হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নিখোঁজ হাজী আব্দুল আলী মিয়াকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা কিংবা গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর ছেলে মো. শামসুল ইসলাম। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং তাঁর বাবাকে সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় চুনারুঘাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন শামসুল ইসলাম। তিনি উপজেলার সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের দেউলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাজী আব্দুল আলী মিয়ার ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে শামসুল ইসলাম বলেন, গত ৬ আগস্ট বিকেল থেকে তাঁর বাবা হাজী আব্দুল আলী নিখোঁজ রয়েছেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি জানিয়ে চুনারুঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তিনি জানান, তাঁর বাবা সাটিয়াজুরী ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। পূর্ববিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাবাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শামসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দেউলগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে আব্দুল মতলিব, আব্দুল মতিন, আব্দুল হামিদ, মিজান মিয়া, আব্দুল মতিনের ছেলে শাহাবুদ্দিন, আব্দুল মালেকের ছেলে আব্দুল হাই এবং পাশের ইচ্ছাকুটা গ্রামের জালাল হোসেনের ছেলে বাবুল মিয়া ও আইয়ূব আলীসহ কয়েকজন তাঁর বাবার নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। এমনকি তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার বাবার কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। তিনি কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন—কিছুই জানি না। আমরা দ্রুত তাঁকে জীবিত ও নিরাপদে ফিরে পেতে চাই।’
এ সময় তিনি তাঁর বাবার নিখোঁজের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
চুনারুঘাট প্রতিনিধি : 



















