হবিগঞ্জ ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাধবপুরে শিশুদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদান করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo মাধবপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo চুনারুঘাটে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠিত Logo চুনারুঘাটে অগ্রগামী মডেল কেজি স্কুল ও পাঠাগারে নজরুল বর্ষ উদযাপন Logo এইচএসসি পরীক্ষায় চুনারুঘাটের কলেজগুলোতে পাসের হার ৪৪.৬৮%, মাদ্রাসায় ৬৮.০৬% Logo চুনারুঘাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের বৃক্ষরোপণ Logo চুনারুঘাটে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বহিষ্কার Logo চুনারুঘাটে কৃষকের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতা হাবিবের বিরুদ্ধে Logo জকিগঞ্জ বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৮ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

তেলের পর এবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, আতঙ্কে ভোক্তারা

  • ডেস্ক নিউজ:
  • আপডেট সময় ১২:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বৃদ্ধির পর এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাইকারির পর খুচরা গ্রাহক পর্যায়ের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে জমা দিয়েছে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানি (নেসকো)। তবে কোম্পানিটি নির্দিষ্ট ইউনিট অনুযায়ী দাম উল্লেখ না করে পাইকারি দাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে খুচরা দামের বৃদ্ধি প্রস্তাব করেছে।

বিইআরসি’র চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, “কালকের মধ্যে আরও অনেক কোম্পানি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিতে পারে। সব প্রস্তাব পাওয়ার পর কারিগরি কমিটি কাজ শুরু করবে এবং তারপর গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।” নেসকোর আগে পিডিবি খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। পিডিবি সুপারিশ করেছে, বাল্ক বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা বাড়ানো হোক।

বর্তমানে পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ১২ টাকা ৫০ পয়সায়, কিন্তু বিক্রি করে ইউনিট প্রতি ৭ টাকায়। এতে সরকার প্রতি ইউনিট ৫.৫০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার কোটি টাকা। সরকার আর এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে পারছে না, তাই বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা উভয় মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশে বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থা জটিল। পিডিবি এককভাবে দেশে উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ কিনে নেয়। রাজধানী ঢাকায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি বিদ্যুৎ বিতরণ করে। সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের শহরাঞ্চলে পিডিবি সরবরাহ দেয়। খুলনা ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, রাজশাহী ও রংপুরে নেসকো দায়িত্বে। গ্রামে বিদ্যুৎ বিতরণ করে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

বর্তমানে খুচরা গ্রাহকের জন্য ইউনিট ভেদে বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত রয়েছে। ০–৫০ ইউনিটের জন্য ৪.৬৩ টাকা, ৫১–৭৫ ইউনিট ৫.২৬ টাকা, ৭৬–২০০ ইউনিট ৭.২০ টাকা, ২০১–৩০০ ইউনিট ৭.৫৯ টাকা, ৩০১–৪০০ ইউনিট ৮.০২ টাকা, ৪০১–৬০০ ইউনিট ১২.৬৭ টাকা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ১৪.৬১ টাকা। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট, ডিমান্ড বা সার্ভিস চার্জ ও মিটার ভাড়া প্রযোজ্য।

এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮ এপ্রিল অকটেন লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই মাসে মোট দুটি দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। মধ্যবিত্তরা ইতোমধ্যেই তেল ও এলপিজি দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে চাপের মুখোমুখি। বেসরকারি চাকরিজী আয়েশা আক্তার বলেন, “তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাজারের সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে এই চাপ আরও বেড়ে যাবে। সীমিত বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলমও সতর্ক করেছেন, “আগের সরকারের দীর্ঘ বছরের লভ্যাংশ ও খরচ বৃদ্ধির জেরে মূল্য বৃদ্ধির বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। বর্তমান সরকারও অতিরিক্ত খরচ কমানো বা ভর্তুকি হ্রাস না করে দায় চাপাচ্ছে। এর ফলে মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।

মাধবপুরে শিশুদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদান করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

তেলের পর এবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, আতঙ্কে ভোক্তারা

আপডেট সময় ১২:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বৃদ্ধির পর এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাইকারির পর খুচরা গ্রাহক পর্যায়ের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে জমা দিয়েছে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানি (নেসকো)। তবে কোম্পানিটি নির্দিষ্ট ইউনিট অনুযায়ী দাম উল্লেখ না করে পাইকারি দাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে খুচরা দামের বৃদ্ধি প্রস্তাব করেছে।

বিইআরসি’র চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, “কালকের মধ্যে আরও অনেক কোম্পানি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিতে পারে। সব প্রস্তাব পাওয়ার পর কারিগরি কমিটি কাজ শুরু করবে এবং তারপর গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।” নেসকোর আগে পিডিবি খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। পিডিবি সুপারিশ করেছে, বাল্ক বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা বাড়ানো হোক।

বর্তমানে পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ১২ টাকা ৫০ পয়সায়, কিন্তু বিক্রি করে ইউনিট প্রতি ৭ টাকায়। এতে সরকার প্রতি ইউনিট ৫.৫০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার কোটি টাকা। সরকার আর এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে পারছে না, তাই বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা উভয় মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশে বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থা জটিল। পিডিবি এককভাবে দেশে উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ কিনে নেয়। রাজধানী ঢাকায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি বিদ্যুৎ বিতরণ করে। সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের শহরাঞ্চলে পিডিবি সরবরাহ দেয়। খুলনা ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, রাজশাহী ও রংপুরে নেসকো দায়িত্বে। গ্রামে বিদ্যুৎ বিতরণ করে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

বর্তমানে খুচরা গ্রাহকের জন্য ইউনিট ভেদে বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত রয়েছে। ০–৫০ ইউনিটের জন্য ৪.৬৩ টাকা, ৫১–৭৫ ইউনিট ৫.২৬ টাকা, ৭৬–২০০ ইউনিট ৭.২০ টাকা, ২০১–৩০০ ইউনিট ৭.৫৯ টাকা, ৩০১–৪০০ ইউনিট ৮.০২ টাকা, ৪০১–৬০০ ইউনিট ১২.৬৭ টাকা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ১৪.৬১ টাকা। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট, ডিমান্ড বা সার্ভিস চার্জ ও মিটার ভাড়া প্রযোজ্য।

এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮ এপ্রিল অকটেন লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই মাসে মোট দুটি দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। মধ্যবিত্তরা ইতোমধ্যেই তেল ও এলপিজি দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে চাপের মুখোমুখি। বেসরকারি চাকরিজী আয়েশা আক্তার বলেন, “তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাজারের সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে এই চাপ আরও বেড়ে যাবে। সীমিত বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলমও সতর্ক করেছেন, “আগের সরকারের দীর্ঘ বছরের লভ্যাংশ ও খরচ বৃদ্ধির জেরে মূল্য বৃদ্ধির বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। বর্তমান সরকারও অতিরিক্ত খরচ কমানো বা ভর্তুকি হ্রাস না করে দায় চাপাচ্ছে। এর ফলে মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।”