হবিগঞ্জের মাধবপুরে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে নকলের অভিযোগ ও পরীক্ষার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই কলেজের শিক্ষকরা কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার বহরা ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে মনতলা সরকারি শাহজালাল কলেজের বিজ্ঞান, ব্যবসা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি একই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক হল সুপার, প্রত্যাবর্তকসহ বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ করায় নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। পরীক্ষার সময় নকল সরবরাহ ও বলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার কেন্দ্রে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষা চলছিল। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে একই কলেজের শিক্ষকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা পরীক্ষার বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সাংবাদিকরা পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হন। এ বিষয়ে সাংবাদিক এম এম গউস বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রবেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং অনিয়ম আড়াল করতেই তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্র সচিব ও শাহজালাল কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি নেই। সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ—এটি জেলা প্রশাসকের নির্দেশ।গ
পরীক্ষা কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার তুষার পাল জানান, প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে এবং তিনি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত আছেন। নকলের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক থাকলেও তা নিরপেক্ষতায় প্রভাব ফেলবে না।
জাহাঙ্গীর আলম জয়, মাধবপুর : 



















