হবিগঞ্জ ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল আহবার আজাদ ইমাদ Logo চুনারুঘাটে একদিনে তিনজনের মৃত্যু: ফাঁস, বিষপান ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণহানি Logo বানিয়াচংয়ে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ড্রোনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ Logo ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল মাধবপুরের হরষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থী Logo চুনারুঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৯৫ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, আটক ২ Logo বৃটেনের কার্ডিফে উন্মোচিত হলো ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার ও ‘ডিভলিউশনের জনক’ রডরি মর্গানের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য Logo চুনারুঘাটে প্রাথমিক বৃত্তিতে উজ্জ্বল সাফল্য, বৃত্তি পেল ১২১ শিক্ষার্থী Logo চুনারুঘাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল পূর্বাশা দেবনাথ Logo চুনারুঘাটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল প্রত্যয় রায় Logo কার্ডিফে উন্মোচিত হলো ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার রডরি মর্গানের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য

বৃটেনের কার্ডিফে উন্মোচিত হলো ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার ও ‘ডিভলিউশনের জনক’ রডরি মর্গানের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য

বৃটেনের রাজনীতিতে ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার, রাইট অনারেবল রডরি মর্গান শুধু একটি নাম নন; তিনি আমৃত্যু ওয়েলসের মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠা ও নিরলসভাবে কাজ করে ‘ওয়েলশ ডিভলিউশনের জনক’ হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

তাঁর জীবন ও অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের কার্ডিফ বে-তে সেনেড (ওয়েলস পার্লামেন্ট) ভবন ও ঐতিহাসিক পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের মধ্যবর্তী স্থানে তাঁর একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যটি এখন থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং এটি ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

গত ১১ জুলাই দুপুর ১২টায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাবেক মন্ত্রী জেইন এলিজাবেথ হাট। এতে রাজনীতিবিদ, রডরি মর্গানের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়েলসের ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস, সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড, ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স, রডরি মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান, সেনেড সদস্য হিউ থমাস, লেবার এমএস শাভান সাজদা, ফার্স্ট মিনিস্টার ইরাঙ্কা-ডেভিস, কার্ডিফের লর্ড মেয়র রাইট অনারেবল মাইকেল মাইকেল এবং রডরি মর্গান ট্রাস্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর ও কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহমিনা খান, ‘রূপসী ওয়েলসের কোলে ছোট এক বাংলাদেশ’ গ্রন্থের লেখক ও সাংবাদিক দেওয়াল ফয়সাল, সৈয়দ জুয়েল রহমান, ভিপি সেলিম আহমেদ, আবুল কালাম মুমিনসহ আরও অনেকে।

পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যে রডরি মর্গানকে তাঁর প্রিয় কুকুর ‘টেল’-এর সঙ্গে সেনেড ভবনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। সাধারণ পোশাকে, মাটির কাছাকাছি স্থাপিত এই ভাস্কর্য তাঁর জনঘনিষ্ঠ ও আড়ম্বরহীন রাজনৈতিক জীবনেরই প্রতিফলন।

রডরি মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান বলেন, “মূর্তিটি কোনো উঁচু বেদিতে নয়, বরং মাটির সমতলে স্থাপন করা হয়েছে, কারণ তিনি ছিলেন মানুষের খুব কাছের একজন মানুষ।”

সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড বলেন, “এটি ডিভলিউশনের জনকের একটি স্থায়ী স্মারক। রডরি মর্গান না থাকলে সেনেড আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না।”

ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস বলেন, রডরি মর্গান ওয়েলশ ডিভলিউশনের শুরুর দিকের অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং টানা নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন।

ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স বলেন, “এটি ওয়েলস এবং মর্গান পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি দিন।”

লেবার এমএস শাভান সাজদা রডরি মর্গানকে “শ্রমজীবী মানুষ ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রকৃত বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফার্স্ট মিনিস্টার ইরাঙ্কা-ডেভিস বলেন, “যারা কখনো রডরির সঙ্গে দেখা করেননি, তারাও তাঁকে যেন একজন বন্ধুর মতো অনুভব করতেন।”

রডরি মর্গান ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী বলেন, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এই ভাস্কর্য নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “ছোট ছোট অনুষ্ঠান, নৈশভোজ এবং সারা ওয়েলস থেকে সংগৃহীত অনুদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।”

দীর্ঘ আট বছরের পরিকল্পনা ও তহবিল সংগ্রহের পর এই ভাস্কর্য নির্মিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও ওয়েলস বাংলা নিউজের সম্পাদক মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, “রডরি মর্গানের সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির ছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ এবং আন্তরিকতা তাঁকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তিনি আমৃত্যু ওয়েলসের মানুষের জন্য নিষ্ঠা ও নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।”

ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহমিনা খান বলেন, “রডরি মর্গান সবার সঙ্গে সমান আচরণ করতেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই মানুষের মানুষ। তাঁর এই ভাস্কর্য কার্ডিফ বে-এর সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করবে।”

লেখক ও সাংবাদিক দেওয়াল ফয়সাল বলেন, “মানুষ রডরি মর্গানকে তাঁর স্বতন্ত্র চুলের ধরন ও কণ্ঠস্বর দেখেই চিনত। মানুষ রাস্তা পার হয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আসত—এ যেন এক প্রাণের বন্ধন।”

রডরি মর্গানের এই ভাস্কর্যের নকশা করেছেন খ্যাতিমান ভাস্কর অ্যান্ডি এডওয়ার্ডস। তিনি ইতোমধ্যে ৫০টিরও বেশি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে লিভারপুল ওয়াটারফ্রন্টে দ্য বিটলস ব্যান্ডের চার সদস্যের ভাস্কর্য, মোটরহেড ব্যান্ডের লেমির ভাস্কর্য এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ১৯১৪ সালের ‘ক্রিসমাস ট্রুস’ উপলক্ষে ফুটবল ম্যাচের স্মারক ভাস্কর্য। বর্তমান ভাস্কর্যটি পাউইসের লানরহায়াডর-ইম-মখনান্টে অবস্থিত ক্যাসল ফাইন আর্টস ফাউন্ড্রিতে নির্মিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, রডরি মর্গান ১৯৮৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালে তিনি নবগঠিত ওয়েলস অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে ওয়েলসের জন্য স্বতন্ত্র নীতি ও পরিচয় প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি ‘ক্লিয়ার রেড ওয়াটার’ নীতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত, যা ওয়েলসকে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশ থেকে পৃথক নীতিগত অবস্থান গ্রহণে উৎসাহিত করেছিল। ১৯৯৯ সালে ডিভলিউশনের পক্ষে গণভোটের পর নবগঠিত সেনেডকে স্থিতিশীল করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণকারী রডরি মর্গান ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০১১ সালের অক্টোবরে তিনি সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন, এই ভাস্কর্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রডরি মর্গানের অসামান্য অবদান স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে এটি ব্রিটিশ রাজনীতিতে জাতিগত সংখ্যালঘু ও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণেও উৎসাহ জোগাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল আহবার আজাদ ইমাদ

বৃটেনের কার্ডিফে উন্মোচিত হলো ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার ও ‘ডিভলিউশনের জনক’ রডরি মর্গানের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য

আপডেট সময় ১২:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বৃটেনের রাজনীতিতে ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার, রাইট অনারেবল রডরি মর্গান শুধু একটি নাম নন; তিনি আমৃত্যু ওয়েলসের মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠা ও নিরলসভাবে কাজ করে ‘ওয়েলশ ডিভলিউশনের জনক’ হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

তাঁর জীবন ও অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের কার্ডিফ বে-তে সেনেড (ওয়েলস পার্লামেন্ট) ভবন ও ঐতিহাসিক পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের মধ্যবর্তী স্থানে তাঁর একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যটি এখন থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং এটি ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

গত ১১ জুলাই দুপুর ১২টায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাবেক মন্ত্রী জেইন এলিজাবেথ হাট। এতে রাজনীতিবিদ, রডরি মর্গানের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়েলসের ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস, সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড, ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স, রডরি মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান, সেনেড সদস্য হিউ থমাস, লেবার এমএস শাভান সাজদা, ফার্স্ট মিনিস্টার ইরাঙ্কা-ডেভিস, কার্ডিফের লর্ড মেয়র রাইট অনারেবল মাইকেল মাইকেল এবং রডরি মর্গান ট্রাস্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর ও কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহমিনা খান, ‘রূপসী ওয়েলসের কোলে ছোট এক বাংলাদেশ’ গ্রন্থের লেখক ও সাংবাদিক দেওয়াল ফয়সাল, সৈয়দ জুয়েল রহমান, ভিপি সেলিম আহমেদ, আবুল কালাম মুমিনসহ আরও অনেকে।

পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যে রডরি মর্গানকে তাঁর প্রিয় কুকুর ‘টেল’-এর সঙ্গে সেনেড ভবনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। সাধারণ পোশাকে, মাটির কাছাকাছি স্থাপিত এই ভাস্কর্য তাঁর জনঘনিষ্ঠ ও আড়ম্বরহীন রাজনৈতিক জীবনেরই প্রতিফলন।

রডরি মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান বলেন, “মূর্তিটি কোনো উঁচু বেদিতে নয়, বরং মাটির সমতলে স্থাপন করা হয়েছে, কারণ তিনি ছিলেন মানুষের খুব কাছের একজন মানুষ।”

সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড বলেন, “এটি ডিভলিউশনের জনকের একটি স্থায়ী স্মারক। রডরি মর্গান না থাকলে সেনেড আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না।”

ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস বলেন, রডরি মর্গান ওয়েলশ ডিভলিউশনের শুরুর দিকের অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং টানা নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন।

ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স বলেন, “এটি ওয়েলস এবং মর্গান পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি দিন।”

লেবার এমএস শাভান সাজদা রডরি মর্গানকে “শ্রমজীবী মানুষ ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রকৃত বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফার্স্ট মিনিস্টার ইরাঙ্কা-ডেভিস বলেন, “যারা কখনো রডরির সঙ্গে দেখা করেননি, তারাও তাঁকে যেন একজন বন্ধুর মতো অনুভব করতেন।”

রডরি মর্গান ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী বলেন, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এই ভাস্কর্য নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “ছোট ছোট অনুষ্ঠান, নৈশভোজ এবং সারা ওয়েলস থেকে সংগৃহীত অনুদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।”

দীর্ঘ আট বছরের পরিকল্পনা ও তহবিল সংগ্রহের পর এই ভাস্কর্য নির্মিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও ওয়েলস বাংলা নিউজের সম্পাদক মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, “রডরি মর্গানের সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির ছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ এবং আন্তরিকতা তাঁকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তিনি আমৃত্যু ওয়েলসের মানুষের জন্য নিষ্ঠা ও নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।”

ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহমিনা খান বলেন, “রডরি মর্গান সবার সঙ্গে সমান আচরণ করতেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই মানুষের মানুষ। তাঁর এই ভাস্কর্য কার্ডিফ বে-এর সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করবে।”

লেখক ও সাংবাদিক দেওয়াল ফয়সাল বলেন, “মানুষ রডরি মর্গানকে তাঁর স্বতন্ত্র চুলের ধরন ও কণ্ঠস্বর দেখেই চিনত। মানুষ রাস্তা পার হয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আসত—এ যেন এক প্রাণের বন্ধন।”

রডরি মর্গানের এই ভাস্কর্যের নকশা করেছেন খ্যাতিমান ভাস্কর অ্যান্ডি এডওয়ার্ডস। তিনি ইতোমধ্যে ৫০টিরও বেশি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে লিভারপুল ওয়াটারফ্রন্টে দ্য বিটলস ব্যান্ডের চার সদস্যের ভাস্কর্য, মোটরহেড ব্যান্ডের লেমির ভাস্কর্য এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ১৯১৪ সালের ‘ক্রিসমাস ট্রুস’ উপলক্ষে ফুটবল ম্যাচের স্মারক ভাস্কর্য। বর্তমান ভাস্কর্যটি পাউইসের লানরহায়াডর-ইম-মখনান্টে অবস্থিত ক্যাসল ফাইন আর্টস ফাউন্ড্রিতে নির্মিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, রডরি মর্গান ১৯৮৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালে তিনি নবগঠিত ওয়েলস অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে ওয়েলসের জন্য স্বতন্ত্র নীতি ও পরিচয় প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি ‘ক্লিয়ার রেড ওয়াটার’ নীতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত, যা ওয়েলসকে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশ থেকে পৃথক নীতিগত অবস্থান গ্রহণে উৎসাহিত করেছিল। ১৯৯৯ সালে ডিভলিউশনের পক্ষে গণভোটের পর নবগঠিত সেনেডকে স্থিতিশীল করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণকারী রডরি মর্গান ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০১১ সালের অক্টোবরে তিনি সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন, এই ভাস্কর্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রডরি মর্গানের অসামান্য অবদান স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে এটি ব্রিটিশ রাজনীতিতে জাতিগত সংখ্যালঘু ও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণেও উৎসাহ জোগাবে।