হবিগঞ্জ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে বজ্রপাতে মামা নিহত, ভাগনে আহত Logo ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়ে চুনারুঘাট পৌরসভার অভিযান অব্যাহত Logo চুনারুঘাটের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস Logo চুনারুঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানে বালুভর্তি ২ ইজিবাইক জব্দ Logo দক্ষিণাচরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন মসজিদ নির্মাণে ২০১০ ব্যাচের ৪৫ হাজার টাকা অনুদান Logo চুনারুঘাটের আহম্মদাবাদ ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও ভিডিও প্রদর্শনী Logo শানখলা ইউনিয়নে উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম Logo চুনারুঘাটে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার Logo ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চুনারুঘাটে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু Logo চুনারুঘাটে প্রশাসনের জব্দকৃত সিলিকা বালু পাচারের চেষ্টা, ট্রাকচালকের ২ মাসের কারাদণ্ড

জোরপূর্বক বিয়ের চাপ, তরুণীর আত্মহত্যা ও প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা: চুনারুঘাটে চাঞ্চল্য

  • আলোকিত ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০২:৪৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

চুনারুঘাটে এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চুনারুঘাট পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও স্থানী বিএনপি আবদুল হামিদ এর ভাতিজি নিশাত নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নিশাতের মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মামলা ও অভিযোগের বিবরণ, ঘটনার পর নিশাতের বাবা আবদুল আজিজ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, নিশাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সুমন নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, সুমন নিশাতকে না জানিয়ে বিদেশে চলে যান।

এতে অভিমান করে নিশাত আত্মহত্যা করেন এবং এর দায়ভার সুমনের ওপর বর্তায়।
অভিযুক্ত সুমন চুনারুঘাট পৌরসভার বাল্লারোড এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।

সুমনের দাবি: “নিশাত আমার বৈধ স্ত্রী”
অন্যদিকে অভিযুক্ত সুমন আহাম্মেদ ভিন্ন দাবি করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিশাতের সঙ্গে শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়, তারা গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

সুমনের দাবি, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে উভয়ের পরিবারকে না জানিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং সেই বিয়ের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি জানান, বিদেশে যাওয়ার পর বিষয়টি আর গোপন থাকেনি এবং নিশাতের পরিবার তা জানতে পারে। এরপর পরিবার থেকে নিশাতকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। নিশাত একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা তাকে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন সুমন।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা নিশাতের ফোন কেড়ে নেওয়ায় তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের বক্তব্য ও গোপন সূত্রের দাবি
স্থানীয় কিছু বাসিন্দার দাবি, নিশাতকে একটি প্রভাবশালী ও ধনী পরিবারে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাদের ধারণা, আত্মহত্যার ঘটনার দায় এড়াতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, মামলার প্রেক্ষিতে সুমনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সুমনের পরিবার ও এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, নিশাতের চাচা আবদুল হামিদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই দ্রুত এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।

আলোকিতহবিগঞ্জ/খ.আ

আলোকিতহবিগঞ্জ/খ.আ

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে বজ্রপাতে মামা নিহত, ভাগনে আহত

জোরপূর্বক বিয়ের চাপ, তরুণীর আত্মহত্যা ও প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা: চুনারুঘাটে চাঞ্চল্য

আপডেট সময় ০২:৪৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চুনারুঘাটে এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চুনারুঘাট পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও স্থানী বিএনপি আবদুল হামিদ এর ভাতিজি নিশাত নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নিশাতের মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মামলা ও অভিযোগের বিবরণ, ঘটনার পর নিশাতের বাবা আবদুল আজিজ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, নিশাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সুমন নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, সুমন নিশাতকে না জানিয়ে বিদেশে চলে যান।

এতে অভিমান করে নিশাত আত্মহত্যা করেন এবং এর দায়ভার সুমনের ওপর বর্তায়।
অভিযুক্ত সুমন চুনারুঘাট পৌরসভার বাল্লারোড এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।

সুমনের দাবি: “নিশাত আমার বৈধ স্ত্রী”
অন্যদিকে অভিযুক্ত সুমন আহাম্মেদ ভিন্ন দাবি করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিশাতের সঙ্গে শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়, তারা গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

সুমনের দাবি, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে উভয়ের পরিবারকে না জানিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং সেই বিয়ের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি জানান, বিদেশে যাওয়ার পর বিষয়টি আর গোপন থাকেনি এবং নিশাতের পরিবার তা জানতে পারে। এরপর পরিবার থেকে নিশাতকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। নিশাত একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা তাকে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন সুমন।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা নিশাতের ফোন কেড়ে নেওয়ায় তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের বক্তব্য ও গোপন সূত্রের দাবি
স্থানীয় কিছু বাসিন্দার দাবি, নিশাতকে একটি প্রভাবশালী ও ধনী পরিবারে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাদের ধারণা, আত্মহত্যার ঘটনার দায় এড়াতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, মামলার প্রেক্ষিতে সুমনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সুমনের পরিবার ও এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, নিশাতের চাচা আবদুল হামিদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই দ্রুত এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।

আলোকিতহবিগঞ্জ/খ.আ

আলোকিতহবিগঞ্জ/খ.আ