হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ছয়শ্রী গ্রামের আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতের বেলায় জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় পতাকার যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে দি হবিগঞ্জ টিবিউন নামে একটি ফেইসবুক ফেইজে দেখা যায় রাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উড়ছে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই জাতীয় পতাকার যথাযথ মর্যাদা ও বিধিবিধান অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও রাতে বিদ্যালয়ে পতাকা উড়তে দেখা যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ডেইজি দাস বলেন আমার একজন সহযোগী স্যার ষড়যন্ত্র করে রাতের বেলা পতাকা টানিয়ে রাখছেন। তার সাথে মতবিরোধ রয়েছে। তাই তিনি এধরনের কাজ করছেন।
চুনারুঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জয় কুমার হাজরা বলেন আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সালেহ উদ্দিন নামের একজন শিক্ষক ষড়যন্ত্র করে পতাকা রাত্রিবেলা পতাকা টানিয়ে রাখছেন।।
স্কুলের শিক্ষকদের সুনাম নষ্ট করতে অনেক আগের পতাকা উড়ছে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে শিক্ষক সালাউদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন আমরা কোন বক্তব্য নেই।
এবিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয় টি প্রাথমিক ও জেলা শিক্ষা অফিসার কে জানানো হইছে। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিবেন।
তিনি আরও জানান, রাতের বেলায় উড়তে দেখা গেছে বিষয় টি অনেক আগে তবে ঘটনা সত্য। ওই স্কুলের একজন শিক্ষক এর সাথে জড়িত রয়েছেন। দুই শিক্ষককের মতবিরোধ এবং থানায় একটি মামলাও রয়েছে।
জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাযথ নিয়ম মেনে পতাকা উত্তোলন ও নামানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বিশেষ প্রতিনিধি: 



















