হবিগঞ্জ ০৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিএনপির রাজনীতি করে সব হারানো খিজির খান, এখনও বৈষম্যের শিকার Logo চুনারুঘাটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও ওজনে কম দেওয়ায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা Logo চুনারুঘাটে দলিল লেখক রিংকুর বাড়ি থেকে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ২ নারী মুচলেকায় মুক্ত Logo চুনারুঘাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা Logo হবিগঞ্জ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের ৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন Logo চুনারুঘাটে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জেরে পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের হামলায় আহত ৪ জন Logo ঢাকার হামলা মামলার জেরে বৃদ্ধাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, মাধবপুর থানায় জিডি Logo দেওরগাছ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: তরুণ ভোটারদের আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থী মারুফ Logo চুনারুঘাটের উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এমপি ফয়সল Logo দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা
৭ বছরেও শেষ হয়নি ১২ কোটি টাকার কাজ

লাখাইয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, দীর্ঘসূত্রতা এবং যথাযথ তদারকির অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু, ইট ও মার্বেল টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে স্থাপনাটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিম্নমানের হওয়ায় এক দফা মার্বেল টাইলস ভেঙে ফেলা হয়। পরে পুনরায় যে টাইলস বসানো হয়েছে, সেটিও মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্লক ইটের পরিবর্তে দেশীয় ইট ব্যবহার এবং দেয়ালের প্লাস্টারে পলিমাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। পরে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরে পৃথক দুটি লিখিত পত্র পাঠিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং ধীরগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তবে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ‘টিবিইএল অ্যান্ড আইসি এমএসএল জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, “তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছর পেরিয়ে গেছে। কয়েকবার সময় বাড়ানো হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।”

আরেক বাসিন্দা সহিবুর রহমান বলেন, “ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার নির্মাণকাজে এমন অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

নির্মাণকাজের সাব-ঠিকাদার এজিবুল মিয়া বলেন, “কাজ কখন শেষ হবে, তা মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করছে। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেয়, আমরা সেভাবেই কাজ করি।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হেমায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, “আমরা প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে কাজ তদারকি করছে।”

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলীসহ তিনজনকে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ব্যবহৃত মার্বেল টাইলস, বালু ও ইটের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জানানো হলেও কোনো জবাব পাইনি।”

অন্যদিকে হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে নির্মাণকাজ তদারকি করছি। বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা হোক, যাতে কোটি টাকার এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির রাজনীতি করে সব হারানো খিজির খান, এখনও বৈষম্যের শিকার

৭ বছরেও শেষ হয়নি ১২ কোটি টাকার কাজ

লাখাইয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, দীর্ঘসূত্রতা এবং যথাযথ তদারকির অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু, ইট ও মার্বেল টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে স্থাপনাটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিম্নমানের হওয়ায় এক দফা মার্বেল টাইলস ভেঙে ফেলা হয়। পরে পুনরায় যে টাইলস বসানো হয়েছে, সেটিও মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্লক ইটের পরিবর্তে দেশীয় ইট ব্যবহার এবং দেয়ালের প্লাস্টারে পলিমাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। পরে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরে পৃথক দুটি লিখিত পত্র পাঠিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং ধীরগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তবে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ‘টিবিইএল অ্যান্ড আইসি এমএসএল জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, “তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছর পেরিয়ে গেছে। কয়েকবার সময় বাড়ানো হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।”

আরেক বাসিন্দা সহিবুর রহমান বলেন, “ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার নির্মাণকাজে এমন অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

নির্মাণকাজের সাব-ঠিকাদার এজিবুল মিয়া বলেন, “কাজ কখন শেষ হবে, তা মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করছে। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেয়, আমরা সেভাবেই কাজ করি।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হেমায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, “আমরা প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে কাজ তদারকি করছে।”

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলীসহ তিনজনকে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ব্যবহৃত মার্বেল টাইলস, বালু ও ইটের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জানানো হলেও কোনো জবাব পাইনি।”

অন্যদিকে হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে নির্মাণকাজ তদারকি করছি। বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা হোক, যাতে কোটি টাকার এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।