প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি ছড়া, বনাঞ্চল এবং জীববৈচিত্র্যের অপার সম্ভাবনা নিয়ে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটন কমিটি গঠন এবং “প্রকৃতির সম্ভাবনায় পর্যটন সমৃদ্ধ বাহুবল” শীর্ষক আলোচনা সভা সেই সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে বাস্তবতা হলো, বাহুবলের পর্যটন উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন ছড়ায় অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও জলধারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। বর্ষা মৌসুমে ভাঙন, কৃষিজমির ক্ষতি এবং পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, বাহুবলের পর্যটনের মূল আকর্ষণই হলো এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। অথচ সেই পরিবেশের অন্যতম উপাদান ছড়াগুলোই আজ হুমকির মুখে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ প্রয়োজন, সেখানে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে অনেক এলাকায় প্রকৃতির স্বাভাবিক রূপ বিনষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন শিল্প কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না। এর জন্য প্রয়োজন পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা। বাহুবলের ক্ষেত্রে এসব উপাদানই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ বা প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মীদের নানা ধরনের চাপ, হুমকি এবং হয়রানির মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জনস্বার্থে পরিবেশ রক্ষার দাবিকে যদি প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক চর্চা ও সুশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নবগঠিত পর্যটন কমিটি চাইলে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। পর্যটনের স্বার্থেই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
বালু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পদ। তাই এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। বাহুবলের পর্যটন সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে উন্নয়নের আলোচনার পাশাপাশি পরিবেশ ধ্বংসের কারণগুলো চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
“প্রকৃতির সম্ভাবনায় পর্যটন সমৃদ্ধ বাহুবল”—এই স্লোগানকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে প্রথমেই রক্ষা করতে হবে বাহুবলের ছড়া, পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। কারণ প্রকৃতি বাঁচলে পর্যটন বাঁচবে, আর পর্যটন বাঁচলে সমৃদ্ধ হবে বাহুবল।
হুমায়ূন কবির, বাহুবল : 










