হবিগঞ্জ ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের বৃক্ষরোপণ Logo চুনারুঘাটে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বহিষ্কার Logo চুনারুঘাটে কৃষকের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতা হাবিবের বিরুদ্ধে Logo জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে বনবিভাগের অভিযানে আকাশমনি কাঠের ৬ টুকরা গোলকাঠ জব্দ Logo চুনারুঘাট ফটোগ্রাফি সোসাইটির ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের, আশঙ্কাজনক দুই বন্ধু Logo সহপরিবারে ওমরাহ হজ্বে গেলেন চুনারুঘাটের ব্রাদার্স ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী জহির আহমেদ Logo চুনারুঘাটে বৃহস্পতিবার নাশিদ সন্ধ্যা, অংশ নেবেন জনপ্রিয় শিল্পী ও ক্বারী
৭ বছরেও শেষ হয়নি ১২ কোটি টাকার কাজ

লাখাইয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, দীর্ঘসূত্রতা এবং যথাযথ তদারকির অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু, ইট ও মার্বেল টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে স্থাপনাটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিম্নমানের হওয়ায় এক দফা মার্বেল টাইলস ভেঙে ফেলা হয়। পরে পুনরায় যে টাইলস বসানো হয়েছে, সেটিও মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্লক ইটের পরিবর্তে দেশীয় ইট ব্যবহার এবং দেয়ালের প্লাস্টারে পলিমাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। পরে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরে পৃথক দুটি লিখিত পত্র পাঠিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং ধীরগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তবে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ‘টিবিইএল অ্যান্ড আইসি এমএসএল জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, “তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছর পেরিয়ে গেছে। কয়েকবার সময় বাড়ানো হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।”

আরেক বাসিন্দা সহিবুর রহমান বলেন, “ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার নির্মাণকাজে এমন অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

নির্মাণকাজের সাব-ঠিকাদার এজিবুল মিয়া বলেন, “কাজ কখন শেষ হবে, তা মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করছে। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেয়, আমরা সেভাবেই কাজ করি।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হেমায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, “আমরা প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে কাজ তদারকি করছে।”

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলীসহ তিনজনকে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ব্যবহৃত মার্বেল টাইলস, বালু ও ইটের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জানানো হলেও কোনো জবাব পাইনি।”

অন্যদিকে হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে নির্মাণকাজ তদারকি করছি। বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা হোক, যাতে কোটি টাকার এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের বৃক্ষরোপণ

৭ বছরেও শেষ হয়নি ১২ কোটি টাকার কাজ

লাখাইয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, দীর্ঘসূত্রতা এবং যথাযথ তদারকির অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু, ইট ও মার্বেল টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে স্থাপনাটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিম্নমানের হওয়ায় এক দফা মার্বেল টাইলস ভেঙে ফেলা হয়। পরে পুনরায় যে টাইলস বসানো হয়েছে, সেটিও মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্লক ইটের পরিবর্তে দেশীয় ইট ব্যবহার এবং দেয়ালের প্লাস্টারে পলিমাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। পরে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরে পৃথক দুটি লিখিত পত্র পাঠিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং ধীরগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তবে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ‘টিবিইএল অ্যান্ড আইসি এমএসএল জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, “তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছর পেরিয়ে গেছে। কয়েকবার সময় বাড়ানো হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।”

আরেক বাসিন্দা সহিবুর রহমান বলেন, “ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার নির্মাণকাজে এমন অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

নির্মাণকাজের সাব-ঠিকাদার এজিবুল মিয়া বলেন, “কাজ কখন শেষ হবে, তা মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করছে। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেয়, আমরা সেভাবেই কাজ করি।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হেমায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, “আমরা প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে কাজ তদারকি করছে।”

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলীসহ তিনজনকে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ব্যবহৃত মার্বেল টাইলস, বালু ও ইটের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জানানো হলেও কোনো জবাব পাইনি।”

অন্যদিকে হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে নির্মাণকাজ তদারকি করছি। বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা হোক, যাতে কোটি টাকার এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।