হবিগঞ্জ ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মিরাশী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল মনাফ মিয়া Logo জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ইউএনও মেহেদী হাসানের Logo মাদক-অপরাধ দমনে চুনারুঘাটে পুলিশের নজরদারি বাড়ছে Logo ‘অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর’ উদযাপনে হবিগঞ্জে র‍্যালি ও গ্রাহক সম্মেলন Logo চুনারুঘাট থানায় ১২ দিনে প্রত্যাহার ৪ পুলিশ সদস্য Logo তরুণ আলোকচিত্রী মারুফের ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’, প্রকৃতির সৌন্দর্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি Logo লন্ডনে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের জাতীয় সম্মেলন সফল করার আহ্বান Logo চুনারুঘাটে ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, এএসআই অতনু প্রত্যাহার Logo চুনারুঘাটে হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ, তদন্ত কমিটি গঠন Logo চুনারুঘাটে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ: হাসপাতাল পরিদর্শনে জামায়াত নেতারা

ঢাকায় মামলা, মাধবপুরে গ্রামের বাড়িতে হামলার অভিযোগ

রাজধানী ঢাকায় দায়ের করা একটি হামলার মামলাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আন্দিউড়া গ্রামে দিল্লর আলীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত করা, পাথর নিক্ষেপ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় দায়ের করা মামলার আসামি ও তাঁদের স্বজনরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং গ্রামের বাড়িতে হামলার পাঁয়তারা করছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অপপ্রচারমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা সফর চাঁন (৫৭) ও তাঁর পুত্রবধূ সৈয়দা ফিজি সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পরিবারের দাবি, ঢাকায় দায়ের করা মামলার আসামি সজিবুর, শেখ সোহেল, হাসিম, হৃদয়, আজমান, কামরুল, রিমন, জামাল ও রুমনসহ কয়েকজন তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাঁদের হয়রানি করতে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে এবং বাড়িতে হামলারও পাঁয়তারা চলছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল মিয়া। তিনি বলেন, “আমরা নির্দোষ। কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। আমরা সবকিছু সমাধান করতে প্রস্তুত।”

জানা গেছে, নিরাপত্তা চেয়ে গত ২২ জুলাই মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সফর চাঁন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। চার ছেলে চাকরি ও ব্যবসার কারণে ঢাকায় বসবাস করেন। তাঁর তৃতীয় ছেলে মুত্তাকিন মিয়া সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় তাঁর ডান হাতের চারটি আঙুল ভেঙে যায় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মুত্তাকিন মিয়া বাদী হয়ে গত ১৭ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পরে পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সফর চাঁনের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষের স্বজনেরা তাঁদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই সকাল ও সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি পশ্চিম আন্দিউড়ায় তাঁর বাড়ির সামনে এসে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে বসতবাড়ি ভাঙচুরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিডিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। এসব হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং আইনগত সুরক্ষা পেতে থানায় জিডি করেন তিনি।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, “ঘটনাটির ওপর আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা থাকলে সেটি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।”

ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

মিরাশী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল মনাফ মিয়া

ঢাকায় মামলা, মাধবপুরে গ্রামের বাড়িতে হামলার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় দায়ের করা একটি হামলার মামলাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আন্দিউড়া গ্রামে দিল্লর আলীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত করা, পাথর নিক্ষেপ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় দায়ের করা মামলার আসামি ও তাঁদের স্বজনরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং গ্রামের বাড়িতে হামলার পাঁয়তারা করছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অপপ্রচারমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা সফর চাঁন (৫৭) ও তাঁর পুত্রবধূ সৈয়দা ফিজি সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পরিবারের দাবি, ঢাকায় দায়ের করা মামলার আসামি সজিবুর, শেখ সোহেল, হাসিম, হৃদয়, আজমান, কামরুল, রিমন, জামাল ও রুমনসহ কয়েকজন তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাঁদের হয়রানি করতে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে এবং বাড়িতে হামলারও পাঁয়তারা চলছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল মিয়া। তিনি বলেন, “আমরা নির্দোষ। কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। আমরা সবকিছু সমাধান করতে প্রস্তুত।”

জানা গেছে, নিরাপত্তা চেয়ে গত ২২ জুলাই মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সফর চাঁন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। চার ছেলে চাকরি ও ব্যবসার কারণে ঢাকায় বসবাস করেন। তাঁর তৃতীয় ছেলে মুত্তাকিন মিয়া সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় তাঁর ডান হাতের চারটি আঙুল ভেঙে যায় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মুত্তাকিন মিয়া বাদী হয়ে গত ১৭ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পরে পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সফর চাঁনের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষের স্বজনেরা তাঁদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই সকাল ও সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি পশ্চিম আন্দিউড়ায় তাঁর বাড়ির সামনে এসে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে বসতবাড়ি ভাঙচুরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিডিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। এসব হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং আইনগত সুরক্ষা পেতে থানায় জিডি করেন তিনি।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, “ঘটনাটির ওপর আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা থাকলে সেটি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।”

ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।