হবিগঞ্জ ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর’ উদযাপনে হবিগঞ্জে র‍্যালি ও গ্রাহক সম্মেলন Logo চুনারুঘাট থানায় ১২ দিনে প্রত্যাহার ৪ পুলিশ সদস্য Logo তরুণ আলোকচিত্রী মারুফের ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’, প্রকৃতির সৌন্দর্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি Logo লন্ডনে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের জাতীয় সম্মেলন সফল করার আহ্বান Logo চুনারুঘাটে ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, এএসআই অতনু প্রত্যাহার Logo চুনারুঘাটে হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ, তদন্ত কমিটি গঠন Logo চুনারুঘাটে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ: হাসপাতাল পরিদর্শনে জামায়াত নেতারা Logo আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই-এএসআই ইলিয়াছ Logo সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ রেহেনার দেশে ফেরার আকুতি Logo চুনারুঘাটে সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নয়নে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস

চোলাই মদ বিক্রির দায়ে কথিত সমাজসেবক নিরঞ্জন সাহা ও তার ভাই সস্ত্রীক কারাগারে

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে চোলাই মদ বিক্রির অভিযোগে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কথিত সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী নিরঞ্জন সাহা (নিরু), তার স্ত্রী লিপি রাণী সাহা এবং তার ভাই নিখিল সাহাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সম্প্রতি সুনামগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আকবর হোসাইনের আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের এক আইনজীবী জানান, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আনা অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় আদালত তাদের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দিরাই থানার এসআই নিউটন মৃধা দিরাই পৌরসভার হারানপুর এলাকায় নিরঞ্জন সাহার মদের দোকানে অভিযান চালান। এ সময় দোকান থেকে প্রায় দেড় হাজার লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। যদিও কেরু অ্যান্ড কোম্পানির দেশীয় মদ বিক্রির লাইসেন্স ছিল, তবে সেই লাইসেন্সের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চোলাই মদ বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযানকালে দোকানের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিরঞ্জন সাহা, তার স্ত্রী লিপি রাণী সাহা, ভাই নিখিল সাহা এবং আটক দুই কর্মচারীসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ১/২৬)।

মামলার পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত ১৫ মার্চ তারা সুনামগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তারা সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, নিরঞ্জন সাহার বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকায়। তিনি দিরাইয়ে মদের ব্যবসা পরিচালনা করলেও বাহুবলে বিভিন্ন দান-অনুদানের মাধ্যমে নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া তিনি মিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরঞ্জন সাহা ও তার অনুসারীরা প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর’ উদযাপনে হবিগঞ্জে র‍্যালি ও গ্রাহক সম্মেলন

চোলাই মদ বিক্রির দায়ে কথিত সমাজসেবক নিরঞ্জন সাহা ও তার ভাই সস্ত্রীক কারাগারে

আপডেট সময় ০২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে চোলাই মদ বিক্রির অভিযোগে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কথিত সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী নিরঞ্জন সাহা (নিরু), তার স্ত্রী লিপি রাণী সাহা এবং তার ভাই নিখিল সাহাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সম্প্রতি সুনামগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আকবর হোসাইনের আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের এক আইনজীবী জানান, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আনা অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় আদালত তাদের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দিরাই থানার এসআই নিউটন মৃধা দিরাই পৌরসভার হারানপুর এলাকায় নিরঞ্জন সাহার মদের দোকানে অভিযান চালান। এ সময় দোকান থেকে প্রায় দেড় হাজার লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। যদিও কেরু অ্যান্ড কোম্পানির দেশীয় মদ বিক্রির লাইসেন্স ছিল, তবে সেই লাইসেন্সের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চোলাই মদ বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযানকালে দোকানের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিরঞ্জন সাহা, তার স্ত্রী লিপি রাণী সাহা, ভাই নিখিল সাহা এবং আটক দুই কর্মচারীসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ১/২৬)।

মামলার পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত ১৫ মার্চ তারা সুনামগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তারা সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, নিরঞ্জন সাহার বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকায়। তিনি দিরাইয়ে মদের ব্যবসা পরিচালনা করলেও বাহুবলে বিভিন্ন দান-অনুদানের মাধ্যমে নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া তিনি মিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরঞ্জন সাহা ও তার অনুসারীরা প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।