হবিগঞ্জ ১০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা Logo হবিগঞ্জ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের ৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন Logo চুনারুঘাটে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জেরে পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের হামলায় আহত ৪ জন Logo ঢাকার হামলা মামলার জেরে বৃদ্ধাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, মাধবপুর থানায় জিডি Logo দেওরগাছ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: তরুণ ভোটারদের আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থী মারুফ Logo চুনারুঘাটের উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এমপি ফয়সল Logo দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা Logo মিষ্টি ওজনে কম দেওয়ায় চুনারুঘাটে হোটেলকে জরিমানা Logo চুনারুঘাটে কোয়াবের ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন Logo মাধবপুরে হামলার শিকার পরিবারই মামলার আসামি, বিচার দাবি
ধামাইল দিবস উদযাপন

ধামাইল শিল্পী কুমকুম রানী চন্দকে আজীবন সম্মাননা

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ধামালি চুনারুঘাট’ ধামাইল শিল্পী ও সংগ্রাহক কুমকুম রানী চন্দকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৬ মে ) ধামাইল দিবস ও রাধারমণ স্মরণ দিবস উপলক্ষে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এছাড়াও দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। ধামাইল নৃত্যের প্রবর্তক, বৈষ্ণব সাধক ও লোককবি রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশপুর গ্রামে তাঁর সমাধি চত্বরে এ আয়োজন করে ‘ধামালি চুনারুঘাট’।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও ধামাইলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

তিন পর্বে সাজানো অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে রাধারমণ দত্তের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় ‘ধামালি চুনারুঘাট’, ‘বাংলাদেশ ধামাইল উন্নয়ন পরিষদ’, ‘হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ’, ‘রাইবিনোদিনী ধামাইল সংঘ’, ‘কৃষ্ণকলি ধামাইল সংঘ’, ‘মোহিনী ধামাইল সংঘ’, ‘বিনোদন ধামাইল সংঘ’ ও ‘বিনাপানি ধামাইল সংঘ’সহ বিভিন্ন সংগঠন।

দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় আজীবন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সপ্রবাসী গীতিকবি শ্যামল কান্তি দাশ, ধামাইল সংগঠক ও গীতিকবি রাজীব কান্তি দে, ‘মোহিনী গ্যালারি’র কর্ণধার সুপ্রভা রাণী কর, ধামাইল শিল্পী নীপা সূত্রধর, উমা দাস, মলিন্দ্র দাশ অমিত ও মাধুরী তালুকদার প্রমুখ।

এ ছাড়া ‘ধামালি চুনারুঘাট’-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কণ্ঠশিল্পী হাবিব শিমু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও ‘ধামাইল কন্যা’খ্যাত দিতি দাস, সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী জোবায়েদ জুয়েল এবং প্রীতি দাস।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধামাইল ও রাধারমণের গান নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া শিল্পী ও সাধকদের সম্মান জানাতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহাম্মদ বাহার বলেন, “আমরা এমন একজন ব্যক্তিকেই এই সম্মাননা প্রদান করি, যিনি সারাজীবন ধামাইল চর্চা ও সংরক্ষণে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।”

সম্মাননা গ্রহণ করে কুমকুম রানী চন্দ বলেন, “ধামালি চুনারুঘাটের এ আয়োজনের কারণেই জীবনে প্রথমবারের মতো রাধারমণ দত্তের সমাধি মন্দিরে আসার সুযোগ হলো। এজন্য আমি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে শিল্পীরা পরিবেশন করেন রাধারমণের কালজয়ী গান। ধামাইলের তালে তালে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধামাইল শিল্পী, রাধারমণভক্ত ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৬ মে রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটিকে ‘জাতীয় ধামাইল দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে ‘ধামালি চুনারুঘাট’। এর আগে একই বছরের ১৮ মে সংগঠনটি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ধামাইল দিবস’ পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর সিলেটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা ‘রাধারমণ স্মরণ দিবস’ এবং ‘ধামাইল দিবস’ পালন করে আসছেন।

দীর্ঘদিন ধরে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সংগঠনটির সভাপতি, লোকসংস্কৃতি সংগ্রাহক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহাম্মদ বাহার। তিনি বলেন, “ধামাইল আমাদের সিলেটের লোকঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের অন্যতম বাহক।

আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধামাইলপ্রেমীরা রাধারমণ দত্তের সমাধি প্রাঙ্গণে সমবেত হয়েছেন। আমরা চাই, সরকারিভাবে এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং ২৬ মে-কে ‘জাতীয় ধামাইল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা

ধামাইল দিবস উদযাপন

ধামাইল শিল্পী কুমকুম রানী চন্দকে আজীবন সম্মাননা

আপডেট সময় ১২:১৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ধামালি চুনারুঘাট’ ধামাইল শিল্পী ও সংগ্রাহক কুমকুম রানী চন্দকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৬ মে ) ধামাইল দিবস ও রাধারমণ স্মরণ দিবস উপলক্ষে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এছাড়াও দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। ধামাইল নৃত্যের প্রবর্তক, বৈষ্ণব সাধক ও লোককবি রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশপুর গ্রামে তাঁর সমাধি চত্বরে এ আয়োজন করে ‘ধামালি চুনারুঘাট’।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও ধামাইলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

তিন পর্বে সাজানো অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে রাধারমণ দত্তের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় ‘ধামালি চুনারুঘাট’, ‘বাংলাদেশ ধামাইল উন্নয়ন পরিষদ’, ‘হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ’, ‘রাইবিনোদিনী ধামাইল সংঘ’, ‘কৃষ্ণকলি ধামাইল সংঘ’, ‘মোহিনী ধামাইল সংঘ’, ‘বিনোদন ধামাইল সংঘ’ ও ‘বিনাপানি ধামাইল সংঘ’সহ বিভিন্ন সংগঠন।

দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় আজীবন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সপ্রবাসী গীতিকবি শ্যামল কান্তি দাশ, ধামাইল সংগঠক ও গীতিকবি রাজীব কান্তি দে, ‘মোহিনী গ্যালারি’র কর্ণধার সুপ্রভা রাণী কর, ধামাইল শিল্পী নীপা সূত্রধর, উমা দাস, মলিন্দ্র দাশ অমিত ও মাধুরী তালুকদার প্রমুখ।

এ ছাড়া ‘ধামালি চুনারুঘাট’-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কণ্ঠশিল্পী হাবিব শিমু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও ‘ধামাইল কন্যা’খ্যাত দিতি দাস, সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী জোবায়েদ জুয়েল এবং প্রীতি দাস।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধামাইল ও রাধারমণের গান নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া শিল্পী ও সাধকদের সম্মান জানাতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহাম্মদ বাহার বলেন, “আমরা এমন একজন ব্যক্তিকেই এই সম্মাননা প্রদান করি, যিনি সারাজীবন ধামাইল চর্চা ও সংরক্ষণে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।”

সম্মাননা গ্রহণ করে কুমকুম রানী চন্দ বলেন, “ধামালি চুনারুঘাটের এ আয়োজনের কারণেই জীবনে প্রথমবারের মতো রাধারমণ দত্তের সমাধি মন্দিরে আসার সুযোগ হলো। এজন্য আমি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে শিল্পীরা পরিবেশন করেন রাধারমণের কালজয়ী গান। ধামাইলের তালে তালে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধামাইল শিল্পী, রাধারমণভক্ত ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৬ মে রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটিকে ‘জাতীয় ধামাইল দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে ‘ধামালি চুনারুঘাট’। এর আগে একই বছরের ১৮ মে সংগঠনটি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ধামাইল দিবস’ পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর সিলেটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা ‘রাধারমণ স্মরণ দিবস’ এবং ‘ধামাইল দিবস’ পালন করে আসছেন।

দীর্ঘদিন ধরে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সংগঠনটির সভাপতি, লোকসংস্কৃতি সংগ্রাহক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহাম্মদ বাহার। তিনি বলেন, “ধামাইল আমাদের সিলেটের লোকঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের অন্যতম বাহক।

আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধামাইলপ্রেমীরা রাধারমণ দত্তের সমাধি প্রাঙ্গণে সমবেত হয়েছেন। আমরা চাই, সরকারিভাবে এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং ২৬ মে-কে ‘জাতীয় ধামাইল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক।”