হবিগঞ্জ ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে চাটপাড়া রাইজিংসান একাডেমিতে নতুন বই বিতরণ Logo নবীগঞ্জে ৮৫ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি–খরচ বহন করল মাওলানা মনোহর আলী শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশন Logo চুনারুঘাটে মসজিদের জমি গণহারে বিক্রির অভিযোগ Logo মাধবপুরে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূণ্য দুই গ্রামের মানুষ Logo জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে ইনসাফ ও প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্যা অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে: অলিউল্লাহ নোমান Logo দুই কর্মকর্তার বদলি ও প্রশিক্ষণে শূন্য উপজেলা প্রশাসন, জরুরি সেবায় চরম ভোগান্তি Logo কানাডায় ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন শিল্পী শুভ্র দেব Logo চুনারুঘাটে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উদযাপন Logo চুনারুঘাট পৌরসভায় ৪নং ওয়ার্ডবাসীর সাথে জামায়াতের এমপি প্রার্থীর মতবিনিময় Logo চুনারুঘাটে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

দুই কর্মকর্তার বদলি ও প্রশিক্ষণে শূন্য উপজেলা প্রশাসন, জরুরি সেবায় চরম ভোগান্তি

  • নূরউদ্দিন সুমন:
  • আপডেট সময় ১০:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

​হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) গত ৫দিন যাবত না থাকায় প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ।এতে করে সরকারি নাগরিক সেবা, ভূমিসংক্রান্ত সেবা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলাবাসী।

এছাড়াও সরকারি সেবা যেমন নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, উত্তরাধিকার সনদ, চারিত্রিক সনদসহ জরুরি সেবা নিতে এসে কয়েকদিন ধরে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে ঢাকায় বদলি করা হয়। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিসসহ মোট চারটি দপ্তরের কার্যক্রম তদারকি করতেন।

অপরদিকে, সদ্য যোগদান করা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা যোগদানের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ছয় মাসের প্রশিক্ষণে চলে যান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ইউএনও একাই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজ সামাল দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনিও বদলি হয়ে চলে যাওয়ায় বর্তমানে উপজেলার চারটি দপ্তর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয়রা জানান, কখন কর্মকর্তা আসবেন বা কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু হবে— এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

সেবাগ্রহীতা সৌরভ কর জানান, “নামজারির জন্য তিনবার অফিসে এসেছি, কিন্তু প্রতিবারই শুনি ‘স্যার নেই, পরে আসেন’। এত দূর থেকে এসে সময় ও টাকা দুইটাই নষ্ট হচ্ছে।”

একই অভিযোগ করেছেন মিরাশি ইউনিয়ন থেকে আসা রমজান আলী সাগর। তিনি বলেন, “আমার ছোট ভাই  বিদেশে যাবে, জরুরি একটি সনদ দরকার। কিন্তু অফিসে এসে দেখি কেউ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নেই।”

এদিকে, সাময়িকভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেমকে। তবে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্তভাবে কাজ চালাতে বলা হয়েছে।

চুনারুঘাটের চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব ওই কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে কিনা— ইউএনও জাহিদ ঢাকা থেকে ফিরলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা মো. মুজিবুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ইউএনও স্যার সাময়িক দায়িত্বে আছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় আপাতত মাধবপুরের দপ্তরের দায়িত্ব দেখা হচ্ছে।

সামনে তিনি এলে চুনারুঘাটের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।” তবে মাধবপুরের ইউএনও মো. জাহিদ বিন কাশেমের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, একজন কর্মকর্তা দিয়ে দুই উপজেলার অন্তত আটটি দপ্তরের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে মাধবপুর থেকে চুনারুঘাটের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার হওয়ায় যাতায়াতেই অধিকাংশ সময় চলে যাবে, ফলে কাজের গতি আরও ধীর হয়ে পড়বে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চুনারুঘাটের সাধারণ মানুষ দ্রুত একজন পূর্ণাঙ্গ ইউএনও ও এসিল্যান্ড পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে।

আলোকিতহবিগঞ্জ/খ .আ

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।

চুনারুঘাটে চাটপাড়া রাইজিংসান একাডেমিতে নতুন বই বিতরণ

দুই কর্মকর্তার বদলি ও প্রশিক্ষণে শূন্য উপজেলা প্রশাসন, জরুরি সেবায় চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় ১০:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

​হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) গত ৫দিন যাবত না থাকায় প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ।এতে করে সরকারি নাগরিক সেবা, ভূমিসংক্রান্ত সেবা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলাবাসী।

এছাড়াও সরকারি সেবা যেমন নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, উত্তরাধিকার সনদ, চারিত্রিক সনদসহ জরুরি সেবা নিতে এসে কয়েকদিন ধরে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে ঢাকায় বদলি করা হয়। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিসসহ মোট চারটি দপ্তরের কার্যক্রম তদারকি করতেন।

অপরদিকে, সদ্য যোগদান করা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা যোগদানের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ছয় মাসের প্রশিক্ষণে চলে যান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ইউএনও একাই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজ সামাল দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনিও বদলি হয়ে চলে যাওয়ায় বর্তমানে উপজেলার চারটি দপ্তর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয়রা জানান, কখন কর্মকর্তা আসবেন বা কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু হবে— এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

সেবাগ্রহীতা সৌরভ কর জানান, “নামজারির জন্য তিনবার অফিসে এসেছি, কিন্তু প্রতিবারই শুনি ‘স্যার নেই, পরে আসেন’। এত দূর থেকে এসে সময় ও টাকা দুইটাই নষ্ট হচ্ছে।”

একই অভিযোগ করেছেন মিরাশি ইউনিয়ন থেকে আসা রমজান আলী সাগর। তিনি বলেন, “আমার ছোট ভাই  বিদেশে যাবে, জরুরি একটি সনদ দরকার। কিন্তু অফিসে এসে দেখি কেউ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নেই।”

এদিকে, সাময়িকভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেমকে। তবে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্তভাবে কাজ চালাতে বলা হয়েছে।

চুনারুঘাটের চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব ওই কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে কিনা— ইউএনও জাহিদ ঢাকা থেকে ফিরলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা মো. মুজিবুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ইউএনও স্যার সাময়িক দায়িত্বে আছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় আপাতত মাধবপুরের দপ্তরের দায়িত্ব দেখা হচ্ছে।

সামনে তিনি এলে চুনারুঘাটের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।” তবে মাধবপুরের ইউএনও মো. জাহিদ বিন কাশেমের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, একজন কর্মকর্তা দিয়ে দুই উপজেলার অন্তত আটটি দপ্তরের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে মাধবপুর থেকে চুনারুঘাটের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার হওয়ায় যাতায়াতেই অধিকাংশ সময় চলে যাবে, ফলে কাজের গতি আরও ধীর হয়ে পড়বে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চুনারুঘাটের সাধারণ মানুষ দ্রুত একজন পূর্ণাঙ্গ ইউএনও ও এসিল্যান্ড পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে।

আলোকিতহবিগঞ্জ/খ .আ