

সেলিম মিয়ার অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি নিজের জমিতে প্রবেশ করতে গেলে বৈকন্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে বাধা দেন। পরে তিনি দেখতে পান, জমিতে চা বাগানের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চা গাছ রোপণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সেলিম মিয়া দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি আদালতে ১৪৪ ধারায় আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরও তিনি জমির দখল ও প্রবেশাধিকার ফিরে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, চা বাগান কর্তৃপক্ষ সেলিম মিয়াকে বিবাদী করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বৈকন্ঠপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘উক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে চা বাগানের দখলে রয়েছে এবং মৌখিকভাবে এটি আমাদের মালিকানাধীন। সেলিম মিয়া যে ডিগ্রি পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের হয়রানি করছেন।’

তবে জমিটির মালিকানার সুনির্দিষ্ট কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমি একজন হতদরিদ্র কৃষক। আইনের মাধ্যমে আমার জমির মালিকানা পেয়েছি। কিন্তু চা বাগান কর্তৃপক্ষ আমাকে জমিতে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমি প্রশাসন ও স্থানীয় এমপির কাছে সঠিক বিচার চাই।’

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রেসক্লাব নেতা ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘চা বাগান ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়; এর মালিক জেলা প্রশাসন। দ্রুত এ বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।’

যোগাযোগ করা হলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, ‘চা বাগানের মালিকানা সরকারের। কোনো কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা বলছেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধটি দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এতে একদিকে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সংঘাতও এড়ানো সম্ভব হবে।