হবিগঞ্জ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে বনবিভাগের অভিযানে আকাশমনি কাঠের ৬ টুকরা গোলকাঠ জব্দ Logo চুনারুঘাট ফটোগ্রাফি সোসাইটির ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের, আশঙ্কাজনক দুই বন্ধু Logo সহপরিবারে ওমরাহ হজ্বে গেলেন চুনারুঘাটের ব্রাদার্স ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী জহির আহমেদ Logo চুনারুঘাটে বৃহস্পতিবার নাশিদ সন্ধ্যা, অংশ নেবেন জনপ্রিয় শিল্পী ও ক্বারী Logo হবিগঞ্জে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকের উদ্যোগে অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান Logo মাধবপুরে সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন Logo এক রাতে পাশাপাশি ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্কেল এএসপি Logo মিরাশী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল মনাফ মিয়া

চুনারুঘাটের সাতছড়ি বনে পদ্ম গোখরা ও দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে একটি পদ্ম গোখরা ও একটি দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরীর উপস্থিতিতে সাপ দুটি বনে অবমুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা থেকে সাপ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্নেক রেসকিউ টিম ও সংরক্ষণকেন্দ্রের কর্মীরা সাপগুলো চুনারুঘাটে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে সাপ দুটি অবমুক্ত করা হয়।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, পদ্ম গোখরা প্রধানত নিশাচর। রাতের বেলায় খাবারের সন্ধানে এটি বেশি বের হয়। সাধারণত মানুষ দেখলে সাপটি পালিয়ে যেতে চায়। তবে কোণঠাসা বা বিরক্ত করলে ফণা মেলে ধরে এবং আত্মরক্ষার্থে কামড় দিতে পারে। এর বিষ নিউরোটক্সিক, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, পদ্ম গোখরার কামড়ের চিকিৎসা দেশে রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়েও অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলে দেরি না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের হবিগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, পদ্ম গোখরা বা খৈয়া গোখরা সাধারণত প্রকৃতিতে ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। উপযুক্ত পরিবেশ ও যত্ন পেলে বন্দিদশায় প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে বন্য পরিবেশে খাদ্যসংকট, শিকারি প্রাণীর আক্রমণ এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে অনেক সাপ মারা যায়।

দাঁড়াশ সাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ধামন, ধামান বা দারাজ নামেও পরিচিত। দাঁড়াশ মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। বরং ফসলের ক্ষতিকর ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। এ কারণে সাপটিকে কৃষকের বন্ধু বলা হয়।

চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সংবাদকর্মী আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, পদ্ম গোখরা অত্যন্ত বিষধর সাপ। এটি সাধারণত নিশাচর এবং চাষের জমি, ধানক্ষেত, জলাশয় ও বসতবাড়ির আশপাশে ইঁদুরের গর্তে থাকতে পারে। বিরক্ত করলে ফণা তুলে হিসহিস শব্দ করে এবং আত্মরক্ষার্থে কামড় দিতে পারে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাপসহ সব প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিষধর সাপ দেখলে না মেরে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাপ অবমুক্তকালে চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুসহ বন বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

চুনারুঘাটের সাতছড়ি বনে পদ্ম গোখরা ও দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত

আপডেট সময় ০৩:২৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে একটি পদ্ম গোখরা ও একটি দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরীর উপস্থিতিতে সাপ দুটি বনে অবমুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা থেকে সাপ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্নেক রেসকিউ টিম ও সংরক্ষণকেন্দ্রের কর্মীরা সাপগুলো চুনারুঘাটে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে সাপ দুটি অবমুক্ত করা হয়।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, পদ্ম গোখরা প্রধানত নিশাচর। রাতের বেলায় খাবারের সন্ধানে এটি বেশি বের হয়। সাধারণত মানুষ দেখলে সাপটি পালিয়ে যেতে চায়। তবে কোণঠাসা বা বিরক্ত করলে ফণা মেলে ধরে এবং আত্মরক্ষার্থে কামড় দিতে পারে। এর বিষ নিউরোটক্সিক, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, পদ্ম গোখরার কামড়ের চিকিৎসা দেশে রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়েও অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলে দেরি না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের হবিগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, পদ্ম গোখরা বা খৈয়া গোখরা সাধারণত প্রকৃতিতে ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। উপযুক্ত পরিবেশ ও যত্ন পেলে বন্দিদশায় প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে বন্য পরিবেশে খাদ্যসংকট, শিকারি প্রাণীর আক্রমণ এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে অনেক সাপ মারা যায়।

দাঁড়াশ সাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ধামন, ধামান বা দারাজ নামেও পরিচিত। দাঁড়াশ মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। বরং ফসলের ক্ষতিকর ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। এ কারণে সাপটিকে কৃষকের বন্ধু বলা হয়।

চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সংবাদকর্মী আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, পদ্ম গোখরা অত্যন্ত বিষধর সাপ। এটি সাধারণত নিশাচর এবং চাষের জমি, ধানক্ষেত, জলাশয় ও বসতবাড়ির আশপাশে ইঁদুরের গর্তে থাকতে পারে। বিরক্ত করলে ফণা তুলে হিসহিস শব্দ করে এবং আত্মরক্ষার্থে কামড় দিতে পারে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাপসহ সব প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিষধর সাপ দেখলে না মেরে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাপ অবমুক্তকালে চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুসহ বন বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।