হবিগঞ্জ ১২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে গাতাবলা আর-রাফী মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পন্ন Logo চুনারুঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান ও তাঁতীলীগ সভাপতি জামাল মিয়া গ্রেপ্তার Logo হবিগঞ্জের সুঘর গ্রামের বানবাসীদের মাঝে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ Logo চুনারুঘাটের মেয়ে দীপ্তিতা দাশ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ তদারকিতে খাদ্য বিভাগ Logo চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর বাজারের চাল বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ইউএনও Logo চুনারুঘাটে যৌথ অভিযানে ৭ অবৈধ করাতকল সিলগালা Logo ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের আন্দোলন

হাসপাতাল ও নতুন থানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেন সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার একটি আলোকিত অঞ্চল রতনপুর-মাদারগড়া -নোয়াপাড়া। এক সময় কৃষি সমৃদ্ধ রঘুনন্দন অববাহিকার এ অঞ্চলটি আজ শিক্ষায় আলোকিত। প্রকৌশল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, ব্যাংকিং ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ দেশ ও প্রবাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এ তিন গ্রামের সন্তানরা আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরীর লক্ষ্যে, তিনটি গ্রাম সংলগ্ন চা-বাগান মাঠে ২৯ মে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি উৎসব-২০২৬। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ বিন কাসেম এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনরত এলাকার সন্তানরা বসেছিলেন দর্শক সারিতে। একে অন্যের সাথে কুশল বিনিময়, আলাপচারিতা, গল্প আড্ডায় জমে উঠেছিল প্রীতি উৎসব। স্মৃতিচারণে যেমন আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল, এক বৃন্তে মিলিত হওয়ার উচ্ছ্বাসটাও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় সংসদ সদস্য, সায়হাম শিল্প গোষ্টির স্বপ্নদ্রষ্টা শিল্পনগরী নোয়াপাড়ার পথপ্রদর্শক সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল এর ব্যতিক্রমী ভালোবাসা আর আবেগ ঘন বক্তব্য অনুষ্ঠানটিকে আরও মহিমান্বিত করে তুলেছিল।

সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল তাঁর বক্তব্যে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নয়, এলাকার একজন হয়ে দর্শক সারিতে বসাটাই তাঁর জন্য যথোপযুক্ত  ছিল। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে, মরহুম ডা: আলাউদ্দিন, ড. মুহাম্মদ ফরাসউদ্দীন ও ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ সহ এলাকার মানুষদের সংগে পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর সহমর্মিতার স্মৃতিচারণ করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাধবপুরের উত্তরাঞ্চল নিয়ে বিগত সরকারের সময় রতনপুরে একটি থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অনেকদূর এগিয়েছিল। একজন জনপ্রতিনিধির অসহযোগিতায় অত্যন্ত যৌক্তিক হওয়া সত্ত্বেও, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়নি। দর্শক সারিতে উপস্থিত এলাকার বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ প্রধান অতিথির মুখে তাদের এই প্রাণের আকুতির কথা শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে ওঠেন। সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন,  দ্রুততম সময়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটিকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

শিল্পায়নের ফলে এলাকার জনসংখ্যা আজ দ্বিগুণেরও বেশি। সে হিসেবে সরকারি স্বাস্থ্য সেবার পরিধি বাড়েনি। সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, তিনি একটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, নতুন হাসপাতালটিও রতনপুর এলাকায় স্থাপিত হবে। এলাকাবাসীর সুদীর্ঘ  দিনের আকাঙ্ক্ষা, একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। সেটি বাস্তবায়নেও তিনি দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম নোয়াপাড়া আর ধর্মঘর কেন ব্যতিক্রমী কর্মস্থল সেটি তুলে ধরে বলেন, রতনপুর-মাদারগড়া-নোয়াপাড়া শুধু এ অঞ্চল নয়, সমগ্র হবিগঞ্জ তথা দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে সক্ষম। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার আলোতে এভাবেই একদিন বাংলাদেশ বদলে যাবে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এলাকাটিতে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একটি পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকাবাসী যেমন সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাবে, সরকারেরও রাজস্ব আহরণের একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ

হাসপাতাল ও নতুন থানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেন সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল

আপডেট সময় ০১:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার একটি আলোকিত অঞ্চল রতনপুর-মাদারগড়া -নোয়াপাড়া। এক সময় কৃষি সমৃদ্ধ রঘুনন্দন অববাহিকার এ অঞ্চলটি আজ শিক্ষায় আলোকিত। প্রকৌশল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, ব্যাংকিং ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ দেশ ও প্রবাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এ তিন গ্রামের সন্তানরা আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরীর লক্ষ্যে, তিনটি গ্রাম সংলগ্ন চা-বাগান মাঠে ২৯ মে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি উৎসব-২০২৬। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ বিন কাসেম এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনরত এলাকার সন্তানরা বসেছিলেন দর্শক সারিতে। একে অন্যের সাথে কুশল বিনিময়, আলাপচারিতা, গল্প আড্ডায় জমে উঠেছিল প্রীতি উৎসব। স্মৃতিচারণে যেমন আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল, এক বৃন্তে মিলিত হওয়ার উচ্ছ্বাসটাও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় সংসদ সদস্য, সায়হাম শিল্প গোষ্টির স্বপ্নদ্রষ্টা শিল্পনগরী নোয়াপাড়ার পথপ্রদর্শক সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল এর ব্যতিক্রমী ভালোবাসা আর আবেগ ঘন বক্তব্য অনুষ্ঠানটিকে আরও মহিমান্বিত করে তুলেছিল।

সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল তাঁর বক্তব্যে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নয়, এলাকার একজন হয়ে দর্শক সারিতে বসাটাই তাঁর জন্য যথোপযুক্ত  ছিল। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে, মরহুম ডা: আলাউদ্দিন, ড. মুহাম্মদ ফরাসউদ্দীন ও ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ সহ এলাকার মানুষদের সংগে পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর সহমর্মিতার স্মৃতিচারণ করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাধবপুরের উত্তরাঞ্চল নিয়ে বিগত সরকারের সময় রতনপুরে একটি থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অনেকদূর এগিয়েছিল। একজন জনপ্রতিনিধির অসহযোগিতায় অত্যন্ত যৌক্তিক হওয়া সত্ত্বেও, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়নি। দর্শক সারিতে উপস্থিত এলাকার বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ প্রধান অতিথির মুখে তাদের এই প্রাণের আকুতির কথা শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে ওঠেন। সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন,  দ্রুততম সময়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটিকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

শিল্পায়নের ফলে এলাকার জনসংখ্যা আজ দ্বিগুণেরও বেশি। সে হিসেবে সরকারি স্বাস্থ্য সেবার পরিধি বাড়েনি। সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, তিনি একটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, নতুন হাসপাতালটিও রতনপুর এলাকায় স্থাপিত হবে। এলাকাবাসীর সুদীর্ঘ  দিনের আকাঙ্ক্ষা, একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। সেটি বাস্তবায়নেও তিনি দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম নোয়াপাড়া আর ধর্মঘর কেন ব্যতিক্রমী কর্মস্থল সেটি তুলে ধরে বলেন, রতনপুর-মাদারগড়া-নোয়াপাড়া শুধু এ অঞ্চল নয়, সমগ্র হবিগঞ্জ তথা দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে সক্ষম। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার আলোতে এভাবেই একদিন বাংলাদেশ বদলে যাবে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এলাকাটিতে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একটি পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকাবাসী যেমন সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাবে, সরকারেরও রাজস্ব আহরণের একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।