শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. নাজিম উদ্দিন শামসু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ ফারুক চৌধুরী, সাবেক সভাপতি কামরুল ইসলাম, জামাল হোসেন লিটন, নারী উদ্যোক্তা মিস নাজনীন আহমেদ সিলভি, মাসুদ চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান তরফদার আবিদ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৈয়বা খাতুন, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহসভাপতি ইজমাইল হোসেন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজাদ তালুকদার, সাংবাদিক মিজানুর রহমান উজ্জ্বল, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ নেওয়াজসহ শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অভিভাবক প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।
সভায় বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনায় শ্রেণিকক্ষে আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি, মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ঝরে পড়া রোধে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি ও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও মতামত উঠে আসে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও গালিব চৌধুরী বলেন, “একটি জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। সরকার শিক্ষাখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। তবে শুধু সরকারের একার পক্ষে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোচিং নির্ভরতা কমিয়ে শ্রেণিকক্ষেই শতভাগ পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। নকল ও অসদুপায় বন্ধ করে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।” বিদ্যালয়ের যেকোনো সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নাজিম উদ্দিন শামসু বলেন, “দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় চুনারুঘাটের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও খেলাধুলার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
সভা শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতি দুই মাস পরপর অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষার অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা আয়োজন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস চালু, বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান।
বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
খন্দকার আলাউদ্দিন : 


















