হবিগঞ্জ ০৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে কৃষকের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতা হাবিবের বিরুদ্ধে Logo জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে বনবিভাগের অভিযানে আকাশমনি কাঠের ৬ টুকরা গোলকাঠ জব্দ Logo চুনারুঘাট ফটোগ্রাফি সোসাইটির ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের, আশঙ্কাজনক দুই বন্ধু Logo সহপরিবারে ওমরাহ হজ্বে গেলেন চুনারুঘাটের ব্রাদার্স ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী জহির আহমেদ Logo চুনারুঘাটে বৃহস্পতিবার নাশিদ সন্ধ্যা, অংশ নেবেন জনপ্রিয় শিল্পী ও ক্বারী Logo হবিগঞ্জে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকের উদ্যোগে অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান Logo মাধবপুরে সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

বিএনপির রাজনীতি করে সব হারানো খিজির খান, এখনও বৈষম্যের শিকার

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য হারানো, বারবার গ্রেফতার ও নানা হয়রানির শিকার হওয়া যুবদল নেতা খিজির খান সোহেল এখনও দলীয়ভাবে মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

খিজির খান জানান, ২০২৩ সালে জিয়া পরিবারকে কটুক্তির প্রতিবাদে জনসভা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পুলিশ তাকে তেলিয়াপাড়া এলাকা থেকে আটক করে। পরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় তাকে ১২ দিন কারাবরণ করতে হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তার গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানানো হয়।

তিনি ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ আরও জানান, ২০১০ সাল থেকে সিলেট মহানগরের ওসমানী জাদুঘর সংলগ্ন শবনম এলাকায় তিনি ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে একাধিকবার পুলিশি হয়রানির শিকার হন এবং তার ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়। একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি নিজ এলাকা মাধবপুরে ফিরে আসেন।

মাধবপুরে এসে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তাকে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকতে হয়েছে এবং একাধিক মামলায় আসামিও হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ২০২৩ সালে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের একটি মাজারের ওরসকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মারামারির মামলায়ও তাকে ১২ দিন কারাবরণ করতে হয়, যা তিনি ‘মিথ্যা মামলা’ বলে দাবি করেন। এতে তিনি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও একটি ‘কুচক্রী মহল’ তাকে মিথ্যা অভিযোগে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আটক করায়। পরে তদন্তে সত্যতা না পাওয়ায় তাকে সম্মানের সঙ্গে মুক্তি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও এখনও দলীয়ভাবে মূল্যায়ন না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন খিজির খান। সম্প্রতি এক দলীয় সভায় তিনি বলেন, “এমপির উন্নয়ন কমিটিতে আমার ওয়ার্ড থেকে তিনজনের নাম দেওয়া হলেও আমার নাম রাখা হয়নি। প্রস্তাবিত ইউনিয়ন যুবদলের কমিটিতেও আমাকে রাখা হয়নি। কোনো সরকারি বরাদ্দ বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও আমাকে ডাকা হয় না।”

তারা আরও বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে আমি জীবনের অনেক কিছু হারিয়েছি। পরিবারকে সময় দিতে পারিনি, বারবার জেলে যেতে হয়েছে, ব্যবসাও হারাতে হয়েছে। অথচ যারা হাইব্রিড রাজনীতি করে, তারাই এখন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।”

এ বিষয়ে শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, “খিজির খান একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তিনি জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। আমরা আশা করি, দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।”

মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দিন বলেন, “এ ধরনের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করলে ভবিষ্যতে দলের জন্য সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হবে না।”

মাধবপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ বলেন, “আন্দোলন-সংগ্রাম ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে খিজির খান আমাদের জন্য একটি উদাহরণ। আমরাও চাই তার যথাযথ মূল্যায়ন হোক।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে কৃষকের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতা হাবিবের বিরুদ্ধে

বিএনপির রাজনীতি করে সব হারানো খিজির খান, এখনও বৈষম্যের শিকার

আপডেট সময় ০৯:৩১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য হারানো, বারবার গ্রেফতার ও নানা হয়রানির শিকার হওয়া যুবদল নেতা খিজির খান সোহেল এখনও দলীয়ভাবে মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

খিজির খান জানান, ২০২৩ সালে জিয়া পরিবারকে কটুক্তির প্রতিবাদে জনসভা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পুলিশ তাকে তেলিয়াপাড়া এলাকা থেকে আটক করে। পরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় তাকে ১২ দিন কারাবরণ করতে হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তার গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানানো হয়।

তিনি ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ আরও জানান, ২০১০ সাল থেকে সিলেট মহানগরের ওসমানী জাদুঘর সংলগ্ন শবনম এলাকায় তিনি ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে একাধিকবার পুলিশি হয়রানির শিকার হন এবং তার ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়। একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি নিজ এলাকা মাধবপুরে ফিরে আসেন।

মাধবপুরে এসে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তাকে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকতে হয়েছে এবং একাধিক মামলায় আসামিও হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ২০২৩ সালে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের একটি মাজারের ওরসকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মারামারির মামলায়ও তাকে ১২ দিন কারাবরণ করতে হয়, যা তিনি ‘মিথ্যা মামলা’ বলে দাবি করেন। এতে তিনি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও একটি ‘কুচক্রী মহল’ তাকে মিথ্যা অভিযোগে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আটক করায়। পরে তদন্তে সত্যতা না পাওয়ায় তাকে সম্মানের সঙ্গে মুক্তি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও এখনও দলীয়ভাবে মূল্যায়ন না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন খিজির খান। সম্প্রতি এক দলীয় সভায় তিনি বলেন, “এমপির উন্নয়ন কমিটিতে আমার ওয়ার্ড থেকে তিনজনের নাম দেওয়া হলেও আমার নাম রাখা হয়নি। প্রস্তাবিত ইউনিয়ন যুবদলের কমিটিতেও আমাকে রাখা হয়নি। কোনো সরকারি বরাদ্দ বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও আমাকে ডাকা হয় না।”

তারা আরও বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে আমি জীবনের অনেক কিছু হারিয়েছি। পরিবারকে সময় দিতে পারিনি, বারবার জেলে যেতে হয়েছে, ব্যবসাও হারাতে হয়েছে। অথচ যারা হাইব্রিড রাজনীতি করে, তারাই এখন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।”

এ বিষয়ে শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, “খিজির খান একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তিনি জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। আমরা আশা করি, দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।”

মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দিন বলেন, “এ ধরনের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করলে ভবিষ্যতে দলের জন্য সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হবে না।”

মাধবপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ বলেন, “আন্দোলন-সংগ্রাম ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে খিজির খান আমাদের জন্য একটি উদাহরণ। আমরাও চাই তার যথাযথ মূল্যায়ন হোক।”