হবিগঞ্জ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাধবপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo চুনারুঘাটে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠিত Logo চুনারুঘাটে অগ্রগামী মডেল কেজি স্কুল ও পাঠাগারে নজরুল বর্ষ উদযাপন Logo এইচএসসি পরীক্ষায় চুনারুঘাটের কলেজগুলোতে পাসের হার ৪৪.৬৮%, মাদ্রাসায় ৬৮.০৬% Logo চুনারুঘাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের বৃক্ষরোপণ Logo চুনারুঘাটে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বহিষ্কার Logo চুনারুঘাটে কৃষকের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতা হাবিবের বিরুদ্ধে Logo জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে বনবিভাগের অভিযানে আকাশমনি কাঠের ৬ টুকরা গোলকাঠ জব্দ

চুনারুঘাটে পাহাড়ি ঢলে ব্রিজে ধস, ২ চা বাগানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ

টানা কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের সংযোগ সড়কের একটি সেতু ধসে পড়েছে। এতে দুই চা বাগানের প্রায় ৮ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে উৎপাদিত চা পাতা পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাগান দুটির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত
টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচ সড়কসহ মাঝের অংশ ধসে পড়ে। ফলে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের হাজারো মানুষের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাগানের এই সড়কে সেতুটি নির্মাণ করে। লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের প্রায় ২ হাজার শ্রমিক পরিবারের ৮ হাজার মানুষ এ সেতুর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কাপাই চা বাগানের শিক্ষার্থীরা লস্করপুরে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত এই সেতু দিয়ে। এছাড়া কাপাই বাগানে উৎপাদিত চা পাতাও লস্করপুর কারখানায় নেওয়া হতো এই পথেই।

চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াহেদ আলী মাস্টার জানান, কাপাই চা বাগানে প্রায় ৫’শ শ্রমিক ও ২ হাজার বাসিন্দা এবং লস্করপুর চা বাগানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শ্রমিকসহ প্রায় ৬ হাজার মানুষের বসবাস। সেতুটি ধসে যাওয়ায় দুই বাগানের প্রায় ৮ হাজার মানুষ এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তিনি আরও জানান, বৃষ্টি হলেই সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকার পানি সেতুর নিচের ছড়া দিয়ে নেমে আসে। গত কয়েক বছরে ছড়াটি ছোট নদীর রূপ নেওয়ায় সেতুটি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু সময়মতো সংস্কার বা মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত রবিবার ও সোমবার রাতের পাহাড়ি ঢলে সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধসে যায়।

লস্করপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. সাজ্জাদুল হক বলেন, “কাপাই বাগানের চা পাতা এখন কয়েকটি বাগান ঘুরে মহাসড়ক হয়ে কারখানায় আনতে হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়ে গেছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের চলাচলেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর মাঝের পিলারও ভেঙে পড়েছে। তাই এটি মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব নয়; সেখানে নতুন সেতু নির্মাণই একমাত্র সমাধান।”

চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, চা বাগান কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দ্রুত সদর দপ্তরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, সেতুটি ধসের পরপরই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। আপাতত মেরামতের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।

মাধবপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

চুনারুঘাটে পাহাড়ি ঢলে ব্রিজে ধস, ২ চা বাগানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ

আপডেট সময় ০৬:১৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

টানা কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের সংযোগ সড়কের একটি সেতু ধসে পড়েছে। এতে দুই চা বাগানের প্রায় ৮ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে উৎপাদিত চা পাতা পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাগান দুটির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত
টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচ সড়কসহ মাঝের অংশ ধসে পড়ে। ফলে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের হাজারো মানুষের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাগানের এই সড়কে সেতুটি নির্মাণ করে। লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের প্রায় ২ হাজার শ্রমিক পরিবারের ৮ হাজার মানুষ এ সেতুর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কাপাই চা বাগানের শিক্ষার্থীরা লস্করপুরে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত এই সেতু দিয়ে। এছাড়া কাপাই বাগানে উৎপাদিত চা পাতাও লস্করপুর কারখানায় নেওয়া হতো এই পথেই।

চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াহেদ আলী মাস্টার জানান, কাপাই চা বাগানে প্রায় ৫’শ শ্রমিক ও ২ হাজার বাসিন্দা এবং লস্করপুর চা বাগানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শ্রমিকসহ প্রায় ৬ হাজার মানুষের বসবাস। সেতুটি ধসে যাওয়ায় দুই বাগানের প্রায় ৮ হাজার মানুষ এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তিনি আরও জানান, বৃষ্টি হলেই সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকার পানি সেতুর নিচের ছড়া দিয়ে নেমে আসে। গত কয়েক বছরে ছড়াটি ছোট নদীর রূপ নেওয়ায় সেতুটি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু সময়মতো সংস্কার বা মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত রবিবার ও সোমবার রাতের পাহাড়ি ঢলে সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধসে যায়।

লস্করপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. সাজ্জাদুল হক বলেন, “কাপাই বাগানের চা পাতা এখন কয়েকটি বাগান ঘুরে মহাসড়ক হয়ে কারখানায় আনতে হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়ে গেছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের চলাচলেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর মাঝের পিলারও ভেঙে পড়েছে। তাই এটি মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব নয়; সেখানে নতুন সেতু নির্মাণই একমাত্র সমাধান।”

চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, চা বাগান কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দ্রুত সদর দপ্তরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, সেতুটি ধসের পরপরই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। আপাতত মেরামতের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।