হবিগঞ্জ ১২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে গাতাবলা আর-রাফী মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পন্ন Logo চুনারুঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান ও তাঁতীলীগ সভাপতি জামাল মিয়া গ্রেপ্তার Logo হবিগঞ্জের সুঘর গ্রামের বানবাসীদের মাঝে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ Logo চুনারুঘাটের মেয়ে দীপ্তিতা দাশ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ তদারকিতে খাদ্য বিভাগ Logo চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর বাজারের চাল বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ইউএনও Logo চুনারুঘাটে যৌথ অভিযানে ৭ অবৈধ করাতকল সিলগালা Logo ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের আন্দোলন

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ফের সেগুনগাছ চুরি, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গভীর অরণ্যে অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে আবারও সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সেগুনগাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাতের আঁধারে উদ্যানের ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি সেগুনগাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ রবিবার  সরেজমিনে উদ্যানের বিভিন্ন  স্থানে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী বিশাল দুটি সেগুনগাছ কেটে নেওয়ার পর পড়ে আছে শুধু মোটা গোড়া ও চারপাশে ছড়িয়ে থাকা করাতের গুঁড়া। সেখান থেকে আরও পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এগিয়ে একই আকারের আরও কয়েকটি গাছ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। বনভূমির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে সম্প্রতি  কাটা গাছের শিকড় চোখে পড়ে, যা যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে বন উজাড়ের ভয়াবহতার।

বনের ভেতরে কথা হয় স্থানীয় এক ভিলেজারের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, পুরো বন ঘুরে দেখলে আগে পরে অন্তত ৮ থেকে ১০টি কাটা গাছের চিহ্ন পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, “মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই এসব গাছ কাটা হয়েছে। আগেও অনেক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এখনও পুরোনো শিকড় পড়ে আছে বিভিন্ন স্থানে।”

প্রায় ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ২০০৫ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা এই বন সাতটি প্রাকৃতিক ছড়ার জন্য পরিচিত। এখানে বিরল প্রজাতির উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনরুইসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। এছাড়া শতবর্ষী সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, করই ও নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ বনটিকে দিয়েছে অনন্য বৈচিত্র্য।

তবে বছরের পর বছর অবৈধভাবে গাছ কাটার কারণে বনটি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ ও পরিবেশগত ভারসাম্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছ চুরির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রে শুধু কাঠচোরই নয়, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যেরও যোগসাজশ রয়েছে।

একাধিক বাসিন্দা বলেন, “সবাই মিলে বনটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। না হলে এত বড় বড় গাছ কেটে নেওয়া সম্ভব হতো না।”

এ বিষয়ে সাতছড়ি রেঞ্জে (ভারপ্রাপ্ত ) বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ কিছুটা শনাক্ত করতে পেরেছে কারা জড়িত থাকতে পারে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ফের সেগুনগাছ চুরি, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

আপডেট সময় ১২:১৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গভীর অরণ্যে অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে আবারও সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সেগুনগাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাতের আঁধারে উদ্যানের ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি সেগুনগাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ রবিবার  সরেজমিনে উদ্যানের বিভিন্ন  স্থানে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী বিশাল দুটি সেগুনগাছ কেটে নেওয়ার পর পড়ে আছে শুধু মোটা গোড়া ও চারপাশে ছড়িয়ে থাকা করাতের গুঁড়া। সেখান থেকে আরও পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এগিয়ে একই আকারের আরও কয়েকটি গাছ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। বনভূমির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে সম্প্রতি  কাটা গাছের শিকড় চোখে পড়ে, যা যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে বন উজাড়ের ভয়াবহতার।

বনের ভেতরে কথা হয় স্থানীয় এক ভিলেজারের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, পুরো বন ঘুরে দেখলে আগে পরে অন্তত ৮ থেকে ১০টি কাটা গাছের চিহ্ন পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, “মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই এসব গাছ কাটা হয়েছে। আগেও অনেক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এখনও পুরোনো শিকড় পড়ে আছে বিভিন্ন স্থানে।”

প্রায় ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ২০০৫ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা এই বন সাতটি প্রাকৃতিক ছড়ার জন্য পরিচিত। এখানে বিরল প্রজাতির উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনরুইসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। এছাড়া শতবর্ষী সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, করই ও নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ বনটিকে দিয়েছে অনন্য বৈচিত্র্য।

তবে বছরের পর বছর অবৈধভাবে গাছ কাটার কারণে বনটি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ ও পরিবেশগত ভারসাম্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছ চুরির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রে শুধু কাঠচোরই নয়, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যেরও যোগসাজশ রয়েছে।

একাধিক বাসিন্দা বলেন, “সবাই মিলে বনটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। না হলে এত বড় বড় গাছ কেটে নেওয়া সম্ভব হতো না।”

এ বিষয়ে সাতছড়ি রেঞ্জে (ভারপ্রাপ্ত ) বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ কিছুটা শনাক্ত করতে পেরেছে কারা জড়িত থাকতে পারে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।