হবিগঞ্জ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুরির অপরাধে যুবককে গণপিটুনি না দিয়ে ২০০ রাকাত নামাজের শর্তে ছেড়ে দিলেন স্থানীয়রা Logo চুনারুঘাটে নিখোঁজ আব্দুল আলীকে অপহরণের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে ছেলের দাবি, ‘বাবাকে উদ্ধার করুন’ Logo চুনারুঘাটে গাঁজা সেবনের দায়ে ৫ জনের কারাদণ্ড Logo হাজী ইয়াছিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন Logo চুনারুঘাটে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার Logo চুনারুঘাটে ১২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ Logo উচ্চশিক্ষার জন্য জেমি পেলেন ৭৫ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক বৃত্তি Logo কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯ জনের ৮ জনই বাংলাদেশি Logo চুনারুঘাটে ধানের জমি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo চুনারুঘাটে ১১ পিস ইয়াবা ও ৮ লিটার চোলাইমদসহ দোকানদার গ্রেপ্তার

চুরির অপরাধে যুবককে গণপিটুনি না দিয়ে ২০০ রাকাত নামাজের শর্তে ছেড়ে দিলেন স্থানীয়রা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করার পর গণপিটুনি না দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নোয়াপাড়া বাজারে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ওই যুবককে স্থানীয়রা আটক করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে ঘিরে বাজারে অনেক মানুষ জড়ো হন। এ সময় কয়েকজন তাকে গণপিটুনি দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রা তাকে মারধর না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আটক যুবকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে গণপিটুনি না দিয়ে ২০০ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওই যুবক স্বেচ্ছায় নামাজ আদায় করেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাধে জড়িত হবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন বলে স্থানীয়রা জানান।

আটক যুবকের বাড়ি মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এর আগেও ওই যুবকের বিরুদ্ধে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আইনগতভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘মানবিক কারণে স্থানীয়রা যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে পুলিশের করণীয় থাকে না। তবে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।’

স্থানীয়রা জানান, অপরাধের অভিযোগে কাউকে গণপিটুনি না দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে চুরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর—এমন মতও দিয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুরির অপরাধে যুবককে গণপিটুনি না দিয়ে ২০০ রাকাত নামাজের শর্তে ছেড়ে দিলেন স্থানীয়রা

চুরির অপরাধে যুবককে গণপিটুনি না দিয়ে ২০০ রাকাত নামাজের শর্তে ছেড়ে দিলেন স্থানীয়রা

আপডেট সময় ১১:৩৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করার পর গণপিটুনি না দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নোয়াপাড়া বাজারে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ওই যুবককে স্থানীয়রা আটক করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে ঘিরে বাজারে অনেক মানুষ জড়ো হন। এ সময় কয়েকজন তাকে গণপিটুনি দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রা তাকে মারধর না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আটক যুবকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে গণপিটুনি না দিয়ে ২০০ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওই যুবক স্বেচ্ছায় নামাজ আদায় করেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাধে জড়িত হবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন বলে স্থানীয়রা জানান।

আটক যুবকের বাড়ি মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এর আগেও ওই যুবকের বিরুদ্ধে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আইনগতভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘মানবিক কারণে স্থানীয়রা যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে পুলিশের করণীয় থাকে না। তবে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।’

স্থানীয়রা জানান, অপরাধের অভিযোগে কাউকে গণপিটুনি না দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে চুরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর—এমন মতও দিয়েছেন স্থানীয়রা।