হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত টহল, আসামি গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী অভিযান ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বাজার, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গত ৩ আগস্ট চুনারুঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এর আগে তিনি বাহুবল মডেল থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত আসামি, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সেপ্টেম্বর মাসেও পৃথক অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন ওসি সাইফুল ইসলাম।
সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর রাতে উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের বদরগাজী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ অভিযানেও ওসি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দিনের পাশাপাশি রাতেও পুলিশের টহল বাড়ানোয় গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়েছে। বাজার, মহাসড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত নজরদারি থাকলে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায়ও ওসি সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সচেতন মহলের মতে, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা এড়িয়ে যেকোনো অপতৎপরতার বিষয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও নজরদারি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি চুনারুঘাট থানার এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। বিষয়টি ওসি সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করে অভিযোগটি তদন্তের কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, থানার প্রধান কর্মকর্তা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে থাকলে এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শুনলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। চুনারুঘাটেও পুলিশের সাম্প্রতিক তৎপরতায় এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ধরে রাখতে শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার নয়; সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত যোগাযোগ, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।
চুনারুঘাটবাসীর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের চলমান তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা পাবেন।
চুনারুঘাট প্রতিনিধি : 












