হবিগঞ্জ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে বনবিভাগের অভিযানে আকাশমনি কাঠের ৬ টুকরা গোলকাঠ জব্দ Logo চুনারুঘাট ফটোগ্রাফি সোসাইটির ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের, আশঙ্কাজনক দুই বন্ধু Logo সহপরিবারে ওমরাহ হজ্বে গেলেন চুনারুঘাটের ব্রাদার্স ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী জহির আহমেদ Logo চুনারুঘাটে বৃহস্পতিবার নাশিদ সন্ধ্যা, অংশ নেবেন জনপ্রিয় শিল্পী ও ক্বারী Logo হবিগঞ্জে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকের উদ্যোগে অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান Logo মাধবপুরে সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন Logo এক রাতে পাশাপাশি ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্কেল এএসপি

মাধবপুরে পোলট্রি মোরগের দোকানগুলোতে ডিজিটাল পাল্লায় চলছে ডিজিটাল চুরি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২
  • ৩৩২ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর উপজেলায় পোলট্রি মোরগের দোকানগুলোতে ডিজিটাল পাল্লায় বর্তমানে চলে মুরগী বিক্রি।সাথে ডিজিটাল চুরি করছে মানুষের সাথে।

আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে পাল্লায় পণ্য ওজনের ক্ষেত্রেও এসেছে আধুনিকতা। একটা সময় দোকানে ওজন মাপার জন্য ব্যবহার করা হতো বাটকারা কিন্তু বর্তমানে সেই বাটকারার পাল্লা নেই বললেই চলে। আধুনিকতার ছোঁয়াকে পুঁজি করে অসাধু মুরগী ব্যবসায়ীরা হরহামেশাই গ্রাহকদেরকে ঠকাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুরগি ব্যবসায়ী জানান, বাজারের প্রায় সকল মুরগী দোকানগুলোতে পোল্ট্রি মুরগী ওজন করতে ডিজিটাল পাল্লা ব্যবহার করা হয়। আর এই ডিজিটাল পাল্লায় চলছে নিরবে ডিজিটাল কারচুপি। পোল্ট্রি মুরগী কিনতে আসা গ্রাহকদেরকে ওজনে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০০-৩০০ গ্রাম ওজন কম দিচ্ছে।

কিভাবে কম দিচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে কারচুপির আসল কাহিনী, বাজারে প্রত্যেক্টা পোল্ট্রি মুরগী বিক্রয়ের দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেকটি ডিজিটাল পাল্লায় এক ধরনের রিমোট সিস্টেম লাগানো থাকে। সেই সিস্টেমকে দূর থেকে রিমোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মুরগী ওজন করার সময় সেই রিমোটে চাপ দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুরগীর ওজন কেজিতে ২০০-৩০০ গ্রাম বেড়ে যায় এবং সে অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে দাম রাখা হয়।

আবার সেই একই মুরগীকে অন্য সঠিক একটি পাল্লায় মাপা হলে সেটাতে প্রতি কেজিতে ২০০-৩০০ গ্রাম বা তারও বেশি কম পাওয়া যায়। এই রকমভাবে ২ কেজি ওজনের বা তারও বেশি একটি মুরগি ক্রয় করার পর সেটা অন্য একটি নির্ভুল পাল্লায় মাপা হলে যাদুর মতই প্রায় ৪০০-৫০০ গ্রাম মুরগীর ওজন হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। আবার কোন কোন পাল্লায় এক প্রকার তার সংযোজন করা থাকে এবং সেই তার মাটির নিচ দিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালে দোকান মালিকের পায়ের নিচে রাখা হয়। যখনই মুরগী পাল্লায় তোলা হয় মাপার জন্য তখন পায়ের নিচে রাখা তারের মধ্যে চাপ দিলে পাল্লায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০০-৩০০গ্রাম বেশি ওজন চলে আসে। গ্রাহকদের কোন কিছু বোঝার উপায় নেই।

পাল্লায় কম দেয়া নিয়ে কয়েকবার বাজারে মুরগী ব্যবসায়ী ও গ্রাকদের সাথে ঝগড়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন সঠিক সমাধানে আসেনি মুরগী ব্যবসায়ীরা। মাধবপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটি এবং প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবে দিনের পর দিন মুরগী ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের সাথে এমন প্রতারণা করে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছে। প্রশাসন বাজার মনিটরিং না করলে এই সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন, এই ব্যাপারে আমরা খুব শীগ্রই বাজারে অভিযান দিব এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। হবিগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা বলেন, এই ব্যাপারে অবগত হয়েছি কিছুদিনের মধ্যেই অভিযানে যাবো

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

মাধবপুরে পোলট্রি মোরগের দোকানগুলোতে ডিজিটাল পাল্লায় চলছে ডিজিটাল চুরি

আপডেট সময় ০৮:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২

মাধবপুর উপজেলায় পোলট্রি মোরগের দোকানগুলোতে ডিজিটাল পাল্লায় বর্তমানে চলে মুরগী বিক্রি।সাথে ডিজিটাল চুরি করছে মানুষের সাথে।

আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে পাল্লায় পণ্য ওজনের ক্ষেত্রেও এসেছে আধুনিকতা। একটা সময় দোকানে ওজন মাপার জন্য ব্যবহার করা হতো বাটকারা কিন্তু বর্তমানে সেই বাটকারার পাল্লা নেই বললেই চলে। আধুনিকতার ছোঁয়াকে পুঁজি করে অসাধু মুরগী ব্যবসায়ীরা হরহামেশাই গ্রাহকদেরকে ঠকাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুরগি ব্যবসায়ী জানান, বাজারের প্রায় সকল মুরগী দোকানগুলোতে পোল্ট্রি মুরগী ওজন করতে ডিজিটাল পাল্লা ব্যবহার করা হয়। আর এই ডিজিটাল পাল্লায় চলছে নিরবে ডিজিটাল কারচুপি। পোল্ট্রি মুরগী কিনতে আসা গ্রাহকদেরকে ওজনে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০০-৩০০ গ্রাম ওজন কম দিচ্ছে।

কিভাবে কম দিচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে কারচুপির আসল কাহিনী, বাজারে প্রত্যেক্টা পোল্ট্রি মুরগী বিক্রয়ের দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেকটি ডিজিটাল পাল্লায় এক ধরনের রিমোট সিস্টেম লাগানো থাকে। সেই সিস্টেমকে দূর থেকে রিমোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মুরগী ওজন করার সময় সেই রিমোটে চাপ দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুরগীর ওজন কেজিতে ২০০-৩০০ গ্রাম বেড়ে যায় এবং সে অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে দাম রাখা হয়।

আবার সেই একই মুরগীকে অন্য সঠিক একটি পাল্লায় মাপা হলে সেটাতে প্রতি কেজিতে ২০০-৩০০ গ্রাম বা তারও বেশি কম পাওয়া যায়। এই রকমভাবে ২ কেজি ওজনের বা তারও বেশি একটি মুরগি ক্রয় করার পর সেটা অন্য একটি নির্ভুল পাল্লায় মাপা হলে যাদুর মতই প্রায় ৪০০-৫০০ গ্রাম মুরগীর ওজন হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। আবার কোন কোন পাল্লায় এক প্রকার তার সংযোজন করা থাকে এবং সেই তার মাটির নিচ দিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালে দোকান মালিকের পায়ের নিচে রাখা হয়। যখনই মুরগী পাল্লায় তোলা হয় মাপার জন্য তখন পায়ের নিচে রাখা তারের মধ্যে চাপ দিলে পাল্লায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০০-৩০০গ্রাম বেশি ওজন চলে আসে। গ্রাহকদের কোন কিছু বোঝার উপায় নেই।

পাল্লায় কম দেয়া নিয়ে কয়েকবার বাজারে মুরগী ব্যবসায়ী ও গ্রাকদের সাথে ঝগড়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন সঠিক সমাধানে আসেনি মুরগী ব্যবসায়ীরা। মাধবপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটি এবং প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবে দিনের পর দিন মুরগী ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের সাথে এমন প্রতারণা করে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছে। প্রশাসন বাজার মনিটরিং না করলে এই সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন, এই ব্যাপারে আমরা খুব শীগ্রই বাজারে অভিযান দিব এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। হবিগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা বলেন, এই ব্যাপারে অবগত হয়েছি কিছুদিনের মধ্যেই অভিযানে যাবো