জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৫ আগস্ট) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। সকাল ১০টায় জুলাই-আগস্টের বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।
পরে সকাল সাড়ে ১০টায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল পৌনে ১১টায় প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে থেকে শুরু হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান র্যালি’। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
র্যালি শেষে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় উপাচার্যের বাণী প্রচার করা হয়। এরপর সকাল সোয়া ১১টায় প্রশাসনিক ভবন-২ (টিআর প্যালেস)-এ বিশেষ আলোচনা সভা ও জুলাই-আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক। সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। এ সময় জুলাই আন্দোলনে হবিগঞ্জের প্রথম শহীদ রিপন শিলের বড় বোন সম্পা রাণী শিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়, সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করতে হবে। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক অনন্য অধ্যায়। তরুণ সমাজকে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, যুগোপযোগী শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়।
স্টাফ রিপোর্টার : 










