হবিগঞ্জ ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিএনপির রাজনীতি করে সব হারানো খিজির খান, এখনও বৈষম্যের শিকার Logo চুনারুঘাটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও ওজনে কম দেওয়ায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা Logo চুনারুঘাটে দলিল লেখক রিংকুর বাড়ি থেকে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ২ নারী মুচলেকায় মুক্ত Logo চুনারুঘাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা Logo হবিগঞ্জ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের ৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন Logo চুনারুঘাটে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জেরে পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের হামলায় আহত ৪ জন Logo ঢাকার হামলা মামলার জেরে বৃদ্ধাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, মাধবপুর থানায় জিডি Logo দেওরগাছ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: তরুণ ভোটারদের আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থী মারুফ Logo চুনারুঘাটের উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এমপি ফয়সল Logo দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা

ইঞ্জিনিয়ার টিটন দাশের বিরুদ্ধে ভেকু বাণিজ্য ও সরকারি সম্পদ চুক্তি ছাড়া হস্তান্তরের অভিযোগ

চুনারুঘাট পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী টিটন দাশের বিরুদ্ধে সরকারি এক্সকাভেটর (ভেকু) ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ৩-ভেকুটি কোন ধরণের এগ্রিমেন্ট অথবা অগ্রিম রিসিট ছাড়াই নয়ানী গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী রুয়েল মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন ইঞ্জিনিয়ার টিটন দাশ।

পরবর্তীকালে ভেকুটি নিয়ে অন্যত্র উচ্চহারে ভাড়া প্রদান করেন মাটি ব্যবসায়ী রুয়েল। সর্বশেষ সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ভেকুটি দেওরগাছ ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে একটি পুকুর খননের কাজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদকের মুখোমুখি হওয়ার পর রাতারাতি তড়িঘড়ি করে ভেকুটি পৌরসভা কার্যালয়ে ফেরত নিয়ে আসেন টিটন দাশ ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমরা ভেকুটি বুঝে পাওয়ার পর পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রুয়েলের কাছে হস্তান্তর করেছি। এক্ষেত্রে আমরা কোন ভাড়া নির্ধারণ করে দেইনি, তবে স্টাম্পে একটি চুক্তি সম্পাদন করে হস্তান্তর করেছি। চুক্তির কপি দেখতে চাইলে টিটন দাশ বলেন-চুক্তিপত্র লেখা শেষ হয়নি, তবে সাদা কাগজে রুয়েলের স্বাক্ষর রাখা হয়েছে।

সরকারি ভেকু পরীক্ষার জন্য টানা ৬৪ দিন মাটি ব্যবসায়ীর কাছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইঞ্জিনিয়ার টিটন দাশ বলেন-এব্যাপারে ইউএনও মহোদয়, ক্যাশিয়ারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও অবগত আছেন। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার জন্য পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর কাছে গেলে তিনি জানান- সবকিছু ইঞ্জিনিয়ার সাহেব জানেন, ভেকু ভাড়া বাবদ কোন আমার কাছে কোন টাকা আসেনি।

চুনারুঘাট পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক বিউটি রাণী দেব জানান, ভেকু ভাড়ার বিষয়ে আমি কোন রিসিট কাটিনি, তবে আমার অবর্তমানে গত ১১/০৩/২০২৬ ইং তারিখে ৭৬৫০০/- টাকার একটি রিসিট কাটার খবর পেয়েছি। সচেতন মহল মনে করেন, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সরকারি ভেকু ভাড়া বাবদ প্রায় ৩লক্ষ টাকা রাজস্ব আাদায়ের কথা, অথচ মাত্র ৭৬৫০০/- টাকা আয় দেখানো বাস্তবতা পরিপন্থী । এভাবে সরকারি সম্পদ যারতার কাছে হস্তান্তর করে ক্ষতিসাধন করার অভিযোগও করেন পৌর বাসিন্দারা।

মাটি ব্যবসায়ী রুয়েল মিয়া জানান, আমি জানুয়ারি মাসে ভেকুটি নিয়ে আসি। এরমধ্যে মাত্র ১৭ দিন কাজ করতে পেরছি, তাই ভাড়া বাবদ ৪৫০০/- টাকা হারে মোট ৭৬৫০০/- টাকা জমা দিয়ে রিসিট সংগ্রহ করেছি। ভেকুটি নিয়ে আসার সময় ইঞ্জিনিয়ার সাহেব আমার নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর রেখেছেন।

চুনারুঘাট পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, নীতিমালা বহির্ভূতভাবে সরকারি সম্পত্তি হস্তান্তরের নিয়ম নেই, আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভেকুটি জানুয়ারি মাস থেকে হস্তান্তর করলেও পৌরসভার একটি নির্ধারিত রিসিটে ২ দিন আগে মাত্র ১৭ দিনের ভাড়া বাবদ দৈনিক ৪৫০০ টাকা হারে সর্বমোট ৭৬৫০০/- টাকা দেখিয়ে একটি বিল তৈরি করেন টিটন দাশ।

অফিস সূত্রে জানাযায়, টিটন দাস চুনারুঘাট পৌরসভায় ২ বছর পূর্বে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি পৌর শহরের নতুন বিল্ডিং করতে অনুমোদন নিতেও টিটন দাশকে বড় অংকের উৎকোচ দিতে হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির রাজনীতি করে সব হারানো খিজির খান, এখনও বৈষম্যের শিকার

ইঞ্জিনিয়ার টিটন দাশের বিরুদ্ধে ভেকু বাণিজ্য ও সরকারি সম্পদ চুক্তি ছাড়া হস্তান্তরের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:২১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

চুনারুঘাট পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী টিটন দাশের বিরুদ্ধে সরকারি এক্সকাভেটর (ভেকু) ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ৩-ভেকুটি কোন ধরণের এগ্রিমেন্ট অথবা অগ্রিম রিসিট ছাড়াই নয়ানী গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী রুয়েল মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন ইঞ্জিনিয়ার টিটন দাশ।

পরবর্তীকালে ভেকুটি নিয়ে অন্যত্র উচ্চহারে ভাড়া প্রদান করেন মাটি ব্যবসায়ী রুয়েল। সর্বশেষ সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ভেকুটি দেওরগাছ ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে একটি পুকুর খননের কাজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদকের মুখোমুখি হওয়ার পর রাতারাতি তড়িঘড়ি করে ভেকুটি পৌরসভা কার্যালয়ে ফেরত নিয়ে আসেন টিটন দাশ ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমরা ভেকুটি বুঝে পাওয়ার পর পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রুয়েলের কাছে হস্তান্তর করেছি। এক্ষেত্রে আমরা কোন ভাড়া নির্ধারণ করে দেইনি, তবে স্টাম্পে একটি চুক্তি সম্পাদন করে হস্তান্তর করেছি। চুক্তির কপি দেখতে চাইলে টিটন দাশ বলেন-চুক্তিপত্র লেখা শেষ হয়নি, তবে সাদা কাগজে রুয়েলের স্বাক্ষর রাখা হয়েছে।

সরকারি ভেকু পরীক্ষার জন্য টানা ৬৪ দিন মাটি ব্যবসায়ীর কাছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইঞ্জিনিয়ার টিটন দাশ বলেন-এব্যাপারে ইউএনও মহোদয়, ক্যাশিয়ারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও অবগত আছেন। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার জন্য পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর কাছে গেলে তিনি জানান- সবকিছু ইঞ্জিনিয়ার সাহেব জানেন, ভেকু ভাড়া বাবদ কোন আমার কাছে কোন টাকা আসেনি।

চুনারুঘাট পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক বিউটি রাণী দেব জানান, ভেকু ভাড়ার বিষয়ে আমি কোন রিসিট কাটিনি, তবে আমার অবর্তমানে গত ১১/০৩/২০২৬ ইং তারিখে ৭৬৫০০/- টাকার একটি রিসিট কাটার খবর পেয়েছি। সচেতন মহল মনে করেন, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সরকারি ভেকু ভাড়া বাবদ প্রায় ৩লক্ষ টাকা রাজস্ব আাদায়ের কথা, অথচ মাত্র ৭৬৫০০/- টাকা আয় দেখানো বাস্তবতা পরিপন্থী । এভাবে সরকারি সম্পদ যারতার কাছে হস্তান্তর করে ক্ষতিসাধন করার অভিযোগও করেন পৌর বাসিন্দারা।

মাটি ব্যবসায়ী রুয়েল মিয়া জানান, আমি জানুয়ারি মাসে ভেকুটি নিয়ে আসি। এরমধ্যে মাত্র ১৭ দিন কাজ করতে পেরছি, তাই ভাড়া বাবদ ৪৫০০/- টাকা হারে মোট ৭৬৫০০/- টাকা জমা দিয়ে রিসিট সংগ্রহ করেছি। ভেকুটি নিয়ে আসার সময় ইঞ্জিনিয়ার সাহেব আমার নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর রেখেছেন।

চুনারুঘাট পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, নীতিমালা বহির্ভূতভাবে সরকারি সম্পত্তি হস্তান্তরের নিয়ম নেই, আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভেকুটি জানুয়ারি মাস থেকে হস্তান্তর করলেও পৌরসভার একটি নির্ধারিত রিসিটে ২ দিন আগে মাত্র ১৭ দিনের ভাড়া বাবদ দৈনিক ৪৫০০ টাকা হারে সর্বমোট ৭৬৫০০/- টাকা দেখিয়ে একটি বিল তৈরি করেন টিটন দাশ।

অফিস সূত্রে জানাযায়, টিটন দাস চুনারুঘাট পৌরসভায় ২ বছর পূর্বে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি পৌর শহরের নতুন বিল্ডিং করতে অনুমোদন নিতেও টিটন দাশকে বড় অংকের উৎকোচ দিতে হয়।