হবিগঞ্জ ০৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে দলিল লেখক রিংকুর বাড়ি থেকে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ২ নারী মুচলেকায় মুক্ত Logo চুনারুঘাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা Logo হবিগঞ্জ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের ৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন Logo চুনারুঘাটে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জেরে পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের হামলায় আহত ৪ জন Logo ঢাকার হামলা মামলার জেরে বৃদ্ধাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, মাধবপুর থানায় জিডি Logo দেওরগাছ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: তরুণ ভোটারদের আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থী মারুফ Logo চুনারুঘাটের উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এমপি ফয়সল Logo দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা Logo মিষ্টি ওজনে কম দেওয়ায় চুনারুঘাটে হোটেলকে জরিমানা Logo চুনারুঘাটে কোয়াবের ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ফের সেগুনগাছ চুরি, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গভীর অরণ্যে অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে আবারও সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সেগুনগাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাতের আঁধারে উদ্যানের ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি সেগুনগাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ রবিবার  সরেজমিনে উদ্যানের বিভিন্ন  স্থানে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী বিশাল দুটি সেগুনগাছ কেটে নেওয়ার পর পড়ে আছে শুধু মোটা গোড়া ও চারপাশে ছড়িয়ে থাকা করাতের গুঁড়া। সেখান থেকে আরও পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এগিয়ে একই আকারের আরও কয়েকটি গাছ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। বনভূমির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে সম্প্রতি  কাটা গাছের শিকড় চোখে পড়ে, যা যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে বন উজাড়ের ভয়াবহতার।

বনের ভেতরে কথা হয় স্থানীয় এক ভিলেজারের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, পুরো বন ঘুরে দেখলে আগে পরে অন্তত ৮ থেকে ১০টি কাটা গাছের চিহ্ন পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, “মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই এসব গাছ কাটা হয়েছে। আগেও অনেক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এখনও পুরোনো শিকড় পড়ে আছে বিভিন্ন স্থানে।”

প্রায় ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ২০০৫ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা এই বন সাতটি প্রাকৃতিক ছড়ার জন্য পরিচিত। এখানে বিরল প্রজাতির উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনরুইসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। এছাড়া শতবর্ষী সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, করই ও নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ বনটিকে দিয়েছে অনন্য বৈচিত্র্য।

তবে বছরের পর বছর অবৈধভাবে গাছ কাটার কারণে বনটি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ ও পরিবেশগত ভারসাম্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছ চুরির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রে শুধু কাঠচোরই নয়, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যেরও যোগসাজশ রয়েছে।

একাধিক বাসিন্দা বলেন, “সবাই মিলে বনটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। না হলে এত বড় বড় গাছ কেটে নেওয়া সম্ভব হতো না।”

এ বিষয়ে সাতছড়ি রেঞ্জে (ভারপ্রাপ্ত ) বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ কিছুটা শনাক্ত করতে পেরেছে কারা জড়িত থাকতে পারে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে দলিল লেখক রিংকুর বাড়ি থেকে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ২ নারী মুচলেকায় মুক্ত

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ফের সেগুনগাছ চুরি, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

আপডেট সময় ১২:১৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গভীর অরণ্যে অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে আবারও সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সেগুনগাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাতের আঁধারে উদ্যানের ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি সেগুনগাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ রবিবার  সরেজমিনে উদ্যানের বিভিন্ন  স্থানে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী বিশাল দুটি সেগুনগাছ কেটে নেওয়ার পর পড়ে আছে শুধু মোটা গোড়া ও চারপাশে ছড়িয়ে থাকা করাতের গুঁড়া। সেখান থেকে আরও পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এগিয়ে একই আকারের আরও কয়েকটি গাছ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। বনভূমির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে সম্প্রতি  কাটা গাছের শিকড় চোখে পড়ে, যা যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে বন উজাড়ের ভয়াবহতার।

বনের ভেতরে কথা হয় স্থানীয় এক ভিলেজারের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, পুরো বন ঘুরে দেখলে আগে পরে অন্তত ৮ থেকে ১০টি কাটা গাছের চিহ্ন পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, “মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই এসব গাছ কাটা হয়েছে। আগেও অনেক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এখনও পুরোনো শিকড় পড়ে আছে বিভিন্ন স্থানে।”

প্রায় ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ২০০৫ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা এই বন সাতটি প্রাকৃতিক ছড়ার জন্য পরিচিত। এখানে বিরল প্রজাতির উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনরুইসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। এছাড়া শতবর্ষী সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, করই ও নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ বনটিকে দিয়েছে অনন্য বৈচিত্র্য।

তবে বছরের পর বছর অবৈধভাবে গাছ কাটার কারণে বনটি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ ও পরিবেশগত ভারসাম্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছ চুরির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রে শুধু কাঠচোরই নয়, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যেরও যোগসাজশ রয়েছে।

একাধিক বাসিন্দা বলেন, “সবাই মিলে বনটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। না হলে এত বড় বড় গাছ কেটে নেওয়া সম্ভব হতো না।”

এ বিষয়ে সাতছড়ি রেঞ্জে (ভারপ্রাপ্ত ) বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ কিছুটা শনাক্ত করতে পেরেছে কারা জড়িত থাকতে পারে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।