হবিগঞ্জ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে গাতাবলা আর-রাফী মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পন্ন Logo চুনারুঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান ও তাঁতীলীগ সভাপতি জামাল মিয়া গ্রেপ্তার Logo হবিগঞ্জের সুঘর গ্রামের বানবাসীদের মাঝে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ Logo চুনারুঘাটের মেয়ে দীপ্তিতা দাশ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ তদারকিতে খাদ্য বিভাগ Logo চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর বাজারের চাল বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ইউএনও Logo চুনারুঘাটে যৌথ অভিযানে ৭ অবৈধ করাতকল সিলগালা Logo ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের আন্দোলন

চুনারুঘাটের সাতছড়ি বনে পদ্ম গোখরা ও দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে একটি পদ্ম গোখরা ও একটি দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরীর উপস্থিতিতে সাপ দুটি বনে অবমুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা থেকে সাপ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্নেক রেসকিউ টিম ও সংরক্ষণকেন্দ্রের কর্মীরা সাপগুলো চুনারুঘাটে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে সাপ দুটি অবমুক্ত করা হয়।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, পদ্ম গোখরা প্রধানত নিশাচর। রাতের বেলায় খাবারের সন্ধানে এটি বেশি বের হয়। সাধারণত মানুষ দেখলে সাপটি পালিয়ে যেতে চায়। তবে কোণঠাসা বা বিরক্ত করলে ফণা মেলে ধরে এবং আত্মরক্ষার্থে কামড় দিতে পারে। এর বিষ নিউরোটক্সিক, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, পদ্ম গোখরার কামড়ের চিকিৎসা দেশে রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়েও অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলে দেরি না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের হবিগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, পদ্ম গোখরা বা খৈয়া গোখরা সাধারণত প্রকৃতিতে ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। উপযুক্ত পরিবেশ ও যত্ন পেলে বন্দিদশায় প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে বন্য পরিবেশে খাদ্যসংকট, শিকারি প্রাণীর আক্রমণ এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে অনেক সাপ মারা যায়।

দাঁড়াশ সাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ধামন, ধামান বা দারাজ নামেও পরিচিত। দাঁড়াশ মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। বরং ফসলের ক্ষতিকর ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। এ কারণে সাপটিকে কৃষকের বন্ধু বলা হয়।

চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সংবাদকর্মী আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, পদ্ম গোখরা অত্যন্ত বিষধর সাপ। এটি সাধারণত নিশাচর এবং চাষের জমি, ধানক্ষেত, জলাশয় ও বসতবাড়ির আশপাশে ইঁদুরের গর্তে থাকতে পারে। বিরক্ত করলে ফণা তুলে হিসহিস শব্দ করে এবং আত্মরক্ষার্থে কামড় দিতে পারে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাপসহ সব প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিষধর সাপ দেখলে না মেরে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাপ অবমুক্তকালে চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুসহ বন বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ

চুনারুঘাটের সাতছড়ি বনে পদ্ম গোখরা ও দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত

আপডেট সময় ০৩:২৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে একটি পদ্ম গোখরা ও একটি দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরীর উপস্থিতিতে সাপ দুটি বনে অবমুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা থেকে সাপ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্নেক রেসকিউ টিম ও সংরক্ষণকেন্দ্রের কর্মীরা সাপগুলো চুনারুঘাটে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে সাপ দুটি অবমুক্ত করা হয়।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, পদ্ম গোখরা প্রধানত নিশাচর। রাতের বেলায় খাবারের সন্ধানে এটি বেশি বের হয়। সাধারণত মানুষ দেখলে সাপটি পালিয়ে যেতে চায়। তবে কোণঠাসা বা বিরক্ত করলে ফণা মেলে ধরে এবং আত্মরক্ষার্থে কামড় দিতে পারে। এর বিষ নিউরোটক্সিক, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, পদ্ম গোখরার কামড়ের চিকিৎসা দেশে রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়েও অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলে দেরি না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের হবিগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, পদ্ম গোখরা বা খৈয়া গোখরা সাধারণত প্রকৃতিতে ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। উপযুক্ত পরিবেশ ও যত্ন পেলে বন্দিদশায় প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে বন্য পরিবেশে খাদ্যসংকট, শিকারি প্রাণীর আক্রমণ এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে অনেক সাপ মারা যায়।

দাঁড়াশ সাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ধামন, ধামান বা দারাজ নামেও পরিচিত। দাঁড়াশ মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। বরং ফসলের ক্ষতিকর ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। এ কারণে সাপটিকে কৃষকের বন্ধু বলা হয়।

চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সংবাদকর্মী আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, পদ্ম গোখরা অত্যন্ত বিষধর সাপ। এটি সাধারণত নিশাচর এবং চাষের জমি, ধানক্ষেত, জলাশয় ও বসতবাড়ির আশপাশে ইঁদুরের গর্তে থাকতে পারে। বিরক্ত করলে ফণা তুলে হিসহিস শব্দ করে এবং আত্মরক্ষার্থে কামড় দিতে পারে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাপসহ সব প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিষধর সাপ দেখলে না মেরে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাপ অবমুক্তকালে চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুসহ বন বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।