হবিগঞ্জ ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে বনবিভাগের অভিযানে আকাশমনি কাঠের ৬ টুকরা গোলকাঠ জব্দ Logo চুনারুঘাট ফটোগ্রাফি সোসাইটির ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের, আশঙ্কাজনক দুই বন্ধু Logo সহপরিবারে ওমরাহ হজ্বে গেলেন চুনারুঘাটের ব্রাদার্স ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী জহির আহমেদ Logo চুনারুঘাটে বৃহস্পতিবার নাশিদ সন্ধ্যা, অংশ নেবেন জনপ্রিয় শিল্পী ও ক্বারী Logo হবিগঞ্জে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকের উদ্যোগে অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান Logo মাধবপুরে সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন Logo এক রাতে পাশাপাশি ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্কেল এএসপি

মাধবপুরে হামলার শিকার পরিবারই মামলার আসামি, বিচার দাবি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে এক পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই মামলা হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার শিকার পরিবারের অভিযোগ, তারা চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে হামলাকারী পক্ষ থানায় উল্টো মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই সুলতানপুর গ্রামে সংঘটিত হামলায় নারীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে আনছনা বেগম, তহিদ মিয়া, বাবুল, পুতুল বেগম ও রহমত আলী রয়েছেন। তাদের কারও শরীরে ১০ থেকে ৪২টি পর্যন্ত সেলাই দিতে হয়েছে। কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার পর তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিতে গেলে সেই সুযোগে হামলাকারী পক্ষের একজন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে পুলিশ আহতদেরই খুঁজছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সোমবার সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, এলাকায় প্রভাবশালী একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে পরে উল্টো মামলা দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। হামলাকে মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেখিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

গুরুতর আহত পুতুল বেগম বলেন, “আমাদের পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। প্রকৃত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিন্টু ও তাহের মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন পারুল বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছি।”

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ আহতদের হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

মাধবপুরে হামলার শিকার পরিবারই মামলার আসামি, বিচার দাবি

আপডেট সময় ১০:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে এক পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই মামলা হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার শিকার পরিবারের অভিযোগ, তারা চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে হামলাকারী পক্ষ থানায় উল্টো মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই সুলতানপুর গ্রামে সংঘটিত হামলায় নারীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে আনছনা বেগম, তহিদ মিয়া, বাবুল, পুতুল বেগম ও রহমত আলী রয়েছেন। তাদের কারও শরীরে ১০ থেকে ৪২টি পর্যন্ত সেলাই দিতে হয়েছে। কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার পর তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিতে গেলে সেই সুযোগে হামলাকারী পক্ষের একজন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে পুলিশ আহতদেরই খুঁজছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সোমবার সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, এলাকায় প্রভাবশালী একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে পরে উল্টো মামলা দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। হামলাকে মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেখিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

গুরুতর আহত পুতুল বেগম বলেন, “আমাদের পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। প্রকৃত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিন্টু ও তাহের মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন পারুল বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছি।”

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ আহতদের হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।