হবিগঞ্জ ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল-টমটম সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১ Logo চুনারুঘাটে ‘ইয়াবা নাটক’ সাজিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ২ পুলিশ ক্লোজ Logo হবিগঞ্জে সেরা গুণী শিক্ষক জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আল মামুন Logo হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিবকে রাজসিক সংবর্ধনা দিলেন সৈয়দ মুশফিক আহমেদ Logo চুনারুঘাটে অবৈধ মাটি কাটায় এক্সক্যাভেটর ভাঙচুর, তেল বিক্রেতাকে জরিমানা Logo কুলাউড়ায় কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মাজহারুল ইসলাম কুলাউড়া Logo চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের রেইনকোট, হতদরিদ্রদের ঢেউটিন ও শিক্ষার্থীদের হুইলচেয়ার দিলেন এমপি Logo চুনারুঘাটে দেড় কেজি গাঁজাসহ আটক, পুলিশ আসার আগেই পালালেন যুবক Logo চুনারুঘাটের হাজী আলিম উল্লাহ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় এডহক কমিটি সভাপতি হলেন সাজিদ Logo শায়েস্তাগঞ্জে নাটকের মৌলিক বিষয়ে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা

চুনারুঘাটে দ্বৈত মামলার ঝড়: ইউনুস হত্যা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে সুমন—পরিবারের দাবি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে একদিনে দুই মামলার ঘটনায়। পৌরসভার ০৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাল্লারোড এলাকার বাসিন্দা সুমন আহাম্মেদের বিরুদ্ধে পৃথক দুই অভিযোগ—একটি হত্যা মামলা এবং আরেকটি অস্ত্র মামলা—দায়ের হয়েছে হবিগঞ্জ কোর্ট ও চুনারুঘাট থানায়। পরিবারের দাবি, ঘটনাগুলো পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল; অপরদিকে মামলাকারী পক্ষ বলছে, আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার চাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।

ইউনুস আলীর মৃত্যু ও হত্যা মামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৌর এলাকায় পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা ইউনুস আলী নিজ বাড়িতে নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা আরশ আলী ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সুমন আহাম্মেদকে ৪ নম্বর আসামি করে মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ কোর্টে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনাটির পেছনে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ছিল। একই দিনে ‘অস্ত্র উদ্ধারের’ অভিযোগ
এদিকে একই দিন বিকেলে সুমনের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “সুমন এন্টারপ্রাইজ”-এ হামলার অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের ভাষ্য, স্থানীয় বিএনপি নেতা শামসুল হক-এর সমর্থকেরা দোকানে ঢুকে সুমনকে খুঁজতে তল্লাশি চালান। তাকে না পেয়ে কর্মচারী রাসেলকে মারধর করা হয় এবং দোকানের ভেতরে একটি ব্যাগ রেখে যাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে একটি পলিথিন ব্যাগ উদ্ধার করে, যার ভেতরে একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি পাওয়া যায় বলে থানার সূত্র জানায়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সুমন আহাম্মেদকে ২ নম্বর আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করে। গ্রেফতারকৃত কর্মচারী রাসেল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ব্যাগটি বাইরের লোকজন রেখে গেছে।

আতঙ্কে পরিবার, উত্তেজনায় এলাকা
দ্বৈত মামলার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সুমনের মা আয়শা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি। পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুমনকে তারা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হিসেবে জানেন; তবে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে তাদের ধারণা।

আইনগত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুটি মামলাই বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দিনে পৃথক অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ায় ঘটনাপ্রবাহের সময়রেখা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

চুনারুঘাটের এই ঘটনাপ্রবাহ এখন কেবল একটি ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা—সবকিছুকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর কতটা প্রতিহিংসার প্রতিচ্ছবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল-টমটম সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১

চুনারুঘাটে দ্বৈত মামলার ঝড়: ইউনুস হত্যা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে সুমন—পরিবারের দাবি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’

আপডেট সময় ০৭:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৪

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে একদিনে দুই মামলার ঘটনায়। পৌরসভার ০৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাল্লারোড এলাকার বাসিন্দা সুমন আহাম্মেদের বিরুদ্ধে পৃথক দুই অভিযোগ—একটি হত্যা মামলা এবং আরেকটি অস্ত্র মামলা—দায়ের হয়েছে হবিগঞ্জ কোর্ট ও চুনারুঘাট থানায়। পরিবারের দাবি, ঘটনাগুলো পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল; অপরদিকে মামলাকারী পক্ষ বলছে, আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার চাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।

ইউনুস আলীর মৃত্যু ও হত্যা মামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৌর এলাকায় পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা ইউনুস আলী নিজ বাড়িতে নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা আরশ আলী ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সুমন আহাম্মেদকে ৪ নম্বর আসামি করে মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ কোর্টে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনাটির পেছনে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ছিল। একই দিনে ‘অস্ত্র উদ্ধারের’ অভিযোগ
এদিকে একই দিন বিকেলে সুমনের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “সুমন এন্টারপ্রাইজ”-এ হামলার অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের ভাষ্য, স্থানীয় বিএনপি নেতা শামসুল হক-এর সমর্থকেরা দোকানে ঢুকে সুমনকে খুঁজতে তল্লাশি চালান। তাকে না পেয়ে কর্মচারী রাসেলকে মারধর করা হয় এবং দোকানের ভেতরে একটি ব্যাগ রেখে যাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে একটি পলিথিন ব্যাগ উদ্ধার করে, যার ভেতরে একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি পাওয়া যায় বলে থানার সূত্র জানায়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সুমন আহাম্মেদকে ২ নম্বর আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করে। গ্রেফতারকৃত কর্মচারী রাসেল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ব্যাগটি বাইরের লোকজন রেখে গেছে।

আতঙ্কে পরিবার, উত্তেজনায় এলাকা
দ্বৈত মামলার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সুমনের মা আয়শা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি। পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুমনকে তারা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হিসেবে জানেন; তবে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে তাদের ধারণা।

আইনগত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুটি মামলাই বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দিনে পৃথক অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ায় ঘটনাপ্রবাহের সময়রেখা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

চুনারুঘাটের এই ঘটনাপ্রবাহ এখন কেবল একটি ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা—সবকিছুকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর কতটা প্রতিহিংসার প্রতিচ্ছবি।