হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে এক পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই মামলা হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার শিকার পরিবারের অভিযোগ, তারা চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে হামলাকারী পক্ষ থানায় উল্টো মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই সুলতানপুর গ্রামে সংঘটিত হামলায় নারীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে আনছনা বেগম, তহিদ মিয়া, বাবুল, পুতুল বেগম ও রহমত আলী রয়েছেন। তাদের কারও শরীরে ১০ থেকে ৪২টি পর্যন্ত সেলাই দিতে হয়েছে। কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার পর তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিতে গেলে সেই সুযোগে হামলাকারী পক্ষের একজন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে পুলিশ আহতদেরই খুঁজছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সোমবার সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, এলাকায় প্রভাবশালী একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে পরে উল্টো মামলা দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। হামলাকে মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেখিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
গুরুতর আহত পুতুল বেগম বলেন, “আমাদের পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। প্রকৃত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিন্টু ও তাহের মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন পারুল বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছি।”
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ আহতদের হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জাহাঙ্গীর আলম জয়, মাধবপুর : 


















