হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন তানজিলা আক্তার (২০) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মোজাম্মেল হোসেন এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে তানজিলা আক্তার চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তরিকুল আলম তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
পরে রোগীর স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার জন্য তাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নার্সদের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তানজিলা মারা যান।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দ্বিতীয় তলায় নার্সদের কাছে নেওয়ার পর সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি। এ কারণে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সেবা দেওয়া হয়েছিল। অক্সিজেন দেওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কোনো ত্রুটি ছিল না বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান।
তিনি আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার আগ পর্যন্ত রোগীর স্বজনরা তাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নার্সদের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। অক্সিজেন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই রোগীর মৃত্যু হয়।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা চিকিৎসাসেবায় ত্রুটি পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক) ডাঃ হায়দার আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, মেডিকেল অফিসার ডাঃ রামিসা তাসনীম ও ডাঃ মোঃ সালাউদ্দিন। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।
মোহাম্মদ সুমন, চুনারুঘাট : 









