স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে মোস্তাক হোটেল, বিসমিল্লাহ হোটেল এবং মাসুম বিল্লাহ রেস্টুরেন্টসহ কয়েকটি পর্যটকসেবামূলক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত উচ্ছেদ কার্যক্রম বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিএমসি সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল ও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের কাছে মাসোহারা বা চাঁদা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, যদি আমরা মাসোহারা দিতাম, তাহলে আমাদের হোটেলে ভাঙচুর হতো না। ভাঙচুরের আগে কোনো ধরনের নোটিশও দেওয়া হয়নি। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, সিএমসি কমিটির মেয়াদ গত মে মাসেই শেষ হয়েছে। এরপরও কীভাবে সভাপতি আবুল নিজে ভাঙচুর অভিযানে অংশ নিলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আমার হোটেল পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু শফিকুল ইসলাম আবুল স্বপ্রণোদিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজের হাতে আমার হোটেলের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
এদিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) নির্ধারিত মেয়াদ গত মে মাসে শেষ হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি কী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমসি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, আমি নিজ হাতে উচ্ছেদে অংশ নেইনি। নিয়ম অমান্য করে হোটেল পরিচালনা করায় বন বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে।
উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমরা আংশিক ভাঙচুর করেছি। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মহোদয়ের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভাঙচুর অভিযান বন্ধ করা হয়।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কয়েকদিন পর পর ভাংচুরের নামে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
চুনারুঘাট প্রতিনিধি : 



















