হবিগঞ্জ ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহপরিবারে ওমরাহ হজ্বে গেলেন চুনারুঘাটের ব্রাদার্স ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী জহির আহমেদ Logo চুনারুঘাটে বৃহস্পতিবার নাশিদ সন্ধ্যা, অংশ নেবেন জনপ্রিয় শিল্পী ও ক্বারী Logo হবিগঞ্জে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকের উদ্যোগে অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান Logo মাধবপুরে সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন Logo এক রাতে পাশাপাশি ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্কেল এএসপি Logo মিরাশী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল মনাফ মিয়া Logo জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ইউএনও মেহেদী হাসানের Logo মাদক-অপরাধ দমনে চুনারুঘাটে পুলিশের নজরদারি বাড়ছে Logo ‘অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর’ উদযাপনে হবিগঞ্জে র‍্যালি ও গ্রাহক সম্মেলন Logo চুনারুঘাট থানায় ১২ দিনে প্রত্যাহার ৪ পুলিশ সদস্য

হবিগঞ্জে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে চরম দুর্দিন যাচ্ছে

বাজারের ক্রমবর্ধমান পতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারাচ্ছেন। হবিগঞ্জে চরম দুর্দিন যাচ্ছে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর। যারা লেনদেন করেছেন তারাও লোকসানে পড়ে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছেন। ব্রোকারেজ হাউজে যাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন। অনেক বিনিয়োগকারীর পুঁজি এখন অর্ধেকে নেমে গেছে। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকেও লোকসান টানতে হচ্ছে। এতে হবিগঞ্জে অবস্থিত ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শাখা টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরেজমিন জানা যায়, জেলা শহরে বর্তমানে তিনটি ব্রোকারেজ হাউজ চলমান। একটি অনেক আগেই তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। চালুর অপেক্ষায় আরও একটি। চলমান ব্রোকারেজ হাউজগুলো হচ্ছে উইফাং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও ফার্স্ট ক্যাপিটেল সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এর মধ্যে প্রথম দুটি ব্যবসা করছে প্রায় ১৫ বছর ধরে। আর ফার্স্ট ক্যাপিটেল ব্যবসা শুরু করে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে।

ক্রয়-বিক্রয় না হওয়ার কারণে ব্রোকারেজ হাউজগুলো রীতিমতো খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছে। বাজারের এমন অবস্থার জন্য বিনিয়োগকারীরা দায়ী করছেন ফ্লোর প্রাইসকে। তারা বলছেন, ফ্লোর প্রাইস দিয়েছে। পরে আবার তা তুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে শেয়ারের দাম টানা পতন হয়। যখন টাকা অর্ধেক হয়ে গেছে তখন আবারও ফ্লোর প্রাইস দেওয়া হয়েছে। এটি ঠিক হয়নি।

ফ্লোর প্রাইস যদি দিতে হয় তবে যেখানে ছিল সেখানেই ফ্লোর প্রাইস দিলে হয়তো কিছু টাকা থাকতো। এখন তো রীতিমতো পুঁজিই শেষ হয়ে গেছে। এটি করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী মাহবুবুল আলম চৌধুরী শিবলী জানান, তার পুঁজি ছিল ৫-৬ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমানে আছে ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার কারণে এটি হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এক সময় একেকটি হাউজে দৈনিক যেখানে প্রায় কোটি টাকা লেনদেন হতো, সেখানে এখন দৈনিক কয়েক লাখ টাকাও লেনদেন হয় না। বিনিয়োগকারীর পদচারণায় যে হাউজগুলো দিনভর মেতে থাকতো, সেখানে এখন সারাদিনে একজন বিনিয়োগকারীও যান না। চেয়ারগুলোও ফাঁকা পড়ে থাকে। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীই এখন সেগুলো মাতিয়ে রাখেন। সম্প্রতি শেয়ারবাজারের টানা দরপতনের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেকের পুঁজি আবার নেমেছে অর্ধেকে। তাই কেউই শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ এখন শেয়ার বিক্রি করেন না। বাজার কোন পথে যায় সে ভয়ে কেনেনও না।

তিনি বলেন, আমার কিছু শেয়ার কেনা ছিল ৫০-৫১ টাকা করে। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার কারণে সেগুলো নেমে যায় ৩৭-৩৮ টাকায়। এখন আবার ফ্লোর দেওয়া হয়েছে। দেশে এখন সব কিছুরই দাম বাড়ছে। চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে। শুধু কমছে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। অথচ আমরা এখান থেকেই ট্যাক্স দিচ্ছি। এ টাকা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহপরিবারে ওমরাহ হজ্বে গেলেন চুনারুঘাটের ব্রাদার্স ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী জহির আহমেদ

হবিগঞ্জে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে চরম দুর্দিন যাচ্ছে

আপডেট সময় ০২:৪৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

বাজারের ক্রমবর্ধমান পতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারাচ্ছেন। হবিগঞ্জে চরম দুর্দিন যাচ্ছে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর। যারা লেনদেন করেছেন তারাও লোকসানে পড়ে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছেন। ব্রোকারেজ হাউজে যাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন। অনেক বিনিয়োগকারীর পুঁজি এখন অর্ধেকে নেমে গেছে। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকেও লোকসান টানতে হচ্ছে। এতে হবিগঞ্জে অবস্থিত ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শাখা টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরেজমিন জানা যায়, জেলা শহরে বর্তমানে তিনটি ব্রোকারেজ হাউজ চলমান। একটি অনেক আগেই তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। চালুর অপেক্ষায় আরও একটি। চলমান ব্রোকারেজ হাউজগুলো হচ্ছে উইফাং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও ফার্স্ট ক্যাপিটেল সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এর মধ্যে প্রথম দুটি ব্যবসা করছে প্রায় ১৫ বছর ধরে। আর ফার্স্ট ক্যাপিটেল ব্যবসা শুরু করে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে।

ক্রয়-বিক্রয় না হওয়ার কারণে ব্রোকারেজ হাউজগুলো রীতিমতো খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছে। বাজারের এমন অবস্থার জন্য বিনিয়োগকারীরা দায়ী করছেন ফ্লোর প্রাইসকে। তারা বলছেন, ফ্লোর প্রাইস দিয়েছে। পরে আবার তা তুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে শেয়ারের দাম টানা পতন হয়। যখন টাকা অর্ধেক হয়ে গেছে তখন আবারও ফ্লোর প্রাইস দেওয়া হয়েছে। এটি ঠিক হয়নি।

ফ্লোর প্রাইস যদি দিতে হয় তবে যেখানে ছিল সেখানেই ফ্লোর প্রাইস দিলে হয়তো কিছু টাকা থাকতো। এখন তো রীতিমতো পুঁজিই শেষ হয়ে গেছে। এটি করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী মাহবুবুল আলম চৌধুরী শিবলী জানান, তার পুঁজি ছিল ৫-৬ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমানে আছে ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার কারণে এটি হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এক সময় একেকটি হাউজে দৈনিক যেখানে প্রায় কোটি টাকা লেনদেন হতো, সেখানে এখন দৈনিক কয়েক লাখ টাকাও লেনদেন হয় না। বিনিয়োগকারীর পদচারণায় যে হাউজগুলো দিনভর মেতে থাকতো, সেখানে এখন সারাদিনে একজন বিনিয়োগকারীও যান না। চেয়ারগুলোও ফাঁকা পড়ে থাকে। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীই এখন সেগুলো মাতিয়ে রাখেন। সম্প্রতি শেয়ারবাজারের টানা দরপতনের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেকের পুঁজি আবার নেমেছে অর্ধেকে। তাই কেউই শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ এখন শেয়ার বিক্রি করেন না। বাজার কোন পথে যায় সে ভয়ে কেনেনও না।

তিনি বলেন, আমার কিছু শেয়ার কেনা ছিল ৫০-৫১ টাকা করে। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার কারণে সেগুলো নেমে যায় ৩৭-৩৮ টাকায়। এখন আবার ফ্লোর দেওয়া হয়েছে। দেশে এখন সব কিছুরই দাম বাড়ছে। চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে। শুধু কমছে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। অথচ আমরা এখান থেকেই ট্যাক্স দিচ্ছি। এ টাকা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে