হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্তে খোয়াই নদী থেকে ভেসে আসা একটি ভারতীয় গাভী উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় মানবিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই থানাধীন মরানদী এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে একটি গবাদি পশু চুরি করে পাচারকারী চক্র। স্থলপথের পরিবর্তে তারা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তঘেঁষা খোয়াই নদীপথ ব্যবহার করে গরুটি পাচারের চেষ্টা চালায়।
গতকাল বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন খোয়াই নদীতে একটি গবাদি পশু ভাসতে দেখে বিষয়টি ভারতের খোয়াই থানাকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে খোয়াই থানার অফিসার ইনচার্জ কৃষ্ণ ধন সরকার দ্রুত বিষয়টি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জানান।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিএসএফ কমান্ডেন্ট সূর্যভান সিংহ তাৎক্ষণিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমানের নির্দেশনায় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
খোয়াই থানার পুলিশ, বিএসএফ ও বিজিবির সমন্বিত প্রচেষ্টায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় গরুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গরুটি প্রকৃত মালিক জয়ন্তী নামের এক নারীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হারানো গাভী ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই নারী। তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আর কোনোদিন আমার গরুটিকে ফিরে পাব না। আজ গরুটি ফিরে পেয়ে আমার সংসারে আবারও হাসি ফিরেছে।” এ সময় তিনি দুই দেশের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগেও খোয়াই নদীপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাচার করা একটি দামী পালসার মোটরসাইকেল একইভাবে খোয়াই থানার পুলিশ, বিএসএফ ও বিজিবির যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার করে ভারতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। আবারও একই কৌশলে চোরাই গবাদি পশু উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর দক্ষতা ও আন্তরিকতা নতুন করে প্রশংসিত হয়েছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, দ্রুত সমন্বয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর এমন উদ্যোগ শুধু অপরাধ দমনেই নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
চুনারুঘাট প্রতিনিধি : 


















