বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী শুভ্র দেবের কানাডার কেলগেরী আগমন উপলক্ষে ৩০ শে নভেম্বর রবিবার শহরের স্বনামধন্য স্পাইস এভিনিউ রেস্টুরেন্টে সিলেট এসোসিয়েশনের আয়োজনে এক সম্মাননা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে, স্পাইস এভিনিউ কর্তৃপক্ষের অন্যতম পরিচালক সুমন ও তার টিম ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে শিল্পী শুভ্রদেবকে স্বাগত জানান।
রূপক দত্তের সভাপতিত্বে ও এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসানের সঞ্চালনায় এই গুণী শিল্পী কে একুশে পদক প্রাপ্তি উপলক্ষে এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া তুলে দেয়া হয়। এ উপলক্ষে কেলগেরী শহরে বসবাসরত সিলেট অঞ্চলের গুণীজনদের পদচারণায় রেস্টুরেন্টের হলরুমটি মুখরিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সুধীজনের বক্তব্যে বাংলাদেশী সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি শুভ্রদেবের অনুরাগ ও অপরিসীম ভালোবাসার প্রতি ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বৈরী প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে, প্রিয় শিল্পীর সান্নিধ্য লাভের জন্য যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রিয় দেশ ও মাটির সন্তান শিল্পী শুভ্র দেবের মিট এন্ড গ্রিটের আয়োজনে স্পাইস এভিনিউ কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এসোসিয়েশন অফ প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স জিও সাইন্টিস্ট অফ আলবার্টার প্রাক্তন চেয়ারপারসন ও সিলেট এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা পৃষ্ঠপোষক বিশিষ্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির, বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সদ্য সাবেক সভাপতি কয়েস চৌধুরী, বর্তমান বিসিএওসি সভাপতি ইকবাল রহমান, সাধারণ সম্পাদক আসিফ হোসেইন, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আকরাম জুম্মা ফাউন্ডেশনে পরিচালক ও বোর্ডের সহ-সভাপতি জুবায়ের সিদ্দিকী সহ অনেক গুণীজন বক্তব্য রাখেন।
প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির বলেন, শুভ্রদেব বৃহত্তর সিলেট তথা বাংলাদেশের গর্ব। একুশে পদক প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে তিনি শুধু সিলেট নন বাংলাদেশ ও বাঙালি সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। কয়েস চৌধুরী বলেন, যে শিল্পীর গানকে গুন গুন করে গেয়ে আমরা আমাদের হৃদয় মনকে পুলকিত করি, সেই শিল্পীর সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারা আনন্দের ও গর্বের। জুবায়ের সিদ্দিকী তার আবেগঘন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে, বিসিএওসির আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও সিলেটিদের ডাকে ছুটে আসার জন্য শিল্পী শুভ্র দেবের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সিলেটিদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখে আনন্দে বিমোহিত হন।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল রহমান বলেন, সিলেট এসোসিয়েশনের সাথে আমাদের বন্ধন আত্মিক, সম্প্রীতি ও মর্যাদার। শুভ্র দেবের সম্মাননা আয়োজনের জনের জন্য তিনি সকল সংগঠকদের প্রতি ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানান।
বিসিএওসির সাধারণ সম্পাদক আসিফ হোসেইন বলেন, শিল্পী শুভ্র দেব বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার এক অকৃত্রিম বন্ধু। সিলেট তথা বাংলাদেশ ও বাঙালি সংস্কৃতির গৌরব।
শিল্পী শুভ্র দেব শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে আনন্দ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতি আমাদের গৌরব। সম্প্রীতির বন্ধনে সিলেট এসোসিয়েশনের কার্যক্রমের কথা জেনে, তিনি বিমোহিত হন। কিভাবে তিনি শিল্পী হয়ে উঠেছেন, সিলেটের মাটি ও মানুষ তাঁর পথ পরিক্রমায় কিভাবে সহযোগিতা করেছেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে তিনি তা স্মরণ করেন। আপনজনদের কাছে পেয়ে, গলাগলি আর কোলাকুলিতে তিনি যেন ব্যস্ত সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তগুলো উপভোগ করছিলেন।
স্পাইস এভিনিউ কর্তৃপক্ষের কর্ণধার সুমন, নিজে সিলেটি হয়ে একুশে পদক জয়ী গুণী শিল্পী সিলেটের কৃতি সন্তান শুভ্র দেবের সম্মাননা সভার আয়োজনে ভূমিকা রাখতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কনক চৌধুরী তাঁর অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, যে সমাজ গুণীজনের কদর করে না, সে সমাজে গুণীজনের জন্ম হয় না। তিনি বিসিএওসি ও সিলেট এসোসিয়েশনের প্রতি শুভ্র দেবের সম্মাননা সবার আয়োজনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
রূপক দত্ত তাঁর সমাপনী বক্তব্যে অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেন, শুভ্রদেব আমাদের তথা বাংলাদেশের গৌরব। প্রকৃতির প্রতিকূলতা আর প্রিয় শিল্পীর ব্যস্ততা সত্ত্বেও আয়োজনটিকে সফল ও সাফল্যমন্ডিত করার জন্য সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সব শেষে সকলের প্রিয় এই গুণী শিল্পীর হাতে এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ সকলে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
ডেস্ক রিপোর্ট: 









