হবিগঞ্জ ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শানখলা ইউনিয়নে জনমুখী উন্নয়নের রোল মডেল প্যানেল চেয়ারম্যান ইকবাল মেম্বার Logo হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত Logo গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলে সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ চুনারুঘাট থানার এএসআই শরিফ হোসেন Logo জাপানে এস.এস.ডাব্লিউ কর্মসূচির আওতায় নারী কর্মী নিয়োগের সুযোগ Logo পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতীক এমপি ফয়সলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী Logo চুনারুঘাট থানার নতুন ওসি মো. সাইফুল ইসলামের যোগদান Logo চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকিতে অর্ধশত গ্রাম Logo জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক পদে টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত শফিকুল ইসলাম সজল Logo কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি Logo সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে: যুগ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ

চুনারুঘাটে দ্বৈত মামলার ঝড়: ইউনুস হত্যা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে সুমন—পরিবারের দাবি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে একদিনে দুই মামলার ঘটনায়। পৌরসভার ০৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাল্লারোড এলাকার বাসিন্দা সুমন আহাম্মেদের বিরুদ্ধে পৃথক দুই অভিযোগ—একটি হত্যা মামলা এবং আরেকটি অস্ত্র মামলা—দায়ের হয়েছে হবিগঞ্জ কোর্ট ও চুনারুঘাট থানায়। পরিবারের দাবি, ঘটনাগুলো পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল; অপরদিকে মামলাকারী পক্ষ বলছে, আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার চাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।

ইউনুস আলীর মৃত্যু ও হত্যা মামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৌর এলাকায় পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা ইউনুস আলী নিজ বাড়িতে নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা আরশ আলী ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সুমন আহাম্মেদকে ৪ নম্বর আসামি করে মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ কোর্টে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনাটির পেছনে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ছিল। একই দিনে ‘অস্ত্র উদ্ধারের’ অভিযোগ
এদিকে একই দিন বিকেলে সুমনের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “সুমন এন্টারপ্রাইজ”-এ হামলার অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের ভাষ্য, স্থানীয় বিএনপি নেতা শামসুল হক-এর সমর্থকেরা দোকানে ঢুকে সুমনকে খুঁজতে তল্লাশি চালান। তাকে না পেয়ে কর্মচারী রাসেলকে মারধর করা হয় এবং দোকানের ভেতরে একটি ব্যাগ রেখে যাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে একটি পলিথিন ব্যাগ উদ্ধার করে, যার ভেতরে একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি পাওয়া যায় বলে থানার সূত্র জানায়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সুমন আহাম্মেদকে ২ নম্বর আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করে। গ্রেফতারকৃত কর্মচারী রাসেল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ব্যাগটি বাইরের লোকজন রেখে গেছে।

আতঙ্কে পরিবার, উত্তেজনায় এলাকা
দ্বৈত মামলার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সুমনের মা আয়শা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি। পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুমনকে তারা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হিসেবে জানেন; তবে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে তাদের ধারণা।

আইনগত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুটি মামলাই বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দিনে পৃথক অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ায় ঘটনাপ্রবাহের সময়রেখা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

চুনারুঘাটের এই ঘটনাপ্রবাহ এখন কেবল একটি ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা—সবকিছুকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর কতটা প্রতিহিংসার প্রতিচ্ছবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শানখলা ইউনিয়নে জনমুখী উন্নয়নের রোল মডেল প্যানেল চেয়ারম্যান ইকবাল মেম্বার

চুনারুঘাটে দ্বৈত মামলার ঝড়: ইউনুস হত্যা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে সুমন—পরিবারের দাবি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’

আপডেট সময় ০৭:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৪

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে একদিনে দুই মামলার ঘটনায়। পৌরসভার ০৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাল্লারোড এলাকার বাসিন্দা সুমন আহাম্মেদের বিরুদ্ধে পৃথক দুই অভিযোগ—একটি হত্যা মামলা এবং আরেকটি অস্ত্র মামলা—দায়ের হয়েছে হবিগঞ্জ কোর্ট ও চুনারুঘাট থানায়। পরিবারের দাবি, ঘটনাগুলো পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল; অপরদিকে মামলাকারী পক্ষ বলছে, আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার চাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।

ইউনুস আলীর মৃত্যু ও হত্যা মামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৌর এলাকায় পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা ইউনুস আলী নিজ বাড়িতে নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা আরশ আলী ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সুমন আহাম্মেদকে ৪ নম্বর আসামি করে মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ কোর্টে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনাটির পেছনে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ছিল। একই দিনে ‘অস্ত্র উদ্ধারের’ অভিযোগ
এদিকে একই দিন বিকেলে সুমনের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “সুমন এন্টারপ্রাইজ”-এ হামলার অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের ভাষ্য, স্থানীয় বিএনপি নেতা শামসুল হক-এর সমর্থকেরা দোকানে ঢুকে সুমনকে খুঁজতে তল্লাশি চালান। তাকে না পেয়ে কর্মচারী রাসেলকে মারধর করা হয় এবং দোকানের ভেতরে একটি ব্যাগ রেখে যাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে একটি পলিথিন ব্যাগ উদ্ধার করে, যার ভেতরে একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি পাওয়া যায় বলে থানার সূত্র জানায়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সুমন আহাম্মেদকে ২ নম্বর আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করে। গ্রেফতারকৃত কর্মচারী রাসেল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ব্যাগটি বাইরের লোকজন রেখে গেছে।

আতঙ্কে পরিবার, উত্তেজনায় এলাকা
দ্বৈত মামলার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সুমনের মা আয়শা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি। পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুমনকে তারা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হিসেবে জানেন; তবে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে তাদের ধারণা।

আইনগত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুটি মামলাই বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দিনে পৃথক অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ায় ঘটনাপ্রবাহের সময়রেখা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

চুনারুঘাটের এই ঘটনাপ্রবাহ এখন কেবল একটি ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা—সবকিছুকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর কতটা প্রতিহিংসার প্রতিচ্ছবি।