টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও চুনারুঘাট থেকে সুমরা চা বাগান পর্যন্ত সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফলে দুই উপজেলা চুনারুঘাট-মাধবপুরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্ডিছড়া, সাতছড়ি, চাকলাপুঞ্জি ও বেগমখাঁন ছড়ার ওপর নির্মিত ব্রিজগুলোর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি ব্রিজের একপাশের সংযোগ সড়কের মাটি ধসে গেছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে ক্ষয় বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ছড়া থেকে অপরিকল্পিতভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ছড়াগুলোর গভীরতা ও প্রশস্ততা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় যেখানে ছড়াগুলোর প্রস্থ ছিল প্রায় ১০ ফুট, বর্তমানে তা কোথাও ৫০ ফুট, কোথাও ৭০ ফুট, আবার কোথাও ১০০ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের সময় পানির তীব্র স্রোতে ছড়ার দুই পাশের বাগান ও সড়কের মাটি ভেঙে যাচ্ছে।
বিশেষ করে পাহাড়ি ঢলে রামগঙ্গা এলাকায় নির্মিত একটি যাত্রী ছাউনি ও বিউটিফুল চুনারুঘাটের নামফলক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে চা বাগান ভেঙ্গে একেবারে সড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে। এ অবস্থায় চা-বাগানগুলোও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হাজার হাজার চা-গাছ প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যাচ্ছে। ক্রমাগত ভাঙনের কারণে চা-বাগানের আয়তনও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিবছর একদিকে চা-বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সড়ক ও ব্রিজ রক্ষণাবেক্ষণের নামে সরকারের
কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার কয়েকটি সড়ক এবং চারটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও ব্রিজ দ্রুত সংস্কারের জন্য সড়ক বিভাগ কাজ করছে।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলো দ্রুত সংস্কার এবং পাহাড়ি ছড়াগুলোতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, চলমান বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
খন্দকার আলাউদ্দিনঃ 


















