হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ঢাকাগামী একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস থেকে ১০০ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক জাতীয় ‘এসকাফ’ (ESkuf) সিরাপসহ মোঃ নাজমুল হোসাইন নাহিদ (২০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (২০ মে) দিবাগত গভীর রাতে চুনারুঘাট থানাধীন ৭নং উবাহাটা ইউনিয়নের নতুনব্রীজ গোলচত্বর হাইওয়ে এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃত নাজমুল হোসাইন নাহিদ সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের পাড়ুয়া বটেরতল গ্রামের মোঃ মস্তফার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ তারেক নাজিরের নেতৃত্বে পিএসআই সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল পাম্পু বড়ুয়া ও কনস্টেবল হাফিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার রাতে ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদকবিরোধী ডিউটিতে ছিলেন।
রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে শ্রীকুটা বাজার এলাকায় অবস্থানকালে তারা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এমআর পরিবহন’ নামের একটি বাসে যাত্রীবেশে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলামকে অবহিত করা হলে তাঁর নির্দেশনায় নতুনব্রীজ গোলচত্বর এলাকায় রাত ১২টা ১০ মিনিটে একটি জরুরি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
পরে রাত ১২টা ৪১ মিনিটে সন্দেহভাজন বাসটি চেকপোস্টে পৌঁছালে পুলিশ বাস থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এসময় যাত্রী নাজমুল হোসাইন নাহিদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তার কাছে থাকা একটি রেক্সিন কাপড়ের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে ব্যাগের ভেতর বিশেষ কৌশলে রাখা ১০০ বোতল ভারতীয় অবৈধ ‘ESkuf’ কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। প্রতি বোতলে ১০০ এমএল করে মোট ১০ লিটার তরল মাদক জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত সিরাপে কোডিন ও ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইড জাতীয় মাদক উপাদান রয়েছে। রাত দেড়টার দিকে উপস্থিত সাক্ষীদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যগুলো জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নাহিদ পুলিশকে জানিয়েছে, সে দীর্ঘদিন ধরে আরও কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কম দামে এসব মাদক সংগ্রহ করে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল।
চুনারুঘাট থানা পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ) ও ৪১ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২১ মে) আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোঃ মাসুদ আলম: 

















