হবিগঞ্জ ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে বজ্রপাতে মামা নিহত, ভাগনে আহত Logo ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়ে চুনারুঘাট পৌরসভার অভিযান অব্যাহত Logo চুনারুঘাটের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস Logo চুনারুঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানে বালুভর্তি ২ ইজিবাইক জব্দ Logo দক্ষিণাচরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন মসজিদ নির্মাণে ২০১০ ব্যাচের ৪৫ হাজার টাকা অনুদান Logo চুনারুঘাটের আহম্মদাবাদ ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও ভিডিও প্রদর্শনী Logo শানখলা ইউনিয়নে উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম Logo চুনারুঘাটে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার Logo ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চুনারুঘাটে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু Logo চুনারুঘাটে প্রশাসনের জব্দকৃত সিলিকা বালু পাচারের চেষ্টা, ট্রাকচালকের ২ মাসের কারাদণ্ড

চুনারুঘাটে সড়কের উপর ধান-খড় শুকানোর মহোৎসব দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে চালক ও পথচারী

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সতং সড়কে ধান মাড়াই, খড় শুকানো এবং ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখার কারণে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশ দখল করে কৃষকদের এই কার্যক্রমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সতং সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মাঝখানেই বসানো হয়েছে মাড়াই কল। কোথাও ধান শুকানোর জন্য রাস্তার উপর বিছিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও বড় বড় ধানের বস্তা ও খড়ের স্তূপ জমা করা হয়েছে। ফলে সরু এই সড়কে দুটি যানবাহনের একসাথে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক সময় এক পাশের গাড়িকে থেমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় পথচারী ও চালকদের অভিযোগ, রোদে ধুলোবালি ও খড়ের উড়াউড়িতে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। আর সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির পানিতে খড় ও ধানের কুঁড়া পচে সড়কে পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি হয়। এতে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে।

একজন ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক বলেন, “রাস্তা এতটাই পিচ্ছিল হয়ে যায় যে, সামান্য ব্রেক করলেই বাইক স্কিড করে পড়ে যেতে হয়। খড় বিছিয়ে রাখায় ঠিকমতো গাড়ি চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। মনে হয় সবাই রাস্তাকেই নিজেদের উঠান বানিয়ে ফেলেছে।”

এদিকে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের হাঁটাচলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, অনেক কৃষকের নিজস্ব জায়গা থাকা সত্ত্বেও অবহেলা বা সুবিধার জন্য তারা সড়ক ব্যবহার করছেন। অথচ সরকারি সড়কে এভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সতং সড়কের এই নাজুক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে বজ্রপাতে মামা নিহত, ভাগনে আহত

চুনারুঘাটে সড়কের উপর ধান-খড় শুকানোর মহোৎসব দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে চালক ও পথচারী

আপডেট সময় ০৭:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সতং সড়কে ধান মাড়াই, খড় শুকানো এবং ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখার কারণে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশ দখল করে কৃষকদের এই কার্যক্রমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সতং সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মাঝখানেই বসানো হয়েছে মাড়াই কল। কোথাও ধান শুকানোর জন্য রাস্তার উপর বিছিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও বড় বড় ধানের বস্তা ও খড়ের স্তূপ জমা করা হয়েছে। ফলে সরু এই সড়কে দুটি যানবাহনের একসাথে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক সময় এক পাশের গাড়িকে থেমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় পথচারী ও চালকদের অভিযোগ, রোদে ধুলোবালি ও খড়ের উড়াউড়িতে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। আর সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির পানিতে খড় ও ধানের কুঁড়া পচে সড়কে পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি হয়। এতে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে।

একজন ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক বলেন, “রাস্তা এতটাই পিচ্ছিল হয়ে যায় যে, সামান্য ব্রেক করলেই বাইক স্কিড করে পড়ে যেতে হয়। খড় বিছিয়ে রাখায় ঠিকমতো গাড়ি চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। মনে হয় সবাই রাস্তাকেই নিজেদের উঠান বানিয়ে ফেলেছে।”

এদিকে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের হাঁটাচলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, অনেক কৃষকের নিজস্ব জায়গা থাকা সত্ত্বেও অবহেলা বা সুবিধার জন্য তারা সড়ক ব্যবহার করছেন। অথচ সরকারি সড়কে এভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সতং সড়কের এই নাজুক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।