হবিগঞ্জ ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা Logo হবিগঞ্জ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের ৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন Logo চুনারুঘাটে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জেরে পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের হামলায় আহত ৪ জন Logo ঢাকার হামলা মামলার জেরে বৃদ্ধাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, মাধবপুর থানায় জিডি Logo দেওরগাছ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: তরুণ ভোটারদের আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থী মারুফ Logo চুনারুঘাটের উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এমপি ফয়সল Logo দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা Logo মিষ্টি ওজনে কম দেওয়ায় চুনারুঘাটে হোটেলকে জরিমানা Logo চুনারুঘাটে কোয়াবের ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন Logo মাধবপুরে হামলার শিকার পরিবারই মামলার আসামি, বিচার দাবি
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কয়েকদিন পর পর ভাংচুরের নামে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধন হচ্ছে

সাতছড়িতে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, সিএমসি’র সভাপতি আবুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কয়েকটি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি)-এর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল ও জাতীয় উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে মোস্তাক হোটেল, বিসমিল্লাহ হোটেল এবং মাসুম বিল্লাহ রেস্টুরেন্টসহ কয়েকটি পর্যটকসেবামূলক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত উচ্ছেদ কার্যক্রম বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিএমসি সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল ও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের কাছে মাসোহারা বা চাঁদা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, যদি আমরা মাসোহারা দিতাম, তাহলে আমাদের হোটেলে ভাঙচুর হতো না। ভাঙচুরের আগে কোনো ধরনের নোটিশও দেওয়া হয়নি। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, সিএমসি কমিটির মেয়াদ গত মে মাসেই শেষ হয়েছে। এরপরও কীভাবে সভাপতি আবুল নিজে ভাঙচুর অভিযানে অংশ নিলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আমার হোটেল পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু শফিকুল ইসলাম আবুল স্বপ্রণোদিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজের হাতে আমার হোটেলের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।

এদিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) নির্ধারিত মেয়াদ গত মে মাসে শেষ হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি কী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমসি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, আমি নিজ হাতে উচ্ছেদে অংশ নেইনি। নিয়ম অমান্য করে হোটেল পরিচালনা করায় বন বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে।

উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমরা আংশিক ভাঙচুর করেছি। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মহোদয়ের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভাঙচুর অভিযান বন্ধ করা হয়।

কিন্তু একটি সূত্রে জানাযায় বিভাগীয় বনকর্মকর্তা উচ্ছেদ অভিযানের বিষয় টি অবগত নয় বলে জানান।
একটি চক্র তাদের ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ না হওয়ায়

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কয়েকদিন পর পর ভাংচুরের নামে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কয়েকদিন পর পর ভাংচুরের নামে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধন হচ্ছে

সাতছড়িতে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, সিএমসি’র সভাপতি আবুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কয়েকটি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি)-এর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল ও জাতীয় উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে মোস্তাক হোটেল, বিসমিল্লাহ হোটেল এবং মাসুম বিল্লাহ রেস্টুরেন্টসহ কয়েকটি পর্যটকসেবামূলক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত উচ্ছেদ কার্যক্রম বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিএমসি সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল ও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের কাছে মাসোহারা বা চাঁদা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, যদি আমরা মাসোহারা দিতাম, তাহলে আমাদের হোটেলে ভাঙচুর হতো না। ভাঙচুরের আগে কোনো ধরনের নোটিশও দেওয়া হয়নি। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, সিএমসি কমিটির মেয়াদ গত মে মাসেই শেষ হয়েছে। এরপরও কীভাবে সভাপতি আবুল নিজে ভাঙচুর অভিযানে অংশ নিলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আমার হোটেল পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু শফিকুল ইসলাম আবুল স্বপ্রণোদিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজের হাতে আমার হোটেলের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।

এদিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) নির্ধারিত মেয়াদ গত মে মাসে শেষ হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি কী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমসি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, আমি নিজ হাতে উচ্ছেদে অংশ নেইনি। নিয়ম অমান্য করে হোটেল পরিচালনা করায় বন বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে।

উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমরা আংশিক ভাঙচুর করেছি। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মহোদয়ের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভাঙচুর অভিযান বন্ধ করা হয়।

কিন্তু একটি সূত্রে জানাযায় বিভাগীয় বনকর্মকর্তা উচ্ছেদ অভিযানের বিষয় টি অবগত নয় বলে জানান।
একটি চক্র তাদের ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ না হওয়ায়

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কয়েকদিন পর পর ভাংচুরের নামে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।